পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

ভোগান্তির অবসান: সরকারি পেনশনে আসছে ডিজিটাল রূপান্তর, চালু হচ্ছে ‘ওপিটিএমএস’

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর পেনশন পেতে দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং দপ্তর থেকে দপ্তরে ফাইল ঘোরার দুর্ভোগ এবার অনেকটাই কমতে যাচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার চালু করতে যাচ্ছে ‘অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (OPTMS)’ নামে একটি আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে পেনশন আবেদন থেকে অর্থ ছাড় পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। ফলে আবেদনকারীরা ঘরে বসেই তাদের পেনশন ফাইলের বর্তমান অবস্থা জানতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।

লাইভ ট্র্যাকিংয়ের সুবিধা

ওপিটিএমএস চালু হলে পেনশন আবেদনকারী অনলাইনের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে জানতে পারবেন তার আবেদনটি বর্তমানে কোন দপ্তরে রয়েছে, কোন কর্মকর্তার কাছে ফাইলটি আছে এবং কোন ধাপে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এতে আবেদনকারীদের বারবার অফিসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের লাইভ ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং অযথা ফাইল আটকে থাকার প্রবণতাও কমাবে।

অবসরের ১১ মাস আগেই এসএমএস সতর্কবার্তা

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস অ্যালার্ট। কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অবসরের সম্ভাব্য সময়ের প্রায় ১১ মাস আগে তার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বার্তা পাঠানো হবে।

এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আগেভাগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে পারবেন, ফলে অবসরের পর পেনশন আবেদন জমা দিতে আর বিলম্ব হবে না।

iBAS++ থেকে স্বয়ংক্রিয় তথ্য সংগ্রহ

ওপিটিএমএসকে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম iBAS++-এর সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে। ফলে আবেদনকারীর চাকরি, বেতন, চাকরিকালসহ প্রয়োজনীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা যাবে।

এতে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজন কমবে, তথ্যগত ভুলের সম্ভাবনা হ্রাস পাবে এবং আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

কমবে দুর্নীতি ও হয়রানি

বর্তমানে অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পেনশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একাধিক দপ্তরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবের অভিযোগও রয়েছে।

ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু হলে অধিকাংশ কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে সরাসরি অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং সেবাপ্রাপ্তির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

পরীক্ষামূলকভাবে শুরু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ওপিটিএমএস চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং মাঠপর্যায়ের সরকারি দপ্তরেও এই সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

সরকারের বক্তব্য

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, এই ডিজিটাল উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমানো এবং পেনশন সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু সময়ই সাশ্রয় করবে না, বরং সরকারি সেবায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করবে।

প্রবীণ পেনশনারদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষে পেনশনের অর্থ পেতে অনেক প্রবীণ নাগরিককে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। বয়সজনিত কারণে বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যাতায়াত করাও তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ে।

ওপিটিএমএস পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এসব ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। একই সঙ্গে পেনশন আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সময়মতো তাদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

ডিজিটাল সেবায় নতুন মাইলফলক

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি পেনশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার উদ্যোগ প্রশাসনিক সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু পেনশন ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করবে না, বরং সরকারি সেবায় প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের পথে সরকারের চলমান রূপান্তর প্রক্রিয়ায় অনলাইন পেনশন ট্র্যাকিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (OPTMS) সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার একটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *