২০২৬–২৭ অর্থবছরেও অধিকাংশ করদাতার জন্য e-Return বাধ্যতামূলক বহাল, জারি করল NBR-এর বিশেষ আদেশ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্যও অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (e-Return) দাখিল বাধ্যতামূলক রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা বিশেষ আদেশ নং-১/২০২৬-এ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তি (Individual) করদাতাকে আগের অর্থবছরের মতোই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
তবে বিশেষ কিছু শ্রেণির করদাতাকে এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে নির্দিষ্ট অনুমোদন সাপেক্ষে কাগজে (Paper Return) রিটার্ন দাখিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।
অধিকাংশ করদাতার জন্য e-Return বাধ্যতামূলক
এনবিআরের নতুন বিশেষ আদেশে বলা হয়েছে, ২০২৬–২৭ অর্থবছরেও ব্যক্তি শ্রেণির অধিকাংশ করদাতার জন্য e-Return পদ্ধতিই অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
গত অর্থবছরে যেভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, নতুন অর্থবছরেও সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।
যেসব করদাতার জন্য e-Return বাধ্যতামূলক নয়
বিশেষ আদেশ অনুযায়ী নিম্নোক্ত শ্রেণির করদাতারা বাধ্যতামূলক e-Return থেকে অব্যাহতি পাবেন—
- ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতা।
- শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা (প্রয়োজনীয় সনদপত্র সাপেক্ষে)।
- বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা।
- মৃত করদাতার পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি।
- বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক।
অর্থাৎ, এসব শ্রেণির করদাতারা প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত পদ্ধতিতে কাগজে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
প্রযুক্তিগত সমস্যায় কাগজে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ
বিশেষ আদেশে আরও বলা হয়েছে, e-Return সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা বা কারিগরি সমস্যার কারণে যদি কোনো করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে না পারেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করে আবেদন করতে হবে।
পরবর্তীতে অতিরিক্ত কর কমিশনার বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট করদাতা কাগজে (Paper Return) আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। ফলে প্রযুক্তিগত কারণে কোনো করদাতা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা
বিশ্লেষকদের মতে, e-Return বাধ্যতামূলক রাখার মাধ্যমে এনবিআর কর প্রশাসনকে আরও ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও সময়সাশ্রয়ী করতে চায়। অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের ফলে করদাতারা ঘরে বসেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে পারেন এবং কাগজপত্র সংরক্ষণ ও যাচাই প্রক্রিয়াও সহজ হয়।
একই সঙ্গে বিশেষ পরিস্থিতিতে Paper Return-এর সুযোগ রাখায় প্রবীণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং বিদেশে অবস্থানরত করদাতাদের জন্যও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
নতুন বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরেও অধিকাংশ ব্যক্তি করদাতার জন্য e-Return বাধ্যতামূলক বহাল থাকছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবেন। এছাড়া প্রযুক্তিগত জটিলতার ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কাগজে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে।



