সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর: ১ জুলাই থেকেই মিলছে নতুন অর্থবছরের GPF স্লিপ, অনলাইনেই দেখা ও প্রিন্ট করা যাবে
সরকারি কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (General Provident Fund-GPF) এর হিসাব জানতে এখন আর অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে অনলাইনে পূর্ববর্তী অর্থবছরের জিপিএফ (GPF) স্লিপ বা হিসাব বিবরণী (লেজার) দেখা এবং প্রিন্ট করা সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি অর্থবছর শেষে ৩০ জুন পর্যন্ত জমা, উত্তোলন, সুদ এবং সমাপনী স্থিতির হিসাব iBAS++ সিস্টেমে হালনাগাদ করা হয়। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাৎসরিক জিপিএফ হিসাব বিবরণী প্রস্তুত হয়, যা সরকারি কর্মচারীরা বছরের যেকোনো সময় অনলাইনে সংগ্রহ করতে পারেন।
অনলাইনে যেভাবে GPF স্লিপ সংগ্রহ করবেন
সরকারি কর্মচারীরা কয়েকটি সহজ উপায়ে জিপিএফ হিসাব বিবরণী দেখতে পারবেন।
১. iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে
নিজ নিজ অফিসের ডিডিও (DDO) আইডি বা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসের সহায়তায় iBAS++ সিস্টেম থেকে জিপিএফ স্টেটমেন্ট ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যাবে। এখানে বাৎসরিক জমা, সুদ, উত্তোলন এবং সর্বশেষ ব্যালেন্স বিস্তারিতভাবে দেখা যায়।
২. CAFOPFM-এর GPF Information সেবা
সরকারি কর্মচারীরা CAFOPFM (Chief Accounts and Finance Office for Pension and Fund Management)-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের GPF Information অপশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জিপিএফ ব্যালেন্স এবং হিসাব বিবরণী দেখতে পারবেন।
৩. হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে
যারা অনলাইনে সেবা নিতে সমস্যায় পড়েন, তারা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে জিপিএফ স্লিপ সংগ্রহ করতে পারবেন।
৪. সরকারি অ্যাপ বা অনলাইন সেবা
সরকারি অনুমোদিত মোবাইল অ্যাপ বা সংশ্লিষ্ট হিসাব ব্যবস্থাপনা সেবার মাধ্যমেও জিপিএফ ব্যালেন্স যাচাই ও তথ্য দেখা যায়।
কোনো ফি দিতে হবে না
জিপিএফ স্লিপ সংগ্রহের জন্য সরকারি কোনো ফি নির্ধারিত নেই। অনলাইন বা হিসাবরক্ষণ অফিস—উভয় ক্ষেত্রেই এই সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জিপিএফ স্লিপ বের করে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করে, তবে সেটি সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস বা কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো উচিত।
কেন গুরুত্বপূর্ণ জিপিএফ স্লিপ?
জিপিএফ হিসাব বিবরণীতে একজন সরকারি কর্মচারীর—
- মোট জমার পরিমাণ,
- সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রাপ্ত সুদ,
- বছরের মধ্যে উত্তোলনের তথ্য,
- সমাপনী স্থিতি (Closing Balance)
একসঙ্গে দেখা যায়। ফলে চাকরিজীবীরা সহজেই তাদের ভবিষ্য তহবিলের সঠিক হিসাব যাচাই করতে পারেন এবং প্রয়োজনে ঋণ, অগ্রিম বা অবসরজনিত বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে এই তথ্য ব্যবহার করতে পারেন।
১ জুলাই থেকেই পাওয়া যায় নতুন স্লিপ
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থবছর শেষ হওয়ার পর ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব চূড়ান্ত করে ১ জুলাই থেকেই iBAS++ সিস্টেমে পূর্ববর্তী অর্থবছরের জিপিএফ লেজার বা স্লিপ প্রস্তুত থাকে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের আর জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন হয় না; বছরের যেকোনো সময় অনলাইনে এটি সংগ্রহ করা সম্ভব।
সরকারের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনার ফলে এখন জিপিএফ হিসাব দেখা, ব্যালেন্স যাচাই এবং স্লিপ সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ, দ্রুত এবং স্বচ্ছ হয়েছে।



