আয়কর অডিটের ৩য় তালিকা প্রকাশ : ২০২৩–২৪ করবর্ষে সারা দেশের হাজারো করদাতা নির্বাচিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতায় অর্থবর্ষ ২০২২–২৩, অ্যাসেসমেন্ট বর্ষ (করবর্ষ) ২০২৩–২৪-এর আয়কর অডিটের তৃতীয় তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চল (Tax Zone) ও সার্কেলের আওতাধীন বিপুল সংখ্যক ব্যক্তি করদাতাকে আয়কর অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
প্রকাশিত তালিকাটি ১২৯ পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত নথি। এতে প্রতিটি নির্বাচিত করদাতার টিআইএন (TIN), কর অঞ্চল (Tax Zone), সার্কেল (Circle), সাবমিশন টাইপ (Submission Type) এবং অ্যাসেসমেন্ট বর্ষ (Assessment Year) উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকার প্রতিটি এন্ট্রির অ্যাসেসমেন্ট বর্ষ ২০২৩–২০২৪ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
নথি অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন কর অঞ্চল—যেমন বরিশাল, বগুড়া, চট্টগ্রাম জোন-১, চট্টগ্রাম জোন-২সহ একাধিক কর অঞ্চলের বিভিন্ন সার্কেলের করদাতাদের অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এতে কোম্পানি সার্কেল, স্যালারি (Salaries) সার্কেল এবং সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের সার্কেল—সব ধরনের কর প্রশাসনিক ইউনিট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রকাশিত তালিকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই Submission Type হিসেবে Individual উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্বাচিতদের বড় অংশই ব্যক্তি শ্রেণির করদাতা। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানি সার্কেল ও বেতনভিত্তিক (Salary/Salaries) সার্কেলের আওতাধীন করদাতারাও তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর অডিটের জন্য তালিকাভুক্ত হওয়া মানেই কর ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। এটি কর প্রশাসনের নিয়মিত ঝুঁকিভিত্তিক (Risk-based) যাচাই কার্যক্রমের অংশ। অডিটের মাধ্যমে কর রিটার্নে প্রদত্ত আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হয়। প্রয়োজন হলে করদাতাকে অতিরিক্ত তথ্য, ব্যাংক হিসাব, সম্পদের দলিল, বিনিয়োগের তথ্য, উৎসে কর কর্তনের প্রমাণপত্রসহ বিভিন্ন নথি দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হতে পারে।
যেসব করদাতার টিআইএন এই তালিকায় রয়েছে, তাদের উচিত সংশ্লিষ্ট কর সার্কেলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখা। অডিট সংক্রান্ত নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল করলে অডিট কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
কর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত অডিট কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সঠিক কর নির্ধারণ করা এবং কর আইনের যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করা। সে কারণে তালিকাভুক্ত করদাতাদের আতঙ্কিত না হয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



