৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

১১ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ : ১ জুলাই থেকে পুরো মূল বেতন কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার?

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন (বেসিক পে) কার্যকর হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করে অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, ৯ লাখের বেশি পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

১০০% থেকে ১৩০% পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির আলোচনা

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ থেকে ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় রেখে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে সরকারিভাবে এখনো চূড়ান্ত বেতনহার প্রকাশ করা হয়নি। অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রেডের নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

২০১৫ সালের পর প্রথম নতুন পে-স্কেল

বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর গত এক দশকেরও বেশি সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়, দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও নতুন কোনো জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়নি।

এই দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠন নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে সেই দাবির বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারা পাবেন সুবিধা?

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে সম্ভাব্যভাবে সুবিধাভোগীদের মধ্যে থাকবেন—

  • সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা;
  • বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার কর্মচারীরা;
  • অবসরপ্রাপ্ত সরকারি পেনশনভোগীরা;
  • এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা (সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী);
  • নতুন বেতনকাঠামোর আওতাভুক্ত অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান।

পেনশনেও আসতে পারে পরিবর্তন

মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হলে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী অবসর সুবিধা, গ্র্যাচুইটি এবং মাসিক পেনশন হিসাবেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বর্তমান পেনশনভোগীরাও নতুন কাঠামোর আওতায় আর্থিক সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

তবে এ বিষয়ে সরকারের পৃথক নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পরই বিস্তারিত চিত্র স্পষ্ট হবে।

মূল্যস্ফীতির চাপে স্বস্তির প্রত্যাশা

গত কয়েক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা ব্যয় এবং আবাসন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রকৃত আয় কিছুটা বৃদ্ধি পাবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে নির্দিষ্ট সময় পরপর বেতনকাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারের ব্যয় বাড়লেও অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

যদিও নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি পর্যায়ে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে, তবুও চূড়ান্ত অনুমোদন, সরকারি গেজেট এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই নতুন বেতনকাঠামো, কার্যকারিতা, গ্রেডভিত্তিক বেতনহার এবং অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা—দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ জুলাই থেকেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের মাধ্যমে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *