সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

পিআরএল চলাকালে ব্যবসা বা বিদেশ ভ্রমণে কি সরকারি অনুমতি লাগে? যা বলছে আইন ও বাস্তবতা

সরকারি চাকরি থেকে অবসরোত্তর ছুটি (Post Retirement Leave-PRL) চলাকালে ব্যবসা করা কিংবা ব্যক্তিগত কারণে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সরকারের আলাদা অনুমতি প্রয়োজন কি না—এ প্রশ্নটি প্রায়ই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনায় আসে। বিশেষ করে পিআরএলে যাওয়ার পর অনেকেই জানতে চান, তারা অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারবেন কি না অথবা বিদেশে যেতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে কি না।

সংশ্লিষ্ট আইন, বিধান এবং প্রশাসনিক চর্চা বিশ্লেষণে দেখা যায়, পিআরএল শুরু হওয়ার পর একজন সরকারি কর্মচারী কার্যত অবসরপ্রাপ্ত (Retired) হিসেবে বিবেচিত হন। অর্থাৎ তিনি আর সক্রিয় সরকারি দায়িত্ব পালন করেন না। ফলে চাকরিরত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিদেশ ভ্রমণের অনুমতি বা পেশাগত সীমাবদ্ধতার অনেক বিধান পিআরএলে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হয় না।

বিদেশ যেতে সরকারের অনুমতি প্রয়োজন হয় কি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিআরএল অবস্থায় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণের জন্য সাধারণভাবে সরকারের পৃথক অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিদেশে যাওয়ার সময় পিআরএল মঞ্জুরির সরকারি আদেশ (PRL Order) সঙ্গে রাখা উচিত। কারণ, ইমিগ্রেশন বা প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের সময় এটি অবসরোত্তর অবস্থার সরকারি প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।

অনেক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা পিআরএল চলাকালে একাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন এবং এ জন্য আলাদা সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হয়নি।

ব্যবসা করা যাবে?

পিআরএল অবস্থায় একজন ব্যক্তি যেহেতু কার্যত অবসরপ্রাপ্ত, তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবসা বা অন্য পেশায় যুক্ত হতে পারেন—এমন ব্যাখ্যাই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিকভাবে অনুসৃত হয়ে আসছে। ২০২০ সালে সরকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা, পেশা পরিবর্তন করা বা বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকারি অনুমতির প্রয়োজন নেই বলেও সিদ্ধান্ত দেয়।

তবে যদি কোনো বিশেষ আইন, চুক্তি, গোপনীয়তা বা স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) সম্পর্কিত বিধান প্রযোজ্য হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সেই বিধান অনুসরণ করতে হবে।

পিআরএল কী?

পিআরএল বা Post Retirement Leave হলো অবসরোত্তর ছুটি। চাকরিজীবনের অর্জিত ছুটি সমন্বয়ের মাধ্যমে একজন সরকারি কর্মচারী অবসরের আগে নির্ধারিত সময় পিআরএলে থাকেন। এ সময় তিনি অফিসের দৈনন্দিন দায়িত্ব পালন করেন না, তবে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন।

যা মনে রাখা জরুরি

  • পিআরএল চলাকালে ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের জন্য সাধারণভাবে আলাদা সরকারি অনুমতি প্রয়োজন হয় না।
  • বিদেশে যাওয়ার সময় পিআরএল মঞ্জুরির সরকারি আদেশ সঙ্গে রাখা উচিত।
  • পিআরএল অবস্থায় ব্যক্তি কার্যত অবসরপ্রাপ্ত হিসেবে বিবেচিত হন।
  • ব্যবসা বা অন্য পেশায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে সরকারি অনুমতির বাধ্যবাধকতা নেই; তবে বিশেষ আইনি বিধান বা স্বার্থের সংঘাতের বিষয় থাকলে তা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিআরএল নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি থাকলেও প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক চর্চা অনুযায়ী এটি মূলত অবসরোত্তর সময়। তাই এ সময় ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা বা বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে চাকরিরত কর্মকর্তাদের মতো প্রশাসনিক অনুমতির বাধ্যবাধকতা সাধারণভাবে প্রযোজ্য হয় না। তবে বিদেশ ভ্রমণ বা গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রয়োজনে পিআরএলের সরকারি আদেশ সঙ্গে রাখা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করা সর্বোত্তম।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *