জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনায় নতুন কমিটি, নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে বাড়ছে আলোচনা
সরকার ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়ে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে সবাই চলতি মাসেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের অপেক্ষায় ছিলেন, সেখানে আবার নতুন কমিটি গঠন কি গেজেট প্রকাশে আরও বিলম্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
কী বলা হয়েছে গেজেটে?
গেজেট অনুযায়ী, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাকে সভাপতি করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে স্বরাষ্ট্র, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সদস্য রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সচিবালয় সহায়তা দেবে। কমিটির মূল দায়িত্ব হবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা।
এটি কি নবম জাতীয় পে-স্কেলের জন্য নতুন জটিলতা?
বিশ্লেষকদের মতে, এই গেজেট দেখে সরাসরি বলা যাবে না যে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেল। কারণ এই কমিটির কাজ মূলত জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন। এটি জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের বিকল্প কোনো কমিশন নয়।
তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগীয় বেতন কাঠামো এবং জাতীয় বেতন কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন হলে সরকার একই সময়ে বিভিন্ন সুপারিশ চূড়ান্ত করতে চাইতে পারে। সে ক্ষেত্রে কিছু অতিরিক্ত প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আগে থেকেই চলছিল সুপারিশ পর্যালোচনার প্রক্রিয়া
এর আগে সরকার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫–এর প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্যও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি গঠন করেছিল। অর্থাৎ বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন পর্যায়ে সুপারিশ যাচাই-বাছাই সরকারের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
গেজেট নিয়ে চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ধাপ, ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় চূড়ান্ত করার কাজ এখনও চলমান।
এ কারণে নতুন কমিটি গঠনের খবর প্রকাশের পর অনেকের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য সময় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি যে এই কমিটি গঠনের কারণে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।
যা বোঝা যাচ্ছে
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—
- জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- কমিটির দায়িত্ব সুপারিশ প্রণয়ন; এটি জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের বিকল্প কোনো প্রক্রিয়া নয়।
- সরকারের পক্ষ থেকে এখনও গেজেট প্রকাশ পিছিয়ে যাওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
- ফলে শুধু নতুন কমিটি গঠনের ভিত্তিতে নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্ব হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
- তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।



