৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম পে-স্কেলের গেজেট আজ নয়, সম্ভাব্য তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর

বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের অপেক্ষা যেন শেষ হয়েও শেষ হচ্ছে না। মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পর দ্রুতই গেজেট প্রকাশ হবে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হলেও প্রশাসনিক ও আইনগত কিছু প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় লাগছে। ফলে আজ ৬ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে চলমান কাজ শেষ করতে পারলে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া/রেজল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে এসআরও নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

গেজেট প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়াটি কী?

নবম পে-স্কেলের বর্তমান অবস্থাকে সহজভাবে বোঝার জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে দেখা যায়—

মন্ত্রিসভা অনুমোদন → খসড়া প্রজ্ঞাপন/রেজল্যুশন → বিজি প্রেসের প্রক্রিয়া → অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত → আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং → এসআরও নম্বর → সরকারি গেজেট প্রকাশ।

অর্থাৎ, মন্ত্রিসভা কোনো বেতন কাঠামো অনুমোদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে সেটি গেজেট হয়ে যায় না। অনুমোদনের পরও প্রজ্ঞাপনকে প্রশাসনিক, মুদ্রণ ও আইনগত কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

এ কারণেই মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর দ্রুত গেজেট প্রকাশের প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে কয়েক দিনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

কোথায় আটকে আছে সময়?

সংশ্লিষ্ট সংবাদপ্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, পে-স্কেলের রেজল্যুশন বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে সেটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের বিষয়টি রয়েছে। ভেটিং শেষ হলে এসআরও নম্বর দিয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের পথ তৈরি হবে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছে’ মানেই গেজেট হয়ে গেছে নয়। একইভাবে ‘ভেটিংয়ের জন্য যাবে’ মানেও ভেটিং শেষ হয়েছে এমন নয়। প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো একটি ধাপের খবরকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের খবর হিসেবে প্রচার করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

তাহলে ১০ সেপ্টেম্বরের কথা কেন আসছে?

সাম্প্রতিক একাধিক প্রতিবেদনে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরকে সম্ভাব্য গেজেট প্রকাশের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার গেজেট প্রকাশে অযথা বিলম্ব করতে চায় না এবং প্রক্রিয়াগত কারণে যতটুকু সময় প্রয়োজন, সেটুকুই নেওয়া হচ্ছে।

অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বরের বিষয়টি বর্তমানে একটি সম্ভাব্য সময়সীমা, নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা নয়।

এখানেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা রয়েছে। যতক্ষণ না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করে, ততক্ষণ ১০ সেপ্টেম্বরকে চূড়ান্ত তারিখ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?

নবম জাতীয় পে-স্কেল ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হতে পারে এবং বেতন কাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এগুলো দেখায় যে বিষয়টি কেবল বেতন বৃদ্ধির একটি সাধারণ আদেশ নয়; এর সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক বাস্তবায়ন জড়িত।

১ জুলাই থেকে কার্যকর—কিন্তু গেজেট কেন জরুরি?

নতুন বেতন কাঠামোর কার্যকারিতা ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ধরা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে কার্যকর তারিখ এবং গেজেট প্রকাশ—দুটি আলাদা বিষয়। কার্যকর তারিখ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণ, ফিক্সেশন, বকেয়া, ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গেজেট প্রকাশের পরই মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, কোন গ্রেডে কত টাকা হবে, বাস্তবায়নের ধাপ কী হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক নির্দেশনা কী—এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভিত্তি আরও স্পষ্ট হবে।

আজ গেজেট না হলে কি পে-স্কেল আটকে গেছে?

না—এ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার কারণ নেই।

আজ গেজেট প্রকাশ না হওয়াকে পে-স্কেল বাতিল বা আটকে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

এখানে ‘বিলম্ব’ এবং ‘স্থগিত’—এই দুটি শব্দের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রক্রিয়াগত কারণে কয়েক দিন সময় লাগা এক বিষয়; আর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত স্থগিত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য মূলত প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কথাই বলছে

১০ সেপ্টেম্বর কি শেষ কথা?

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে যুক্তিসংগত উত্তর হলো—১০ সেপ্টেম্বর সম্ভাব্য, কিন্তু নিশ্চিত নয়।

কারণ গেজেট প্রকাশের আগে আরও কয়েকটি আনুষ্ঠানিক ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। বিজি প্রেসের কাজ, মন্ত্রণালয়ে নথি ফেরত আসা, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং এসআরও নম্বর—প্রতিটি ধাপ সময়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই ১০ সেপ্টেম্বরকে সম্ভাব্য লক্ষ্য তারিখ হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু সরকারি গেজেট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত তারিখ বলা যাবে না।

চাকরিজীবীদের এখন কী করা উচিত?

নবম পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য বেতন, ফিক্সেশন, ইনক্রিমেন্ট ও গেজেটের তারিখ নিয়ে। এ অবস্থায় কোনো অনানুষ্ঠানিক চার্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ না করাই নিরাপদ।

বিশেষ করে নতুন বেতন কত হবে, ফিক্সেশন কীভাবে হবে, ইনক্রিমেন্ট কোথায় বসবে এবং কোন ভাতা কবে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনই মূল দলিল।

শেষ কথা

নবম জাতীয় পে-স্কেলের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মন্ত্রিসভার অনুমোদন হয়ে গেছে, প্রজ্ঞাপন তৈরির কাজ এগিয়েছে, বিজি প্রেসের প্রক্রিয়াও চলছে; এখন বাকি প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এসআরও নম্বরসহ চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ।

তাই আজ ৬ সেপ্টেম্বর গেজেট না হওয়াকে নতুন করে কোনো সংকট হিসেবে দেখার চেয়ে বলা যায়, গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখনও চলমান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১০ সেপ্টেম্বরকে সম্ভাব্য গেজেট প্রকাশের দিন হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক বা আইনগত কোনো ধাপ সম্পন্ন হতে সময় বেশি লাগলে তারিখ পরিবর্তনও হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা—‘১০ সেপ্টেম্বর গেজেট হবে’ নয়; বরং ‘সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ১০ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে’—বর্তমান পরিস্থিতিকে এভাবেই দেখা অধিক যুক্তিসংগত।

গেজেট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে এবং তখনই নবম পে-স্কেলের বেতন, ফিক্সেশন, বাস্তবায়ন ধাপ ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে নিশ্চিতভাবে হিসাব করা সম্ভব হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *