সর্বশেষ প্রকাশিত পোস্টসমূহ

শিক্ষা সহায়ক ভাতা বাড়েনি, ৫০০ টাকাই বহাল: নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে যা থাকল

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি হয়েছে। নতুন জাতীয় পে-স্কেলে মূল বেতন ও বিভিন্ন ভাতা কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও সন্তানদের শিক্ষা সহায়ক ভাতার হার শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়নি। চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে আগের মতোই প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১,০০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা বহাল রাখা হয়েছে।

আপনার দেওয়া চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট অংশেও একই হার উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষা সহায়ক ভাতা বাড়িয়ে ১,০০০, ১,৫০০ বা ২,০০০ টাকা করার যেসব আলোচনা ও প্রস্তাব ছিল, সেগুলো চূড়ান্ত পে-স্কেলে বাস্তবায়িত হয়নি।

কমিশনের সুপারিশ ছিল ২ হাজার টাকা

নবম জাতীয় পে-স্কেল প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় শিক্ষা সহায়ক ভাতা নিয়ে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের সন্তানদের শিক্ষা ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতি সন্তানের শিক্ষা সহায়ক ভাতা বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করার সুপারিশ করেছিল। সে হিসাবে প্রচলিত ৫০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব সামনে আসে।

কিন্তু কমিশনের সুপারিশই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়, তা আবারও স্পষ্ট হলো নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্তের পর চূড়ান্ত আদেশে শিক্ষা সহায়ক ভাতার ক্ষেত্রে পুরোনো হারই রাখা হয়েছে।

চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে কত টাকা শিক্ষা ভাতা?

চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী—

  • প্রতি সন্তানের জন্য: মাসিক ৫০০ টাকা
  • সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য: মাসিক ১,০০০ টাকা
  • দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলেও শিক্ষা সহায়ক ভাতা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা
  • স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই সরকারি কর্মচারী হলে একই সন্তানের জন্য দুজন আলাদাভাবে এ ভাতা পাবেন না; সন্তানের সংখ্যা একজনের ক্ষেত্রেই গণনা করে ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

অর্থাৎ, দুই সন্তান থাকলে একজন সরকারি কর্মচারী মাসে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং বছরে সর্বোচ্চ ১২,০০০ টাকা শিক্ষা সহায়ক ভাতা পাবেন।

আগের হারই কেন গুরুত্বপূর্ণ?

২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের সময়ও শিক্ষা সহায়ক ভাতার হার ছিল প্রতি সন্তান ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ১,০০০ টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১৪ অক্টোবর ২০১৫ সালের সংশ্লিষ্ট স্মারকে এই হার নির্ধারণ করা হয়েছিল।

অর্থাৎ, ২০২৬ সালের নতুন পে-স্কেল চালু হলেও এই নির্দিষ্ট ভাতার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের নির্ধারিত হার থেকে কোনো আর্থিক বৃদ্ধি করা হয়নি।

এ কারণে মূল বেতন ব্যাপকভাবে বাড়লেও শিক্ষা সহায়ক ভাতা নিয়ে অনেক কর্মচারীর প্রত্যাশা পূরণ হয়নি—বিশেষ করে যাঁরা কমিশনের ২,০০০ টাকা করার সুপারিশের খবর আগে থেকেই জানতেন।

২০২৬ সালের পে-স্কেলে অন্যান্য সুবিধায় পরিবর্তন

শিক্ষা সহায়ক ভাতা না বাড়লেও নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অন্যান্য ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া নতুন কাঠামোয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা এবং সব গ্রেডের কর্মচারীর জন্য মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্তও রয়েছে।

অন্যদিকে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য টিফিন ভাতা মাসে ৫০০ টাকা এবং সিটি করপোরেশন এলাকায় যাতায়াত ভাতা মাসে ৬০০ টাকা নির্ধারণের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৬ থেকে পে-স্কেল কার্যকর

অর্থ বিভাগের জারি করা চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। তবে পুরো মূল বেতন একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মধ্যে মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে শিক্ষা সহায়ক ভাতা নিয়ে আর কোনো সম্ভাব্য সংশোধনী বা পৃথক আদেশ না এলে বর্তমান ৫০০/১,০০০ টাকার হারই বহাল থাকবে।

বয়সের ক্ষেত্রেও নতুন প্রজ্ঞাপনের বিধান

আপনার দেওয়া প্রজ্ঞাপনের ছবিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, বয়সের সার্টিফিকেট দাখিল সাপেক্ষে ২৩ বছর পর্যন্ত বয়সের সন্তানের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রাপ্য হবে না—এখানে মূল বক্তব্যটি প্রজ্ঞাপনের ভাষা অনুযায়ী দেখতে হবে; অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বয়সসীমা ও শর্ত অনুসরণ করেই ভাতা নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ২০১৫ সালের ব্যবস্থায় ২১ বছর পর্যন্ত বয়সের বিধান ছিল।

তাই ২০২৬ সালের চূড়ান্ত আদেশে বয়সসংক্রান্ত শর্তটি প্রয়োগের সময় নতুন প্রজ্ঞাপনের ভাষাই প্রাধান্য পাবে, পুরোনো আদেশের শর্ত নয়।

শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াল?

নবম পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মূল বেতন ও বেশ কিছু আর্থিক সুবিধায়। কিন্তু শিক্ষা সহায়ক ভাতার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বৃদ্ধি আসেনি।

জাতীয় বেতন কমিশনের পক্ষ থেকে ২,০০০ টাকা করার সুপারিশের খবর প্রকাশিত হলেও চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে সেটি স্থান পায়নি। ফলে সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা সহায়ক ভাতা প্রতি সন্তান মাসে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে ১,০০০ টাকা হিসেবেই থাকছে।

অর্থাৎ, নবম পে-স্কেলে বেতন বাড়লেও শিক্ষা সহায়ক ভাতা বাড়েনি—২০১৫ সালের নির্ধারিত ৫০০ টাকা হারই ২০২৬ সালের চূড়ান্ত কাঠামোতে বহাল রয়েছে।

সারকথা:
১ সন্তান = ৫০০ টাকা/মাস
২ সন্তান = ১,০০০ টাকা/মাস
২-এর বেশি সন্তান = সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা/মাস
কমিশনের ২,০০০ টাকার সুপারিশ = চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়িত হয়নি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *