আইবাস++ । পে ফিক্সেশন । ই-ফাইলিং

৯ম পে স্কেলের পে-ফিক্সেশন শুরু হয়েছে, তবে সবার জন্য নয়—ঢাকায় প্রথম ধাপে কার্যক্রম

নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ বাস্তবায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পে-ফিক্সেশন বা নতুন বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম এখন বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নির্ধারিত কিছু হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে প্রথম ধাপের পে-ফিক্সেশন শুরু হয়েছে। অর্থাৎ, “গতকাল থেকে ফিক্সেশন শুরু হয়েছে”—এই তথ্যটি পুরোপুরি ভুল নয়; তবে এর অর্থ এই নয় যে একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ফিক্সেশন চালু হয়েছে।

তাহলে গতকাল থেকে আসলে কী শুরু হয়েছে?

প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকেই ঢাকার নির্ধারিত কিছু সিএএফও/হিসাবরক্ষণ কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রথম ধাপের কার্যক্রম চালু হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়কে iBAS++ পে-ফিক্সেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে।

এ কারণে কোনো কোনো সরকারি কর্মচারী বা দপ্তরে ইতোমধ্যে ফিক্সেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখা গেলেও অন্য দপ্তরে এখনো অপশন চালু না-ও থাকতে পারে।

অর্থাৎ, “শুরু হয়েছে কি না?”—এর উত্তর হলো: হ্যাঁ, প্রথম ধাপের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু সবার জন্য একসঙ্গে শুরু হয়নি।

৫ অক্টোবর থেকে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে

প্রকাশিত সময়সূচিতে দেখা যাচ্ছে, ৫ অক্টোবর ঢাকার সংশ্লিষ্ট সিএএফও কার্যালয়গুলোতে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ৮, ১২, ১৫ ও ১৮ অক্টোবর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিভাগ ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রকাশিত সূচির সারাংশ হলো—

তারিখপে-ফিক্সেশন কার্যক্রম
১ অক্টোবরঢাকার নির্ধারিত প্রথম ধাপের কার্যালয়
৫ অক্টোবরঢাকার সংশ্লিষ্ট সিএএফও/হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
৮ অক্টোবরঢাকা ও রাজশাহীর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়
১২ অক্টোবরচট্টগ্রাম ও সিলেটের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়
১৫ অক্টোবরময়মনসিংহ ও রংপুরের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়
১৮ অক্টোবরখুলনা ও বরিশালের সংশ্লিষ্ট কার্যালয়

তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বিভাগভিত্তিক সময়সূচি উপস্থাপনে কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তাই কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সর্বশেষ নির্দেশনাই চূড়ান্তভাবে অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

২০ অক্টোবরের মধ্যে ফিক্সেশন শেষ করার লক্ষ্য

অর্থ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কারণ নতুন স্কেল অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন প্রস্তুত করতে হলে এর আগেই প্রত্যেক কর্মচারীর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

এখানেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—পে-ফিক্সেশন শুধু একটি অনলাইন ফরম পূরণের বিষয় নয়। কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, গ্রেড, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, চাকরির ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশের তথ্য সঠিকভাবে মিলিয়ে নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।

অক্টোবরের বেতনেই কি নতুন স্কেল কার্যকর হবে?

সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের বেতন নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। অর্থাৎ পে-ফিক্সেশন নির্ধারিত সময়ে শেষ হলে অক্টোবরের বেতন প্রস্তুতের সময় নতুন নির্ধারিত মূল বেতন ব্যবহার করা হবে। সেই বেতন সাধারণত নভেম্বরের শুরুতে হাতে আসার কথা।

অর্থাৎ বিষয়টি সহজভাবে দাঁড়ায়—

১ অক্টোবর → প্রথম ধাপে পে-ফিক্সেশন শুরু
↓
৫–১৮ অক্টোবর → ধাপে ধাপে দেশব্যাপী কার্যক্রম সম্প্রসারণ
↓
২০ অক্টোবরের মধ্যে → পে-ফিক্সেশন শেষ করার লক্ষ্য
↓
অক্টোবরের বেতন → নতুন স্কেল অনুযায়ী প্রস্তুত
↓
নভেম্বরের শুরু → নতুন স্কেলের বেতন হাতে পাওয়ার সম্ভাব্য সময়

তাহলে যারা এখনো ফিক্সেশন করতে পারছেন না?

এটি নিয়ে অনেক সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ ১ অক্টোবর থেকে সারা দেশের সব কর্মচারীর জন্য একযোগে পে-ফিক্সেশন চালু হয়নি। iBAS++ ব্যবস্থায় হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ভিত্তিক ধাপে ধাপে কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।

তাই কোনো কর্মচারীর ক্ষেত্রে আজ অপশন দেখা গেলেও অন্য কোনো দপ্তরের কর্মচারীর ক্ষেত্রে কয়েক দিন পর সেটি চালু হতে পারে। এটিকে পে-ফিক্সেশন বন্ধ বা স্থগিত হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখার কারণ নেই।

এমনকি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক জনবলের তথ্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৭ অক্টোবরের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে, যা দেখাচ্ছে যে বিভিন্ন দপ্তরে নতুন স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতিমূলক কাজও একই সময়ে চলছে।

কর্মচারীদের এখন কী করতে হবে?

পে-ফিক্সেশন চালু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা কর্মচারীদের এখন থেকেই নিজেদের তথ্য মিলিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে—

  • বর্তমান মূল বেতন সঠিক আছে কি না;
  • সর্বশেষ ইনক্রিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না;
  • বর্তমান গ্রেড সঠিক আছে কি না;
  • পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেড থাকলে সংশ্লিষ্ট আদেশ;
  • পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণের তথ্য;
  • চাকরিতে যোগদানের তারিখ;
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পে-ফিক্সেশনের তথ্য

এসব তথ্যের সঙ্গে iBAS++-এর তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। কারণ ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে নতুন বেতন নির্ধারণের সময় জটিলতা তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

বকেয়া টাকার কী হবে?

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর আগের সময়ের বর্ধিত বেতন/বকেয়া হিসাবও পে-ফিক্সেশনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে জুলাই থেকে পরবর্তী সময়ের বকেয়া সমন্বয়ের প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। তবে প্রত্যেক কর্মচারীর বকেয়ার পরিমাণ এক হবে না; গ্রেড, পূর্ববর্তী মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত মূল বেতন ও কার্যকর তারিখের ভিত্তিতে হিসাব আলাদা হবে।

শেষ কথা

সুতরাং বর্তমানে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে “গতকাল থেকে পে-ফিক্সেশন শুরু হয়েছে”—এই কথাটির সবচেয়ে সঠিক ব্যাখ্যা হলো, ১ অক্টোবর থেকে প্রথম ধাপের কার্যক্রম নির্ধারিত কিছু হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে শুরু হয়েছে। এটি এখনো সারা দেশের সব সরকারি কর্মচারীর জন্য একই সঙ্গে চালু হয়নি। ধাপে ধাপে অন্যান্য কার্যালয় যুক্ত হবে এবং ২০ অক্টোবরের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অক্টোবরের বেতন নতুন স্কেল অনুযায়ী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে এবং সেই বেতন নভেম্বরের শুরুতে পাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট কর্মচারীর ক্ষেত্রে নতুন বেতন কবে দেখা যাবে, তা সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের ধাপ, তথ্য যাচাই এবং পে-ফিক্সেশন সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।

অর্থাৎ, পে-ফিক্সেশন এখন আর শুধু প্রস্তুতির মধ্যে নেই—বাস্তব কার্যক্রমে প্রবেশ করেছে। তবে এটি পর্যায়ক্রমে চালু হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *