গ্রেড অনুযায়ী বেতন স্কেল ২০২৬ । সরকারি গ্রেড অনুযায়ী কোন পদের বেতন কত, জানুন বিস্তারিত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কার্যকর হয়েছে নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬। নতুন এই বেতন কাঠামোতে আগের ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। তবে প্রতিটি গ্রেডের মূল বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডে নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইটে এ আদেশ ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।
গ্রেড অনুযায়ী নতুন বেতন কত?
নবম জাতীয় বেতন স্কেলে ২০টি গ্রেডের কাঠামো বহাল থাকলেও মূল বেতনের স্তর পরিবর্তন করা হয়েছে। প্রকাশিত স্কেল অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ গ্রেডগুলোর শুরু হচ্ছে—
| গ্রেড | নতুন মূল বেতনের শুরু | ১ম গ্রেড | ৭৮,০০০ টাকা নির্ধারিত | ২য় গ্রেড | ৬৬,০০০ টাকা | ৩য় গ্রেড | ৫৬,৫০০ টাকা | ৪র্থ গ্রেড | ৫০,০০০ টাকা | ৫ম গ্রেড | ৪৩,০০০ টাকা | ৬ষ্ঠ গ্রেড | ৩৫,৫০০ টাকা | ৭ম গ্রেড | ২৯,০০০ টাকা | ৮ম গ্রেড | ২৫,০০০ টাকা | ৯ম গ্রেড | ২২,০০০ টাকা | ১০ম গ্রেড | ১৬,০০০ টাকা | ১১তম গ্রেড | ১২,৫০০ টাকা | ১২তম গ্রেড | ১১,৩০০ টাকা | ১৩তম গ্রেড | ১১,০০০ টাকা | ১৪তম গ্রেড | ১০,২০০ টাকা | ১৫তম গ্রেড | ৯,৭০০ টাকা | ১৬তম গ্রেড | ৯,৩০০ টাকা | ১৭তম গ্রেড | ৯,০০০ টাকা | ১৮তম গ্রেড | ৮,৮০০ টাকা | ১৯তম গ্রেড | ৮,২৫০ টাকা | ২০তম গ্রেড | ৮,২৫০ টাকা |
|---|
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: ওপরের পুরোনো কাঠামোর অঙ্কের সঙ্গে ২০২৬ সালের নতুন নির্ধারিত বেতনকে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। নতুন স্কেলের সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। নতুন স্কেলের পূর্ণ ধাপ ও বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি গেজেটই চূড়ান্ত দলিল।
১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনের একটি হলো সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন। ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন গ্রেড অর্থাৎ ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের হিসাবে, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের অনুপাত আগের ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার বেশি
নতুন পে স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রেড ১ থেকে ১০ পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। অন্যদিকে গ্রেড ১১ থেকে ২০ পর্যন্ত কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। ফলে নতুন কাঠামোর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটি অংশ হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা।
বিশেষ করে ২০তম গ্রেডের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হওয়ায় এই গ্রেডে বৃদ্ধির হার দাঁড়ায় প্রায় ১৪২ শতাংশ।
শুধু নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য নয়
নতুন বেতন স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি উঠছে তা হলো—নতুন নির্ধারিত বেতন কি শুধু নতুন নিয়োগপ্রাপ্তরা পাবেন, নাকি বর্তমানে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও পাবেন?
উত্তর হলো, এটি বর্তমানে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও প্রযোজ্য। তবে পুরোনো কর্মচারীর বেতন নির্ধারণ হবে তার ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, টাইম স্কেলসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে।
অর্থাৎ কোনো কর্মচারী বর্তমানে যে গ্রেডে আছেন, সেই গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতনই তার নতুন বেতন হবে—এমন নয়। বরং তার বিদ্যমান মূল বেতন ও চাকরির ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে পে-ফিক্সেশন করতে হবে।
এই কারণে একই গ্রেডের দুই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন এক নাও হতে পারে।
পে-ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে ৩০ জুনের বেতন গুরুত্বপূর্ণ
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল বেতন ছিল, সেটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষ করে যারা ইতোমধ্যে পদোন্নতি পেয়েছেন, টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন কিংবা উচ্চতর গ্রেডে গেছেন, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ ও চাকরির তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
সাম্প্রতিক বাস্তবায়নসংক্রান্ত নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া কর্মচারীদের সংশ্লিষ্ট তথ্য ও অফিস আদেশ প্রস্তুত রাখতে হবে।
২০২৬ সালে একবারে পুরো বেতন কার্যকর হচ্ছে না
নতুন পে স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—পুরো বেতন বৃদ্ধি একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় সরকার পর্যায়ক্রমে নতুন মূল বেতন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রকাশিত বাস্তবায়ন কাঠামো অনুযায়ী—
গ্রেড ১০ থেকে ২০
গ্রেড ১০ থেকে ২০-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন বেতন বৃদ্ধির ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে।
এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধির ৭৫ শতাংশ কার্যকর হবে।
আর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নতুন স্কেলের পূর্ণ ১০০ শতাংশ সমন্বয় কার্যকর হবে।
গ্রেড ১ থেকে ৯
গ্রেড ১ থেকে ৯-এর ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত মোট বেতন বৃদ্ধির ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে।
১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে এই হার বেড়ে ৭০ শতাংশ হবে।
এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ সমন্বিত বেতন কার্যকর হবে।
ভাতা এখনই পুরোপুরি বদলাচ্ছে না
নতুন বেতন স্কেলের সঙ্গে শুধু মূল বেতন নয়, বিভিন্ন ভাতাও পরিবর্তনের বিষয় রয়েছে। তবে মূল বেতনের মতো সব ভাতা একসঙ্গে নতুন হারে কার্যকর হচ্ছে না।
গেজেট অনুযায়ী, বিদ্যমান ভাতাগুলো ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত আগের হারে চলবে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সংশোধিত ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে।
এর অর্থ হলো, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কর্মচারীর নতুন মূল বেতন নির্ধারণ হলেও বাড়িভাড়া, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সুবিধার পূর্ণ পরিবর্তন তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না।
বাড়িভাড়ায় গ্রেড ও এলাকার প্রভাব
নতুন ব্যবস্থায় বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে গ্রেড এবং কর্মস্থলের এলাকা—দুই বিষয়ই বিবেচনা করা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপ থেকে ১৬তম গ্রেডের সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত কর্মচারীদের বাড়িভাড়া মূল বেতনের ৬০ শতাংশ নির্ধারণের বিধান রয়েছে।
অন্যান্য নির্দিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় এ হার তুলনামূলক কম। আবার অন্যান্য এলাকায় গ্রেডভেদে বাড়িভাড়ার হার আরও ভিন্ন।
ফলে একজন কর্মচারীর মূল বেতন একই হলেও কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে মোট বেতন ভিন্ন হতে পারে।
মোবাইল ভাতাতেও বড় পরিবর্তন
নতুন বেতন কাঠামোয় মোবাইল ভাতার আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে মোবাইল ভাতা সীমিত ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সব গ্রেডের কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ব্যয় বৃদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়েই এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন ভাতা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এটি নতুন পে কাঠামোর সামাজিক সুরক্ষামূলক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পেনশনভোগীরাও সুবিধা পাবেন
নতুন বেতন কাঠামোর প্রভাব শুধু কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও ধাপে ধাপে নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকার নির্দিষ্ট স্ল্যাব অনুযায়ী নিট পেনশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তরা তুলনামূলক বেশি হারে সুবিধা পাবেন।
নতুন পে স্কেলের আর্থিক প্রভাব
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হবে। সরকারি হিসাবে, প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী এই কাঠামোর আওতায় সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।
এই বিপুল আর্থিক প্রভাবের কারণেই সরকার একসঙ্গে পুরো বেতন কার্যকর না করে কয়েক ধাপে বাস্তবায়নের পথ বেছে নিয়েছে।
পে-ফিকেশন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ
নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পে-ফিকেশন।
পে-ফিকেশনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর—
- ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন,
- বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট,
- পদোন্নতি,
- উচ্চতর গ্রেড,
- টাইম স্কেল,
- সিলেকশন গ্রেড,
- পদায়ন ও বদলি,
- পূর্ববর্তী বেতন নির্ধারণ
ইত্যাদি তথ্য সঠিকভাবে বিবেচনা করতে হবে।
বর্তমানে অর্থ বিভাগের iBAS++ ব্যবস্থার মাধ্যমে বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি হিসাব অফিসগুলোর কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।
কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে জরুরি সতর্কতা
নতুন বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর অনেক কর্মচারী শুধু গ্রেডের শুরুতে থাকা বেতন দেখে নিজের নতুন বেতন হিসাব করছেন। এটি ভুল হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো কর্মচারী যদি ১০ম গ্রেডে থাকেন, তার নতুন বেতন শুধু ১০ম গ্রেডের প্রথম ধাপ ধরে নির্ধারণ করা হবে—এমন নয়। তার ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন এবং প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী নতুন ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
তাই নিজের নতুন বেতন জানতে হলে শুধু গ্রেড জানা যথেষ্ট নয়; ৩০ জুনের মূল বেতন ও চাকরির পূর্ববর্তী বেতন ইতিহাসও জানতে হবে।
এক নজরে নবম জাতীয় বেতন স্কেলের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বেতন কাঠামো: জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬
গ্রেড: ২০টি
কার্যকর তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬
সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন: ২০,০০০ টাকা
সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন: ১,৫৬,০০০ টাকা
সর্বনিম্ন গ্রেড: ২০তম
সর্বোচ্চ গ্রেড: ১ম
নিম্ন গ্রেডে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি: প্রায় ১৪২ শতাংশ
উচ্চ গ্রেডে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি: প্রায় ১০০ শতাংশ
গ্রেড ১০–২০: ৫০% → ৭৫% → ১০০%
গ্রেড ১–৯: ৪০% → ৭০% → ১০০%
নতুন ভাতা: ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা: প্রতি সন্তান মাসে ৩,০০০ টাকা
মোবাইল ভাতা: সব গ্রেডে সম্প্রসারণ
পে-ফিকেশন: ৩০ জুন ২০২৬-এর বেতন ও চাকরির তথ্যের ভিত্তিতে
শেষ কথা
নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ শুধু মূল বেতন বৃদ্ধির একটি তালিকা নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পে-ফিকেশন, ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেড, বাড়িভাড়া, অন্যান্য ভাতা, পেনশন এবং বকেয়া পাওনার হিসাব। ১৯ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এর বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তবে একজন কর্মচারীর হাতে শেষ পর্যন্ত কত টাকা যাবে, তা নির্ভর করবে তার গ্রেড, বেতনধাপ, ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন, কর্মস্থল, প্রযোজ্য ভাতা এবং পে-ফিকেশনের ফলাফলের ওপর। তাই ‘গ্রেড অনুযায়ী বেতন কত’ প্রশ্নের পাশাপাশি প্রত্যেক কর্মচারীর জন্য ‘পে-ফিকেশনের পর আমার মূল বেতন কত হবে’—এই হিসাবটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
গ্রেড অনুযায়ী নতুন মূল বেতন
| গ্রেড | ২০২৬ সালের প্রারম্ভিক মূল বেতন | প্রচলিতভাবে দেখা যায় এমন পদ |
|---|---|---|
| ১ম | ১,৫৬,০০০ টাকা | সিনিয়র সচিব/সমমর্যাদার উচ্চপদ |
| ২য় | ১,৩২,০০০ টাকা | অতিরিক্ত সচিব/সমমর্যাদার পদ |
| ৩য় | ১,১৩,০০০ টাকা | যুগ্ম সচিব/সমমর্যাদার পদ |
| ৪র্থ | ১,০০,০০০ টাকা | উপসচিব/সমমর্যাদার পদ |
| ৫ম | ৮৬,০০০ টাকা | উপসচিব/পরিচালক পর্যায়ের বিভিন্ন পদ |
| ৬ষ্ঠ | ৭১,০০০ টাকা | সিনিয়র পর্যায়ের কর্মকর্তা |
| ৭ম | ৫৮,০০০ টাকা | বিভিন্ন ক্যাডার/সমমর্যাদার কর্মকর্তা |
| ৮ম | ৪৬,০০০ টাকা | সিনিয়র সহকারী পর্যায়ের বিভিন্ন পদ |
| ৯ম | ৪৪,০০০ টাকা | সহকারী পরিচালক, সহকারী কমিশনার, সহকারী সচিব, প্রভাষক/সমমর্যাদা |
| ১০ম | ৩২,০০০ টাকা | বিভিন্ন কর্মকর্তা/প্রথম শ্রেণির পদ |
| ১১তম | ২৫,০০০ টাকা | বিভিন্ন উপসহকারী/সমপর্যায়ের পদ |
| ১২তম | ২৪,৩০০ টাকা | বিভিন্ন দপ্তরের কারিগরি/প্রশাসনিক পদ |
| ১৩তম | ২৪,০০০ টাকা | সহকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন পদ |
| ১৪তম | ২৩,৫০০ টাকা | বিভিন্ন সহকারী/কারিগরি পদ |
| ১৫তম | ২২,৮০০ টাকা | বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী পদ |
| ১৬তম | ২১,৯০০ টাকা | বিভিন্ন অফিস/কারিগরি পদ |
| ১৭তম | ২১,৪০০ টাকা | বিভিন্ন কর্মচারী পদ |
| ১৮তম | ২১,০০০ টাকা | বিভিন্ন সহায়ক/কারিগরি পদ |
| ১৯তম | ২০,৫০০ টাকা | বিভিন্ন নিম্নপদ |
| ২০তম | ২০,০০০ টাকা | অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন পদ |
উপরের প্রারম্ভিক মূল বেতনগুলো প্রকাশিত ২০২৬ সালের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।




