ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ পেতে কী করবেন? অনলাইন আবেদন থেকে মিটার স্থাপন পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিয়ম জানুন

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। নতুন বাড়ি নির্মাণ, পুরোনো বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া কিংবা দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন মিটার স্থাপনের প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে হয়। বর্তমানে অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন, প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান, কাগজপত্র আপলোড এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ নতুন মিটার আবেদন গাইড

তবে অনেক আবেদনকারী জানেন না, নতুন মিটারের জন্য আবেদন করতে কী কী তথ্য প্রয়োজন, কোন কাগজপত্র জমা দিতে হবে, আবেদন ফি কত এবং আবেদন করার পর কীভাবে মিটার পাওয়া যাবে। এ কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় ভুল, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে অনেক সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

নতুন সংযোগ নিতে আগ্রহীদের সুবিধার্থে অনলাইন আবেদন থেকে শুরু করে ডিমান্ড নোট পরিশোধ এবং মিটার স্থাপন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।

পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটারের আবেদন কোথায় করবেন?

পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন সংযোগ পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে।

আবেদনকারী প্রথমে বিআরইবির ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন বিদ্যুৎ সংযোগের অপশন নির্বাচন করবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও অফিস নির্বাচন করে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রয়োজন হবে একটি সচল মোবাইল নম্বর, ইন্টারনেট সংযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত ও সংযোগস্থলসংক্রান্ত তথ্য।

নতুন মিটারের আবেদন করতে যেসব তথ্য দিতে হবে

অনলাইন আবেদন ফরমে আবেদনকারীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে তথ্য প্রদান করতে হয়।

১. আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য

  • আবেদনকারীর নাম বাংলা ও ইংরেজিতে।
  • জন্মতারিখ।
  • পিতার নাম ও মাতার নাম।
  • স্বামী বা স্ত্রীর নাম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
  • লিঙ্গ।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা জন্মনিবন্ধনের তথ্য।
  • মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা।

২. সংযোগস্থলের ঠিকানা

যে বাড়ি, দোকান বা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া হবে, সেই স্থানের সঠিক ঠিকানা দিতে হবে। এক্ষেত্রে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, পোস্ট অফিস, গ্রাম বা মৌজা, এলাকা নম্বর এবং জমির দাগ নম্বর উল্লেখ করতে হতে পারে।

এ ছাড়া জমিটি নিজস্ব, ভাড়া, লিজ নাকি যৌথ মালিকানাধীন, সেটিও জানাতে হবে।

৩. সংযোগের ধরন ও লোড

আবেদনকারীকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ট্যারিফ ক্যাটাগরি নির্বাচন করতে হবে। পাশাপাশি এক ফেজ বা তিন ফেজ সংযোগ, ভোল্টেজ এবং প্রয়োজনীয় লোড উল্লেখ করতে হবে।

৪. ভৌগোলিক তথ্য

বিদ্যুৎ খুঁটি থেকে সংযোগস্থলের দূরত্ব এবং আশপাশের বিদ্যুৎ গ্রাহকের বই নম্বর ও হিসাব নম্বর চাওয়া হতে পারে।

প্রদত্ত আবেদন গাইডে সার্ভিস পোল থেকে সংযোগস্থলের দূরত্ব সর্বোচ্চ ১৩০ ফুট উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সমিতির কাছ থেকে এ বিষয়ে সর্বশেষ শর্ত নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

অনলাইনে নতুন মিটারের আবেদন করার ৭টি ধাপ

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন সম্পন্ন করতে সাধারণত নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয়।

ধাপ ১: আবেদন ফরম পূরণ

প্রথমে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও অফিস নির্বাচন করতে হবে। এরপর ব্যক্তিগত পরিচয়, ঠিকানা, সংযোগের ধরন এবং প্রয়োজনীয় লোডের তথ্য দিতে হবে।

ধাপ ২: বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির বিবরণ দেওয়া

বাড়িতে কতটি ফ্যান, লাইট, টেলিভিশন, ফ্রিজ, এসি বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হবে, তার সংখ্যা ও ক্ষমতা উল্লেখ করতে হবে।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য ডিমান্ড লোড নির্ধারণ করা যায়।

ধাপ ৩: কাগজপত্র আপলোড ও আবেদন সংরক্ষণ

আবেদনকারীর ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জমির মালিকানাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।

প্রদত্ত গাইড অনুযায়ী, প্রতিটি ফাইলের সর্বোচ্চ আকার ৩০০ কিলোবাইট। এরপর শর্তাবলিতে সম্মতি দিয়ে ক্যাপচা পূরণ করে আবেদন ড্রাফট হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।

ধাপ ৪: ইউজার আইডি দিয়ে লগইন

আবেদন সংরক্ষণের পর মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড পাঠানো হয়। সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ইউজার আইডি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করে ওয়্যারিং সম্পন্ন হয়েছে কি না, গ্রাউন্ডিং রডের মেমো নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। এরপর আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করতে হবে।

ধাপ ৫: আবেদন ফি পরিশোধ

আবেদন সাবমিট করার পর নির্ধারিত বিল নম্বর ব্যবহার করে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ক্যাশ কাউন্টার অথবা রকেটের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা গাইডে উল্লেখ রয়েছে।

ধাপ ৬: ডিমান্ড নোটের টাকা জমা

আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদন পাওয়া গেলে ড্যাশবোর্ড ও ই-মেইলে ডিমান্ড নোট পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখিত অর্থ নির্ধারিত নিয়মে পরিশোধ করতে হবে।

ধাপ ৭: সিএমও ইস্যু ও মিটার স্থাপন

প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন এবং ডিমান্ড নোটের টাকা জমা হলে সিএমও ইস্যু করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সংযোগ চালু হলে গ্রাহক হিসাব নম্বর এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হয়।

নতুন মিটার নিতে আবেদন ফি কত?

পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে আবেদন ফি এবং পরবর্তী সময়ে ডিমান্ড নোটের অর্থ পরিশোধ করতে হয়।

প্রদত্ত গাইডে নমুনা হিসেবে আবেদন ফি ১১৫ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২ কিলোওয়াট এলটি-এ আবাসিক সংযোগের একটি নমুনা ডিমান্ড নোটে সদস্য ফি ৫০ টাকা এবং গ্রাহক জামানত ৮০০ টাকা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ নমুনা হিসাবে ডিমান্ড নোটের মোট পরিমাণ ৮৫০ টাকা।

এখানে মনে রাখতে হবে, ১১৫ টাকা ও ৮৫০ টাকা সব ধরনের সংযোগের জন্য চূড়ান্ত নির্ধারিত খরচ নয়। সংযোগের ধরন, লোড, দূরত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সমিতির নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

আবেদনকারীকে নিজের ডিমান্ড নোটে উল্লেখিত অর্থই পরিশোধ করতে হবে।

নতুন সংযোগের জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?

আবাসিক সংযোগের ক্ষেত্রে সাধারণত নিচের কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে:

১. আবেদনকারীর এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

২. জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি।

৩. জমি বা ফ্ল্যাটের মালিকানা দলিল অথবা লিজ ডিড।

৪. জমির খতিয়ান বা মালিকানার প্রমাণপত্র।

৫. আবেদনকারী জমির মালিক না হলে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা মালিকের অনাপত্তিপত্র।

৬. জমির মালিক মারা গেলে উত্তরাধিকার সনদ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য ওয়ারিশের অনাপত্তিপত্র।

৭. ডেভেলপারের ভবন হলে চুক্তিপত্র অথবা যৌথ মালিকানার অনাপত্তিপত্র।

৮. প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ লোডের বিবরণ।

৯. ১০ তলার বেশি বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ সনদ বা সাময়িক সনদ।

১০. প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রুফটপ সোলার স্থাপনের প্রমাণক।

তবে একই নামে, একই শ্রেণি ও একই স্থাপনায় নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে কিছু কাগজপত্র পুনরায় জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সর্বশেষ পরিশোধিত বিলের কপি বা গ্রাহক নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।

আবাসিক ছাড়াও শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগ পাওয়া যাবে

পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ ব্যবস্থা শুধু আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নয়। বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহক প্রয়োজন অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন।

সংযোগের ধরনক্যাটাগরি
আবাসিকএলটি-এ
সেচএলটি-বি
শিল্পএলটি-সি১
নির্মাণএলটি-সি২
শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানএলটি-ডি১
বাণিজ্যিক ও ব্যাটারি চার্জিংএলটি-ই/ডি৩
অস্থায়ীএলটি-টি
মধ্যম ও উচ্চ চাপMT/HT

সেচ সংযোগের ক্ষেত্রে সেচ কমিটির অনুমোদনপত্র প্রয়োজন হতে পারে। শিল্প সংযোগের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, প্রয়োজনীয় লোড এবং রুফটপ সোলার বা নেট মিটারিংসংক্রান্ত কাগজপত্র লাগতে পারে।

বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া হলে নিবন্ধিত ভাড়ার চুক্তিপত্র প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে মধ্যম ও উচ্চ চাপের সংযোগে ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার, সাবস্টেশন নকশা এবং সিঙ্গেল লাইন ডায়াগ্রামের মতো অতিরিক্ত কারিগরি নথি জমা দিতে হতে পারে।

নতুন মিটার স্থাপনে কত দিন সময় লাগে?

নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করার পর কত দিনের মধ্যে মিটার পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে আবেদন যাচাই, ওয়্যারিং পরিদর্শন, ডিমান্ড নোট প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রমের ওপর।

প্রদত্ত গাইডে সঠিক আবেদন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রায় ৩০ দিনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি সব এলাকার জন্য নিশ্চিত সময়সীমা নয়।

আবেদনে ভুল তথ্য থাকলে, কাগজপত্র অসম্পূর্ণ হলে কিংবা ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দিতে দেরি হলে সংযোগ পেতে বেশি সময় লাগতে পারে।

আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানবেন যেভাবে

নতুন মিটারের আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারী অনলাইন ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করে আবেদনের অগ্রগতি দেখতে পারবেন।

সেখানে আবেদন ফি জমা, ওয়্যারিং পরিদর্শক নিয়োগ, ওয়্যারিং প্রতিবেদন, ডিমান্ড নোট প্রদান, অর্থ পরিশোধ, সিএমও ইস্যু এবং সংযোগ কার্যক্রমের অবস্থা দেখা যায়।

এ ছাড়া আবেদনকারীর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ও ই-মেইলে প্রয়োজনীয় বার্তা পাঠানো হয়। তাই আবেদন করার সময় সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা এবং ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা জরুরি।

নতুন মিটার পাওয়ার পর বিদ্যুৎ বিল হিসাব করবেন যেভাবে

মিটার স্থাপনের পর প্রতি মাসে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ইউনিট অনুযায়ী বিল তৈরি হয়। সাধারণভাবে ব্যবহৃত ইউনিট, অনুমোদিত লোডের ভিত্তিতে ডিমান্ড চার্জ এবং প্রযোজ্য ভ্যাট বিলের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হয়।

ব্যবহৃত ইউনিট নির্ণয়ের নিয়ম হলো:

বর্তমান মাসের মিটার রিডিং − আগের মাসের মিটার রিডিং = ব্যবহৃত ইউনিট।

উদাহরণ হিসেবে, আগের মাসের রিডিং ১২০০ এবং বর্তমান মাসের রিডিং ১৩৫০ হলে মোট ব্যবহৃত বিদ্যুৎ হবে ১৫০ ইউনিট।

তবে সিটি/সিটি-পিটি মিটারের ক্ষেত্রে মিটার গুণক বা মাল্টিপ্লায়ার প্রয়োগ করতে হতে পারে। বিলের রিডিংয়ের সঙ্গে মিটারের রিডিংয়ে পার্থক্য থাকলে সংশ্লিষ্ট জোনাল অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

নতুন মিটারের আবেদন করার আগে সতর্কতা

নতুন সংযোগের আবেদন করার সময় কয়েকটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিতে হবে।
  • জমির মালিকানা ও সংযোগস্থলের ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে।
  • বাস্তব বিদ্যুৎ চাহিদা অনুযায়ী লোড নির্ধারণ করতে হবে।
  • প্রয়োজনীয় ওয়্যারিং ও গ্রাউন্ডিং সম্পন্ন করতে হবে।
  • আবেদন ফি ও ডিমান্ড নোটের টাকা নির্ধারিত পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে।
  • ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড নিরাপদে রাখতে হবে।
  • অনুমোদন ছাড়া কাউকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া যাবে না।
  • আবেদনসংক্রান্ত সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটারের আবেদন করার লিংক

নতুন সংযোগের জন্য আবেদনকারীরা নিচের ওয়েবসাইটগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

উল্লেখ্য, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকার গ্রাহকদের বিআরইবির নির্ধারিত পোর্টাল ব্যবহার করতে হবে। বিপিডিবির আওতাধীন এলাকার গ্রাহকদের জন্য আলাদা আবেদন পোর্টাল রয়েছে।

উপসংহার

পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন পদ্ধতি গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা তৈরি করেছে। এখন আবেদনকারী ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ, কাগজপত্র আপলোড এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

তবে দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত সংযোগ পেতে আবেদন ফরমের প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা, ওয়্যারিং সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত অর্থ সময়মতো পরিশোধ করা জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আবেদন ফি, ডিমান্ড নোট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংযোগের সময়সীমা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে আবেদন করা। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *