বেতন । বাড়ি ভাড়া । অন্যান্য ভাতাদি

আনসার বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণ, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরত নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন নির্ধারিত হারে ঝুঁকি ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট, কোম্পানি কমান্ডার, ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার এবং তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের পদ ও চাকরিকালের ভিত্তিতে মাসিক ঝুঁকি ভাতার নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। একই প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন পদে চাকরির বয়সভেদে পাঁচটি স্তরে ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব ওয়েবসাইটেও ঝুঁকি ভাতাকে বাহিনীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোন পদে কত ঝুঁকি ভাতা

গেজেটে প্রকাশিত সারণি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভাতার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু পদ নয়, চাকরির বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচটি স্তর হলো—চাকরির বয়স ৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম, ৫ থেকে ১০ বছর, ১০ থেকে ১৫ বছর, ১৫ থেকে ২০ বছর এবং ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব।

১. আর্মোরার — গ্রেড-১৯

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম১,৫৬০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর১,৯২০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর২,২৮০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর২,৭৬০ টাকা
২০+ বছর৩,২৪০ টাকা

২. ব্যাটালিয়ন আনসার/সিপাহী — গ্রেড-১৮

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম১,৬৮০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর২,০৪০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর২,৪০০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর২,৮৮০ টাকা
২০+ বছর৩,৩৬০ টাকা

৩. ল্যান্স নায়েক — গ্রেড-১৭

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম১,৮০০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর২,১৬০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর২,৬৪০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর৩,০০০ টাকা
২০+ বছর৩,৬০০ টাকা

৪. নায়েক/নার্সিং সহকারী/অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর — গ্রেড-১৬

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম১,৯২০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর২,২৮০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর২,৭৬০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর৩,২৪০ টাকা
২০+ বছর৩,৮৪০ টাকা

৫. হাবিলদার/গাড়িচালক — গ্রেড-১৫

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম২,০৪০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর২,৪০০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর২,৮৮০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর৩,৪৮০ টাকা
২০+ বছর৪,০৮০ টাকা

৬. এপিসি/নায়েক সুবেদার — গ্রেড-১৪

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম২,১৬০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর২,৬৪০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর৩,২৪০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর৩,৮৪০ টাকা
২০+ বছর৪,৫৬০ টাকা

৭. পিসি/সুবেদার — গ্রেড-১৩

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম২,২৮০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর২,৭৬০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর৩,৩৬০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর৪,০৮০ টাকা
২০+ বছর৪,৮০০ টাকা

৮. উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক — গ্রেড-১২

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম২,৫২০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর৩,০০০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর৩,৬০০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর৪,৩২০ টাকা
২০+ বছর৫,২৮০ টাকা

৯. সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/কোম্পানি কমান্ডার/ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার — গ্রেড-১০

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে এই শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য।

চাকরির বয়সমাসিক ঝুঁকি ভাতা
৫ বছর ও তদূর্ধ্ব কম৩,২৪০ টাকা
৫+ হতে ১০ বছর৩,৮৪০ টাকা
১০+ হতে ১৫ বছর৪,৫৬০ টাকা
১৫+ হতে ২০ বছর৫,৪০০ টাকা
২০+ বছর৬,৪৮০ টাকা

অর্থাৎ সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/কোম্পানি কমান্ডার/ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টার পদে ২০ বছর বা তার বেশি চাকরিকাল সম্পন্ন হলে মাসিক ঝুঁকি ভাতা হবে ৬ হাজার ৪৮০ টাকা

চাকরির বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়বে ভাতা

নতুন কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ঝুঁকি ভাতা একক হারে রাখা হয়নি। একই পদে কর্মরত হলেও চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়বে।

উদাহরণ হিসেবে গ্রেড-১০-এর সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/কোম্পানি কমান্ডার/ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টারের ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ ৫ বছরের কম হলে ৩,২৪০ টাকা থেকে শুরু করে ২০ বছর বা তার বেশি হলে ৬,৪৮০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে একই পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীরা চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী তুলনামূলক বেশি ঝুঁকি ভাতা পাবেন।

১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর

গেজেটের শর্তাবলিতে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ থেকে আদেশটি কার্যকর হবে। ফলে এটি শুধু ভবিষ্যতের জন্য নতুন হার নির্ধারণ নয়; নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন হার কার্যকর হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থাৎ, যেসব কর্মচারী সংশ্লিষ্ট পদ ও চাকরিকালের শর্ত পূরণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে প্রাপ্যতার হিসাব করতে হবে।

তবে বাস্তবে বেতন বিল, বকেয়া এবং হিসাব সমন্বয়ের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হিসাবরক্ষণ নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

মূল বেতনের সঙ্গে শতাংশ হিসাবে নয়

ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত নয়। বরং পদ ও চাকরির মেয়াদের ভিত্তিতে টাকার অঙ্কে নির্ধারিত হয়েছে।

অর্থ বিভাগের পুরোনো নীতিতেও আনসার ও ভিডিপিসহ কয়েকটি বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা নির্দিষ্ট টাকার অঙ্কে নির্ধারণের কাঠামোর কথা উল্লেখ রয়েছে।

ফলে ভবিষ্যতে কোনো কর্মচারীর মূল বেতন বাড়লেই একই হারে ঝুঁকি ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়বে—এমন ধারণা করা যাবে না। নতুন কোনো সরকারি আদেশ না হলে গেজেটে নির্ধারিত টাকার অঙ্কই প্রযোজ্য থাকবে।

প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের জন্য বিশেষ শর্ত

গেজেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারী যদি এই ঝুঁকি ভাতা গ্রহণ করেন, তাহলে একই সময়ে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন না।

অর্থাৎ একই কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই ধরনের একাধিক ভাতা একসঙ্গে গ্রহণের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে। এ ধরনের বিধান ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে আগের সরকারি কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

কেন এই পুনর্নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ

ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকি ভাতা মূল বেতনের বাইরে একটি বিশেষ আর্থিক সুবিধা। আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্যে নিরাপত্তা, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম, ব্যাটালিয়ন দায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট অপারেশনাল কাজ রয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওয়েবসাইটে ব্যাটালিয়ন আনসারদের ঝুঁকি ভাতা প্রদানের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে ব্যাটালিয়ন আনসারদের ৩০ শতাংশ হারে ঝুঁকি ভাতা প্রদানের একটি পূর্ববর্তী কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে।

নতুন গেজেটে অবশ্য শতাংশভিত্তিক কাঠামোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পদ ও চাকরিকালের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গেজেট প্রকাশের পর এখন কী হবে

বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই আদেশের ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতার নতুন কাঠামো আনুষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওয়েবসাইটও ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হালনাগাদ করা হয়েছিল এবং সেখানে সাম্প্রতিক দাপ্তরিক নোটিশ প্রকাশিত হচ্ছে।

এখন বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর পদ, গ্রেড, চাকরির বয়স এবং প্রাপ্যতার তারিখ যাচাই করে মাসিক ভাতা নির্ধারণ করতে হবে। ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ায় যাদের ক্ষেত্রে নতুন হার পুরোনো হারের চেয়ে বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বকেয়া বা সমন্বয়ের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

এক নজরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • গেজেট প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • প্রজ্ঞাপনের কার্যকর তারিখ: ১ জানুয়ারি ২০২৬
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্র: আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্ধারিত পদ ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারী
  • ভাতা নির্ধারণের ভিত্তি: পদ/গ্রেড ও চাকরির বয়স
  • চাকরির বয়সের স্তর: ৫ বছর পর্যন্ত, ৫–১০, ১০–১৫, ১৫–২০ এবং ২০ বছর বা তার বেশি
  • সর্বোচ্চ উল্লেখিত মাসিক ঝুঁকি ভাতা: ৬,৪৮০ টাকা
  • সর্বোচ্চ হারটি প্রযোজ্য: গ্রেড-১০ সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/কোম্পানি কমান্ডার/ব্যাটালিয়ন কোয়ার্টার মাস্টারদের ২০ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিকালে
  • মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নয়: নির্দিষ্ট টাকার অঙ্কে নির্ধারিত
  • প্রেষণে থাকা কর্মচারী: একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি/বিশেষ/প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা গ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্দিষ্ট পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকি ভাতার নতুন কাঠামো এখন গেজেটের মাধ্যমে কার্যকর কাঠামো হিসেবে সামনে এসেছে। বিশেষ করে দীর্ঘ চাকরিকালের কর্মচারীদের জন্য পদভেদে ভাতার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি নির্ধারিত হয়েছে। তবে প্রত্যেক কর্মচারীর প্রকৃত প্রাপ্যতা নির্ধারণে গেজেটের পদ, গ্রেড, চাকরিকাল ও প্রযোজ্য শর্ত মিলিয়ে হিসাব করাই হবে চূড়ান্ত বিষয়।

আনসার বাহিনীর ঝুঁকি ভাতা পুনর্নির্ধারণ ২০২৬

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *