পে-স্কেল I গেজেট । প্রজ্ঞাপন । পরিপত্র

বিজিবির সুবেদার মেজর ও তদনিম্ন কর্মচারীদের সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সুবেদার মেজর ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য মাসিক সীমান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নির্ধারিত হার অনুযায়ী কর্মচারীর জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গ্রেড এবং চাকরির বয়স বিবেচনায় নিয়ে সীমান্ত ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে এ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিষয়টি ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। সরকারি প্রেসের গেজেট তালিকাতেও ‘চাকরি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশের তথ্য রয়েছে।

১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হার কার্যকর

গেজেটে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট আদেশের শর্ত অনুযায়ী, পুনর্নির্ধারিত সীমান্ত ভাতার হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। অর্থাৎ ২০২৬ সালে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সীমান্ত ভাতার নতুন হার কার্যকর হচ্ছে না।

৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত অর্থ বিভাগের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রচলিত সীমান্ত ভাতা প্রাপ্য হবে। এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন পুনর্নির্ধারিত হার কার্যকর হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিজিবির সীমান্ত ভাতা জাতীয় পে-স্কেলের সাধারণ ভাতার মতো সরাসরি সব কর্মচারীর জন্য একই অঙ্কে নির্ধারিত হয়নি। বরং গ্রেড ও চাকরির বয়স—দুইটি বিষয়কে ভিত্তি করে পাঁচটি স্তরে হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড ও চাকরির বয়স অনুযায়ী সীমান্ত ভাতা

প্রজ্ঞাপনে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্য সীমান্ত ভাতার পৃথক হার দেওয়া হয়েছে।

গ্রেড৫ বছর ও তদপেক্ষা কম৫+ থেকে ১০ বছর১০+ থেকে ১৫ বছর১৫+ থেকে ২০ বছর২০+ বছর
গ্রেড-২০১,৪৪০১,৮০০২,১৬০২,৬৪০৩,১২০
গ্রেড-১৯১,৫৬০১,৯২০২,২৮০২,৭৬০৩,২৮০
গ্রেড-১৮১,৬৮০২,০৪০২,৪০০২,৮৮০৩,৩৬০
গ্রেড-১৭১,৮০০২,১৬০২,৬৮০৩,০০০৩,৬০০
গ্রেড-১৬১,৯২০২,২৮০২,৭৬০৩,২৮০৩,৬৮০
গ্রেড-১৫২,০৪০২,৪০০২,৮৮০৩,৪৮০৪,০৮০
গ্রেড-১৪২,১৬০২,৬৮০৩,২৮০৩,৮৪০৪,৫৬০
গ্রেড-১৩২,২৮০২,৭৬০৩,৩৬০৪,০৮০৪,৮০০
গ্রেড-১২২,৫২০৩,০০০৩,৬০০৪,৩২০৫,২৮০
গ্রেড-১১২,৬৪০৩,২৪০৩,৬৮০৪,৫৬০৫,৫২০
গ্রেড-১০২,৭৬০৩,৩৬০৩,৯৬০৪,৬৮০৫,৬৮০
গ্রেড-৯২,৮৮০৩,৪৮০৪,০৮০৫,০৮০৬,০০০
গ্রেড-৮৩,০০০৩,৬০০৪,২০০৫,১৬০৬,২৪০
গ্রেড-৭৩,১২০৩,৭২০৪,৩২০৫,২৮০৬,৩৬০
গ্রেড-৬৩,২৪০৩,৮৮০৪,৫৬০৫,৪০০৬,৪৮০

নোট: ওপরের হারগুলো ব্যবহারকারীর দেওয়া ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর গেজেটের স্ক্যান কপি থেকে পাঠোদ্ধার করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ সীমান্ত ভাতা ৬,৪৮০ টাকা

নতুন কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত গ্রেডগুলোর মধ্যে গ্রেড-৬ এবং ২০ বছর বা তার বেশি চাকরির বয়সের কর্মচারী সর্বোচ্চ মাসিক ৬,৪৮০ টাকা সীমান্ত ভাতা পাবেন।

অন্যদিকে গ্রেড-২০ এবং চাকরির বয়স ৫ বছর বা তার কম হলে সীমান্ত ভাতা হবে মাসে ১,৪৪০ টাকা

অর্থাৎ একই গ্রেডের কর্মচারীর ক্ষেত্রেও চাকরির বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত ভাতার পরিমাণ ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পাবে।

উদাহরণ হিসেবে—

  • গ্রেড-২০: ১,৪৪০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩,১২০ টাকা;
  • গ্রেড-১৫: ২,০৪০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪,০৮০ টাকা;
  • গ্রেড-১০: ২,৭৬০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫,৬৮০ টাকা;
  • গ্রেড-৬: ৩,২৪০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬,৪৮০ টাকা।

ফলে নতুন কাঠামোতে উচ্চতর গ্রেড এবং দীর্ঘ চাকরির অভিজ্ঞতা—দুই ক্ষেত্রেই সীমান্ত ভাতার অঙ্ক বেশি রাখা হয়েছে।

কেন গ্রেড ও চাকরির বয়সকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে

সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি সদস্যদের জন্য সীমান্ত ভাতা একটি বিশেষ ধরনের সুবিধা। নতুন কাঠামোতে শুধু পদ বা গ্রেডের ভিত্তিতে নয়, কর্মজীবনের মেয়াদকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে একই গ্রেডের দুই কর্মচারীর চাকরির বয়স আলাদা হলে তাদের সীমান্ত ভাতাও আলাদা হবে।

বিশেষ করে ৫ বছরের কম, ৫ থেকে ১০ বছর, ১০ থেকে ১৫ বছর, ১৫ থেকে ২০ বছর এবং ২০ বছরের বেশি—এই পাঁচটি সময়সীমা রাখা হয়েছে। ফলে চাকরির মেয়াদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী পরবর্তী স্ল্যাবে গিয়ে বেশি সীমান্ত ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

প্রজ্ঞাপনে প্রেষণে নিয়োজিত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মচারী সীমান্ত ভাতা গ্রহণ করলে নিজ নিজ বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা একই সঙ্গে পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

অর্থাৎ একই দায়িত্ব বা পরিস্থিতির জন্য একাধিক বিশেষ সুবিধা একসঙ্গে গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামোয় বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থার জন্য ঝুঁকি, বিশেষ এবং অন্যান্য দায়িত্বভিত্তিক ভাতার পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।

জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর সঙ্গে সম্পর্ক

এখানে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন। জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর সাধারণ আদেশ এবং বিজিবির নিজস্ব বেতন-ভাতা আদেশ এক বিষয় নয়।

বাংলাদেশ সরকারের গেজেট অনুযায়ী, বিজিবির জন্য আলাদা করে ‘চাকরি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। সরকারি প্রেসের প্রকাশিত তথ্যেও এই পৃথক আদেশের নাম ও গেজেট প্রকাশের তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে সাধারণ জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর ক্ষেত্রে বিজিবি কর্মচারীদের বাইরে রাখার বিষয়টি সংবাদ প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বিজিবি সদস্যদের বেতন-ভাতা, বিশেষ সুবিধা ও সীমান্ত ভাতার ক্ষেত্রে বিজিবির নিজস্ব বেতন ও ভাতা আদেশ অনুসরণ করতে হবে।

ভাতা কার্যকর নিয়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

নতুন সীমান্ত ভাতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হলো ১ জানুয়ারি ২০২৮

অর্থাৎ ২০২৬ সালের নতুন বেতন কাঠামো প্রকাশিত হয়েছে বলে সীমান্ত ভাতার নতুন টেবিল ২০২৬ সাল থেকেই কার্যকর হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

গেজেটের শর্ত অনুযায়ী:

১ জুলাই ২০২৬–৩১ ডিসেম্বর ২০২৭:
প্রচলিত বিধান অনুযায়ী সীমান্ত ভাতা।

১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে:
গেজেটে পুনর্নির্ধারিত নতুন হার কার্যকর।

এই কারণে বেতন-ভাতা হিসাবের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের কার্যকর তারিখ অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে

নতুন কাঠামোর সারসংক্ষেপ

নতুন পুনর্নির্ধারণে মোটামুটি তিনটি বিষয় স্পষ্ট—

প্রথমত, বিজিবির সুবেদার মেজর ও তদনিম্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য সীমান্ত ভাতার নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, ভাতা নির্ধারণে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর গ্রেডের পাশাপাশি চাকরির বয়সকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, নতুন হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর, তাই ২০২৬ ও ২০২৭ সালের সীমান্ত ভাতা পুরোনো বিধান অনুযায়ী চলবে।

সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী বিজিবি কর্মচারীদের জন্য চাকরির মেয়াদভিত্তিক ভাতা কাঠামো আরও স্পষ্ট হলো। একই সঙ্গে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে গ্রেড, চাকরির বয়স এবং কার্যকর তারিখ—এই তিনটি বিষয় সঠিকভাবে যাচাই করে ভাতা নির্ধারণ করতে হবে।

সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬; অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ; বাংলাদেশ সরকারি প্রেসের গেজেট প্রকাশনা।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *