আনুতোষিক পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন : ২৫ বছরের বেশি বয়সী ছেলের ক্ষেত্রেও আর নেই বাধা, গেজেট জারি
সরকারি চাকরিজীবীদের আনুতোষিক (Gratuity) প্রদানের বিধানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এস.আর.ও. নং ৩০৯-আইন/২০২৪ অনুযায়ী, আনুতোষিক পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যের সংজ্ঞা (Family) সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ২৫ বছরের বেশি বয়সী পুত্রসন্তানও, মনোনীত হলে বা আইনানুগ উত্তরাধিকারী হিসেবে, আনুতোষিকের অর্থ গ্রহণে আর বয়সজনিত কোনো বাধার মুখে পড়বেন না। সংশোধিত বিধানটি ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
কী পরিবর্তন এসেছে?
সংশোধিত গেজেটে বলা হয়েছে, মৃত্যুজনিত বা অবসরজনিত আনুতোষিক (Death-cum-Retirement Gratuity) প্রদানের উদ্দেশ্যে “Family” বা পরিবারের সংজ্ঞায় নতুন কিছু সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং বিদ্যমান বিধান আরও স্পষ্ট করা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী—
- সরকারি কর্মচারীর স্বামী বা স্ত্রী (Spouse);
- সকল সন্তান (পুত্র, কন্যা ও হিজড়া সন্তান);
- মৃত পুত্রের বিধবা ও সন্তানরা;
- মৃত কন্যার সন্তানরাও এখন পরিবারের সংজ্ঞার আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
ফলে পূর্বের তুলনায় উত্তরাধিকারী নির্ধারণের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং পরিবারের অধিক সদস্য আইনি সুরক্ষা পাচ্ছেন।
২৫ বছরের বেশি বয়সী ছেলের ক্ষেত্রেও আর নেই বয়সের বাধা
এর আগে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ধারণা ছিল যে নির্দিষ্ট বয়স অতিক্রম করলে পুত্রসন্তান আনুতোষিক পাওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন। তবে সংশোধিত বিধানে বয়সভিত্তিক সেই সীমাবদ্ধতা কার্যত তুলে দেওয়া হয়েছে। এখন মনোনয়নপত্রে (Nomination) নাম থাকলে বয়স নির্বিশেষে সন্তান আনুতোষিকের অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
এছাড়া মনোনয়ন না থাকলেও আইন অনুযায়ী উত্তরাধিকারী পরিবারের সদস্যরা আনুতোষিক পাওয়ার অধিকারী হবেন।
মৃত কন্যার সন্তানরাও পেলেন নতুন অধিকার
সংশোধনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি কর্মচারীর মৃত কন্যার সন্তানদেরও পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে সরকারি কর্মচারীর কন্যা আগে মারা গেলে তার সন্তানরাও নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী আনুতোষিকের অংশ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। একইভাবে মৃত পুত্রের বিধবা ও সন্তানদের অধিকারও স্পষ্টভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
মনোনয়ন না থাকলেও কী হবে?
গেজেট অনুযায়ী, যদি কোনো সরকারি কর্মচারী আনুতোষিকের জন্য বৈধ মনোনয়ন দিয়ে না যান, তাহলে সংশোধিত বিধান অনুযায়ী পরিবারের যোগ্য সদস্যদের মধ্যে আইন অনুসারে আনুতোষিকের অর্থ বণ্টন করা হবে।
অর্থাৎ, শুধু মনোনয়নই নয়, আইনগত উত্তরাধিকারীর অধিকারও এখন আরও স্পষ্টভাবে সুরক্ষিত হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংশোধনের ফলে—
- আনুতোষিক বণ্টন নিয়ে পারিবারিক জটিলতা কমবে।
- প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের অধিকার নিশ্চিত হবে।
- মৃত কন্যার সন্তানদের আইনি স্বীকৃতি মিলবে।
- সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
- আধুনিক পারিবারিক বাস্তবতার সঙ্গে পেনশন ও আনুতোষিক বিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
উপসংহার
এস.আর.ও. নং ৩০৯-আইন/২০২৪-এর মাধ্যমে সরকার আনুতোষিক প্রদানের বিধানে একটি যুগোপযোগী সংশোধন করেছে। বিশেষ করে ২৫ বছরের বেশি বয়সী পুত্রসন্তানের ক্ষেত্রে বয়সজনিত বাধা দূর করা, মৃত কন্যার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং মনোনয়ন না থাকলেও আইনানুগ উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিশ্চিত করা—এই পরিবর্তনগুলো সরকারি চাকরিজীবীদের পরিবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


