বিয়ের প্রলোভন ও অনৈতিক সম্পর্কের দায়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার বরখাস্ত
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, প্রতারণা এবং নৈতিক স্খলনজনিত গুরুতর অপরাধের অভিযোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার জনাব মোঃ শরিফুল ইসলামকে সরকারি চাকরি হতে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বেগম সুমাইয়া আক্তার নামক এক নারী মোঃ শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক হয়রানি এবং সাইবার ক্রাইমের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে জানা যায় যে, শরিফুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীর সাথে দীর্ঘকাল সম্পর্ক বজায় রাখেন। এমনকি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিষয়টি গোপন রেখে অভিযোগকারিণীর সাথে বিবাহ-বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক চালিয়ে যান।
তদন্তে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্ত প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুতর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে:
ভ্রূণ হত্যার প্ররোচনা: শরিফুল ইসলাম মৌখিকভাবে অস্বীকার করলেও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিংয়ের স্ক্রিনশট থেকে প্রমাণিত হয় যে, তিনি অভিযোগকারিণীর গর্ভধারণের বিষয়টি জানতেন এবং তাকে গর্ভপাতের ওষুধ সেবন করতে প্ররোচিত করেছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রমাণ: চট্টগ্রামের এডমিন রিসোর্টের সিসিটিভি ফুটেজে বিভিন্ন সময়ে তাদের একান্ত সময় কাটানোর প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভয়ভীতি প্রদর্শন: শরিফুল ইসলাম বিয়ের পর তার আগের এই সম্পর্কের কথা গোপন রাখেন এবং ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করলে তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ ও বলপ্রয়োগ করেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়।
এর আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) দেওয়া হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত শুনানিও গ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে কেন চাকরি হতে বরখাস্ত করা হবে না—এই মর্মে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হলে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে ব্যর্থ হন।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) শরিফুল ইসলামকে ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ এর গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে একমত পোষণ করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ এহছানুল হক স্বাক্ষরিত এই আদেশে তাকে অবিলম্বে বরখাস্তের নির্দেশ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
এই আদেশটি অনুলিপি আকারে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।



