সরকারি চাকরিজীবীর NOC ছাড়া পাসপোর্ট: চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশযাত্রা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
সরকারি চাকরিজীবীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট, ভিসা, এনওসি (No Objection Certificate) এবং জিও (Government Order) সংক্রান্ত বিধান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মচারী তার অসুস্থ বাবার চিকিৎসার সহায়ক হিসেবে ভারতে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে প্রশ্ন তোলেন—NOC ছাড়া পাসপোর্ট করা থাকলে ভবিষ্যতে চাকরিজীবনে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে কি না।
বিষয়টি ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা মতামত ও উদ্বেগ দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, মানবিক কারণে বিদেশযাত্রার প্রয়োজন থাকলেও সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করলে পরবর্তীতে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
NOC ও জিও কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণ, বিশেষ করে সরকারি পরিচয়ে পাসপোর্ট বা বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ সফর ও পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর নির্দেশনা জারি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশযাত্রার সরকারি আদেশে (জিও) পাসপোর্ট নম্বর উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যাতে কোন ধরনের পাসপোর্ট ব্যবহার করা হচ্ছে তা স্পষ্ট থাকে।
এছাড়া ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনায় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পৃথক প্রক্রিয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে কী বলছেন চাকরিজীবীরা?
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নধর্মী মতামত পাওয়া গেছে। অনেকের মতে, NOC ছাড়া পাসপোর্ট করা সরকারি কর্মচারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বিভাগীয় জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী পরামর্শ দিয়েছেন, ভিসা আবেদনের আগে যথাযথভাবে NOC সংগ্রহ করা এবং প্রয়োজনে জিও নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। তাদের যুক্তি, চিকিৎসাজনিত জরুরি প্রয়োজন থাকলেও প্রশাসনিক অনুমোদন থাকলে ভবিষ্যতে কোনো প্রশ্ন উঠবে না।
অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করেন ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজনে সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশে যাওয়া অনেক সময় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সংশ্লিষ্টদের বড় অংশই স্বীকার করেছেন যে সরকারি নিয়ম অনুসরণ না করলে ঝুঁকি থেকেই যায়।
বিশেষজ্ঞদের মত
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণ ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিধানকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। কোনো কারণে NOC ছাড়া পাসপোর্ট করা হয়ে থাকলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিক সমাধানের চেষ্টা করা উচিত।
তাদের মতে, চিকিৎসার মতো মানবিক কারণ থাকলে কর্তৃপক্ষ সাধারণত প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করে। ফলে গোপনীয়তার পরিবর্তে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই নিরাপদ।
করণীয় কী?
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতে—
- পাসপোর্ট হয়ে থাকলেও বিদেশযাত্রার আগে নিজ দপ্তরকে অবহিত করা।
- প্রয়োজনীয় NOC সংগ্রহের চেষ্টা করা।
- চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র সংরক্ষণ করা।
- ভিসা আবেদনের সময় প্রকৃত তথ্য প্রদান করা।
- বিদেশযাত্রার ক্ষেত্রে বিভাগীয় বিধি-বিধান মেনে চলা।
উপসংহার
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য NOC, জিও ও বিদেশযাত্রা সংক্রান্ত নিয়মাবলি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক জটিলতা এড়ানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। বিশেষ করে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতেও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে পরবর্তীতে চাকরি বা বিভাগীয় বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। সংশ্লিষ্টদের মতে, “সময় লাগলেও নিয়ম মেনে এগোনোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।”



