পেনশন । লাম্পগ্র্যান্ট I পিআরএল

পারিবারিক পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা: ১৫ বছরের গ্যারান্টি পিরিয়ড ও সন্তানদের অধিকার

সরকারি কর্মচারীর মৃত্যু পরবর্তী পারিবারিক পেনশন বণ্টন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী এবং পরবর্তীতে সন্তানদের কতদিন পর্যন্ত এই সুবিধা বহাল থাকবে, তা নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক বিধিমালা জানা জরুরি। বর্তমান পেনশন সহজীকরণ বিধিমালা ২০২০ অনুযায়ী, এই সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে।

১. ১৫ বছরের গ্যারান্টি পিরিয়ড ও অবশিষ্ট সময়

সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, একজন পেনশনার বা তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা স্বামী পেনশন শুরু হওয়ার তারিখ থেকে সর্বনিম্ন ১৫ বছর পর্যন্ত ‘গ্যারান্টিড’ পেনশন সুবিধা পান।

আপনার ক্ষেত্রে, মৃত কর্মচারীর স্ত্রী ৯ বছর পর্যন্ত এই সুবিধা ভোগ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী:

  • মোট গ্যারান্টি পিরিয়ড: ১৫ বছর

  • গৃহীত সময়: ৯ বছর

  • অবশিষ্ট সময়: ৬ বছর (15 – 9 = 6)

এই অবশিষ্ট ৬ বছর সময়কাল পর্যন্ত মৃত কর্মচারীর সন্তানেরা মাসিক পেনশন ও নির্ধারিত চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

২. সন্তানদের বয়স ও যোগ্যতার মাপকাঠি

পেনশন বিধিমালায় পুত্র সন্তানদের ক্ষেত্রে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণত ২৫ বছর পর্যন্ত পুত্র সন্তানেরা পেনশন পাওয়ার যোগ্য হন। তবে ১৫ বছরের গ্যারান্টি পিরিয়ড অবশিষ্ট থাকলে চিত্রটি নিম্নরূপ হয়:

  • ২৩ বছর বয়সী ছোট পুত্র: তিনি বর্তমানে পেনশন পাবেন। যেহেতু তার বয়স ২৫ হতে আরও ২ বছর বাকি, তাই তিনি আপাতত ২ বছর নিয়মিত নিয়মে পেনশন পাবেন। তবে গ্যারান্টি পিরিয়ড অবশিষ্ট থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ বিবেচনায় অবশিষ্ট সময়টুকুও (৬ বছর পর্যন্ত) সুবিধা পাওয়ার দাবিদার হতে পারেন।

  • ২৮ বছর বয়সী বড় পুত্র: সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ২৫ বছর অতিক্রম করায় তিনি পেনশনের অযোগ্য। তবে পরিবারের অন্য কোনো যোগ্য সদস্য না থাকলে এবং গ্যারান্টি পিরিয়ড অবশিষ্ট থাকলে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনার সুযোগ থাকে।

  • ব্যতিক্রম (প্রতিবন্ধী সন্তান): যদি কোনো সন্তান শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী হন এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের যথাযথ সনদ থাকে, তবে তিনি বয়স নির্বিশেষে আজীবন পেনশন সুবিধা পাবেন।

৩. নাতি-নাতনিদের পেনশন প্রাপ্তি প্রসঙ্গে

আপনার প্রশ্নে উঠে এসেছে যে, দাদার পেনশনের অংশ নাতি-নাতনিরা পাবে কি না। বিধিমালার বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী:

  • পেনশন সুবিধা মূলত মৃত কর্মচারীর স্ত্রী/স্বামী এবং সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত।

  • ছেলের মৃত্যুর পর তার সন্তানদের (অর্থাৎ মৃত কর্মচারীর নাতি-নাতনি) এই পেনশন পাওয়ার সরাসরি কোনো বিধান সাধারণ তালিকায় নেই। পেনশন সাধারণত কর্মচারীর স্ত্রী বা সন্তানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

৪. অন্যান্য এককালীন ও মাসিক সুবিধা

পেনশন ছাড়াও মা (যিনি পেনশন ভোগী ছিলেন) মারা যাওয়ার পর সন্তানেরা আরও কিছু আর্থিক সুবিধা পাবেন:

  • দাফন-কাফন অনুদান: মৃত পেনশনারের (মা) দাফন-কাফন বাবদ পরিবার এককালীন ২০,০০০ টাকা পাবেন।

  • মাসিক কল্যাণ ভাতা: পরিবারের যোগ্য সদস্য (এক্ষেত্রে ২৩ বছর বয়সী পুত্র) সংশ্লিষ্ট কল্যাণ তহবিল থেকে নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ৩,০০০ টাকা বা বিধি মোতাবেক) মাসিক কল্যাণ ভাতা পেতে পারেন।


পরামর্শ: অবশিষ্ট ৬ বছরের পেনশন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (মায়ের মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ কায়েম সনদ এবং আবেদনকারীর পরিচয়পত্র) সহ সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হলো।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *