৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

দুই ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে সরকার, জুলাই এর মাঝামাঝিতে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা?

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। সরকার দুই ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। তবে প্রথম ধাপেই সম্পূর্ণ নতুন মূল বেতন (Basic Pay) কার্যকর করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে।

চলতি সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়ছে রোডম্যাপ

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটি চলতি সপ্তাহেই পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।

এই কমিটি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই গেজেট

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন মিললে জুলাইয়ের মাঝামাঝি কিংবা তার পরের সপ্তাহে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাস্তবায়নের কাঠামো চূড়ান্ত হলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই দেওয়া হবে।

কেন একবারেই সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকরের সুপারিশ?

প্রাথমিকভাবে সরকার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে তিন বছর ও দুই বছর—দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল।

তিন বছরের পরিকল্পনায় প্রথম দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে কার্যকর এবং তৃতীয় বছরে বিভিন্ন ভাতা বাস্তবায়নের প্রস্তাব ছিল।

তবে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, দুই ধাপে মূল বেতন কার্যকর করলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেম (IBAS++)-এ কারিগরি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য একবারেই নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।

ফলে সামগ্রিকভাবে পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়িত হলেও প্রথম ধাপেই সম্পূর্ণ নতুন মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়তে পারে?

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী—

  • ১ম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডে গড়ে প্রায় ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
  • সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন গ্রেডে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
  • পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।

বাজেটে রাখা হয়েছে ৪৪ হাজার কোটি টাকা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তব্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দিলেও বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।

তিনি বলেন, গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একই বেতন কাঠামোর আওতায় রয়েছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

কোথায় ব্যয় হবে এই বরাদ্দ?

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, ৪৪ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকায়।

এই অর্থ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

অষ্টম পে-স্কেলের অভিজ্ঞতা

এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলও দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। প্রথম বছরে সংশোধিত মূল বেতন এবং পরবর্তী বছরে সংশোধিত বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়।

বর্তমানে সরকার প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।

কী অপেক্ষা করছে এখন?

নবম জাতীয় পে-স্কেলের ভবিষ্যৎ এখন প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। অনুমোদন মিললে জুলাই মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ এবং নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য ও সম্ভাব্য বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রস্তুত। সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে বেতন বৃদ্ধি, বাস্তবায়নের ধাপ বা সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *