৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নবম জাতীয় পে-স্কেল: মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রস্তুতি, অক্টোবরে গেজেটের লক্ষ্য?

আইএমএফের দুই বছর পেছানোর পরামর্শ এবং নানামুখী অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ পাশ কাটিয়ে নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে জোরালোভাবে এগোচ্ছে সরকার। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে কিংবা আগামী সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী অক্টোবরেই এর গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

১৫ লাখ কর্মচারী ও পেনশনভোগী আওতায় আসছেন দীর্ঘ এক দশক ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর থেকে দেশের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসা ভাড়া, চিকিৎসা খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেলের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জোরালো ছিল। প্রস্তাবিত এই নতুন পে-স্কেলের আওতায় দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কয়েক লাখ পেনশনভোগী নতুন বেতন কাঠামোর সুফল পেতে পারেন।

বেতন কাঠামো ও গ্রেডভিত্তিক সম্ভাব্য পরিবর্তন অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। সচিব কমিটির সুপারিশ, আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়ন কৌশল এবং আইএমএফের আপত্তি নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাজেটের ওপর এককালীন চাপ কমাতে প্রয়োজনে ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনাধীন রয়েছে।

তবে এখনো নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত বেতন কাঠামো বা সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রকাশিত না হওয়ায় নির্দিষ্ট কোনো অংককে চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না। প্রস্তাবিত কাঠামোতে প্রথম থেকে ২০তম—সব গ্রেডের মূল বেতনই পুনর্নির্ধারণের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মূল বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন আছে। বিশেষ করে, নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান সুরক্ষায় তাদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গ্রেডের বেতন বা অংককে চূড়ান্ত হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আইএমএফের আপত্তি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে পর্যাপ্ত অর্থের যোগান বা সংস্থান। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই নতুন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় অন্তত ৮২ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। শুধু মূল বেতন নয়, এর সঙ্গে পেনশন, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা যুক্ত হলে প্রকৃত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।

এই আর্থিক চাপের কারণেই আপত্তি জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কায় পে-স্কেলের বাস্তবায়ন অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল সংস্থাটি। তবে সেই পরামর্শ আমলে না নিয়ে পে-স্কেল চালুর পক্ষেই অনড় রয়েছে সরকার। প্রশাসনের দক্ষ ও মেধাবী জনবল ধরে রাখা এবং কর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে নতুন পে-স্কেল প্রয়োজন বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে খুব শীঘ্রই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব। সেখানে কাঙ্ক্ষিত অনুমোদন মিললে আগামী অক্টোবরেই গেজেট প্রকাশের পথ সুগম হতে পারে। তবে কোন গ্রেডে ঠিক কত টাকা বেতন বাড়বে এবং এটি কবে থেকে কার্যকর হবে, তার সুনির্দিষ্ট চিত্র গেজেট প্রকাশের পরই পুরোপুরি পরিষ্কার হবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *