নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশে অনিশ্চয়তা: আইএমএফের স্থগিতের পরামর্শ ও সরকারের নতুন পর্যালোচনা
সরকারি চাকরিজীবীদের বহু প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষার পর আগামী মাসের শুরুতেই নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের আশা করা হলেও শেষ মুহূর্তে এসে পুরো চিত্রে পরিবর্তন এসেছে।
সচিবালয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও নতুন নির্দেশনা
সম্প্রতি সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে টানা পাঁচ ঘণ্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে নতুন পে স্কেলের সার্বিক রূপরেখা ও আর্থিক বিষয়াবলী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের বদলে বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে আপাতত পে স্কেলের গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
আইএমএফের দুই বছর স্থগিতের সুপারিশ
পে স্কেল ঝুলে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অবস্থান। বাংলাদেশ সফরকালে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি নতুন পে স্কেল অন্তত দুই বছর স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে বলে তথ্য মিলেছে। বিশ্বব্যাপি চলমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের চ্যালেঞ্জ এবং সরকারের নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সংস্থাটি এই পরামর্শ দেয়। সরকার আইএমএফের পরামর্শ হুবহু মেনে না নিলেও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ এড়াতে কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে। আগামী অক্টোবরে থাইল্যান্ডে আইএমএফের বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে; মূলত ওই বৈঠকের পর পে স্কেলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ ও অতিরিক্ত আর্থিক চাপ
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও নতুন পে স্কেল না হওয়া এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ উপস্থাপন করেছিল। তবে এই নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর ওপর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির নতুন আশঙ্কায় অর্থ মন্ত্রণালয় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চলতি বাজেটে বরাদ্দ ও বকেয়া সুবিধার আশ্বাস
তবে পে স্কেল বাস্তবায়নে বিলম্ব হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের আশা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। চলতি জাতীয় বাজেটে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অতিরিক্ত ৪,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশে দেরি হলেও নতুন বেতন কাঠামো শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে তা চলতি বছরের জুলাই মাস থেকেই প্রযোজ্য হবে। এতে চাকরিজীবীরা পরবর্তীতে বকেয়া (Arrears) হিসেবে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাবেন।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও আইএমএফের সুপারিশের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সরকার কবে নাগাদ নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছেন দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী।



