মন্ত্রিসভার বৈঠকে বহুল প্রত্যাশিত ৯ম পে-স্কেল প্রস্তাব অনুমোদন: সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ঐতিহাসিক সুখবর
দেশের প্রায় ১৫ থেকে ১৬ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুমোদন পেল নবম জাতীয় বেতন স্কেল (৯ম পে-স্কেল)। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত নিয়মিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই যুগান্তকারী প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।
সরকার গঠনের মাত্র ছয় মাসের মাথায় জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় এই বড় সিদ্ধান্তটি নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। নতুন এই পে-স্কেল চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বেতন কাঠামোর মূল বৈশিষ্ট্য ও গ্রেডভিত্তিক বিন্যাস
দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় পর প্রণীত এই নতুন পে-স্কেলে নিম্ন ও উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের বৈষম্য কমিয়ে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী:
নিম্ন গ্রেড (১০ম থেকে ২০তম গ্রেড): এই গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উচ্চ গ্রেড (১ম থেকে ৯ম গ্রেড): প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে, যার ফলে সর্বোচ্চ মূল বেতন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা পর্যন্ত উন্নীত হতে পারে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর যেন বিরূপ কোনো প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন বেতন কাঠামোটি কার্যকর করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এবং অন্যান্য বেসরকারি খাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে সচিব কমিটি ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ অনুযায়ী এটি নির্দিষ্ট ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে মূল বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরবর্তীতে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধাগুলো যুক্ত করা হবে।
অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নতুন পে-স্কেল না দেওয়ায় কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছিল। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে এই বেতন বৃদ্ধি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যৌক্তিক পদক্ষেপ। তবে এর ফলে অর্থনীতিতে যাতে অতিরিক্ত মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকারকে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজার সিন্ডিকেট কঠোর হাতে দমনের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্ত্রিসভার এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের প্রেস ব্রিফিংয়ে গেজেট প্রকাশ ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া (যেমন আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং) সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমেই দেশের বিশাল সংখ্যক সরকারি চাকরিজীবীর বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হতে যাচ্ছে।



