৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

অবশেষে পে-স্কেলের পূর্ণাঙ্গ গেজেট: ১ জুলাই থেকে কার্যকর, ২০২৭ সালের জুলাইয়ে শতভাগ বেতন

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬–এর পূর্ণাঙ্গ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বেতন নির্ধারণ, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়ক, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইলসহ বিভিন্ন ভাতা এবং অনলাইনে বেতন ফিক্সেশনের বিস্তারিত নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে

ধাপে ধাপে নতুন বেতন পাওয়ার বিধান

নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নতুন নির্ধারিত বেতনের পুরো পার্থক্য একসঙ্গে না দিয়ে দুই ধাপে বেতন বৃদ্ধির সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেলে নির্ধারিত নতুন বেতন ও ৩০ জুন ২০২৬-এর বর্তমান বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ৫০ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বর্তমান বেতনের সঙ্গে যোগ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ওই পার্থক্যের ৭০ শতাংশ ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব এবং ৭৫ শতাংশ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে প্রদান করা হবে।

সবশেষে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ নতুন মূল বেতন শতভাগ কার্যকর হবে। একই সঙ্গে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য বেতন বকেয়া হিসেবে পাওয়ার কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।

অর্থাৎ, নতুন বেতন কাঠামোর আর্থিক সুবিধা কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়াটি তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে—জুলাই ২০২৬, জানুয়ারি ২০২৭ এবং জুলাই ২০২৭

২০ গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামো

প্রজ্ঞাপনের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে ২০১৫ সালের বিদ্যমান বেতনস্কেলের বিপরীতে ২০২৬ সালের নতুন অনুরূপ স্কেল নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পুরোনো স্কেল বিলুপ্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেল কার্যকর হবে।

নতুন কাঠামোতে—

  • ১ম গ্রেড: ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারিত
  • ২য় গ্রেড: ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা পর্যন্ত
  • ৩য় গ্রেড: ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত
  • ৪র্থ গ্রেড: ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত
  • ৫ম গ্রেড: ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত
  • ৮ম গ্রেড: ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত
  • ৯ম গ্রেড: ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত
  • ১০ম গ্রেড: ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত
  • ১১তম গ্রেড: ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত
  • ২০তম গ্রেড: ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

কীভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে

নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রেও প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মচারী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা অন্য কোনো স্কেলে বেতন পেতেন, ১ জুলাই থেকে তার বিপরীতে নির্ধারিত নতুন অনুরূপ স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

কর্মচারী যদি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে তাঁর বেতন নির্ধারিত হবে। আর প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে পুরোনো স্কেলে তাঁর বর্তমান বেতন ও প্রারম্ভিক বেতনের পার্থক্য বের করে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে। সেই অঙ্ক নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

আট বছর পর উচ্চতর গ্রেড

নতুন আদেশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত উচ্চতর গ্রেডের নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে

কোনো স্থায়ী কর্মচারী পদোন্নতি ছাড়া একই পদে ৮ বছর পূর্ণ করলে, চাকরি সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে ৯ম বছরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদের মূল স্কেলের পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এই উচ্চতর গ্রেডকে পদোন্নতি হিসেবে গণ্য করা হবে না।

এরপর প্রথম উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও ৬ বছর পদোন্নতি ছাড়া চাকরি করলে ৭ম বছরে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এই সুবিধা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে প্রযোজ্য হবে এবং পূর্ববর্তী বেতনস্কেলে একই পদে একাধিক সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পাওয়া থাকলে নতুন করে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

পেনশনেও নতুন কাঠামোর প্রভাব

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন বেতনস্কেলের ভিত্তিতে নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণের বিধান রয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বিদ্যমান নিট পেনশন স্ল্যাব অনুযায়ী নতুন নিট পেনশন বৃদ্ধির পার্থক্যের ৪০ শতাংশ বা ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত তা যথাক্রমে ৭০ শতাংশ ও ৭৫ শতাংশ হবে। এরপর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে নতুন নিট পেনশন পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করা হয়েছে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বিলুপ্ত হবে। তবে অবসর-উত্তর ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিয়ে পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।

অবসর-উত্তর ছুটি ও ছুটি নগদায়ন

নতুন আদেশে ছুটির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান ছুটির বিধান অনুযায়ী কোনো কর্মচারী ছুটি পাওনা সাপেক্ষে ১২ মাস পূর্ণ গড় বেতনে অবসর-উত্তর ছুটি এবং ১৮ মাস ছুটি নগদায়নের সুবিধা পাবেন।

এ ছাড়া সকল কর্মচারীর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই। নতুন যোগদানকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাসের যোগ্যতাসম্পন্ন চাকরি থাকলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

নতুন নিয়োগে বিশেষ সুবিধা

১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরে প্রথম নিয়োগ পাওয়া কর্মচারীদের জন্যও নতুন বেতনস্কেলে প্রারম্ভিক বেতন নির্ধারণের নিয়ম দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে ৯ম গ্রেড বা তদূর্ধ্ব স্কেলের কিছু পদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে এক বা দুইটি অগ্রিম বেতনবৃদ্ধির বিধান রাখা হয়েছে। এমবিবিএস, ইঞ্জিনিয়ারিং, স্থাপত্যসহ নির্দিষ্ট যোগ্যতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করলে অগ্রিম ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া ৯ম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত বিসিএস ক্যাডারদের একটি অতিরিক্ত অগ্রিম বেতনবৃদ্ধির সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিপিএসসির সুপারিশে ৯ম গ্রেডে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বেতন ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণের বিধান রাখা হয়েছে।

চিকিৎসা ভাতা বাড়ল, বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ

নতুন আদেশে চিকিৎসা ভাতার কাঠামোও নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মরত কর্মচারীরা ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসে ৩ হাজার টাকা এবং ৫০ বছর এক দিন থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসে ৪ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।

অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্য বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে—

  • ৫০ বছর পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা
  • ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর: ৪,০০০ টাকা
  • ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর: ৫,০০০ টাকা
  • ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে: ৬,০০০ টাকা।

এ ছাড়া সব কর্মচারী আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা পাবেন।

বাড়িভাড়া ভাতায় নতুন হার ২০২৮ থেকে

১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বাড়িভাড়া ভাতা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে পাওয়া যেত, সেই হারেই দেওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন হারে বাড়িভাড়া ভাতা কার্যকর হবে। এ ক্ষেত্রে কর্মস্থলের অবস্থান এবং গ্রেডভেদে ভিন্ন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় গ্রেড ২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড ১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত মূল বেতনের ৬০ শতাংশ, গ্রেড ১৫ থেকে গ্রেড ১০ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ, গ্রেড ৯ থেকে গ্রেড ৫ পর্যন্ত ৪৫ শতাংশ এবং গ্রেড ৪ থেকে গ্রেড ১ ও তদূর্ধ্বে ৪০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতার বিধান রাখা হয়েছে।

অন্যান্য নির্ধারিত সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার জন্য হার তুলনামূলক কম এবং অন্যান্য স্থানের জন্য আরও ভিন্ন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

১১-২০ গ্রেডে টিফিন ও যাতায়াত ভাতা

নতুন বেতনস্কেলে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসিক ৫০০ টাকা টিফিন ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে লাঞ্চ ভাতা বা বিনামূল্যে দুপুরের খাবার পাওয়া গেলে টিফিন ভাতা প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মস্থল হলে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মাসিক ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা মাসে ৫০০ টাকা, আর ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতা পাবেন।

কার্যভার, পাহাড়ি ও হাওড়-দ্বীপ-চর ভাতা

চলতি বা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী কর্মচারীদের জন্য মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা কার্যভার ভাতা রাখা হয়েছে।

পার্বত্য জেলায় কর্মরতদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার বা ৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পাহাড়ি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে হাওড়, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরত কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণে থাকা ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে মাসিক প্রেষণ ভাতা পাবেন।

প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতাও নির্ধারিত

নতুন আদেশে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য সন্তানপ্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে একই বিষয়ে অন্য কোনো প্রতিবন্ধিতা-সংশ্লিষ্ট ভাতা গ্রহণ না করার শর্ত রয়েছে।

কিছু প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ভাতা বাড়বে ২০ শতাংশ

এনএসআই, ডিজিএফআই, এসএসএফ, পিজিআর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগের নির্দিষ্ট কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ভাতা, বিশেষ গার্ড ভাতা, ক্ষতিপূরণ ভাতা বা ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে ৩০ জুন ২০২৬-এ পাওয়া নির্ধারিত অঙ্কের ওপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।

তবে এই ভাতা নতুন বেতনস্কেলের মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত হবে না এবং প্রেষণে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শর্ত প্রযোজ্য হবে।

অনলাইনেই হবে নতুন বেতন ফিক্সেশন

পে-স্কেলের বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তনগুলোর একটি হলো অনলাইনে বেতন নির্ধারণ

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতনস্কেল জারির পর সরকারি কর্মচারীদের iBAS++ সিস্টেমের Pay Fixation অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ছক পূরণ করতে হবে। গেজেটেড কর্মচারীরা iBAS++ লগইন ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ ও নিবন্ধিত মোবাইলে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে প্রবেশের বিধান রাখা হয়েছে।

তথ্য পূরণ করে ডিডিওর কাছে সাবমিট করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস পাওয়ার কথা রয়েছে। সিস্টেমে তথ্য দেওয়ার পর নতুন বেতনস্কেলে নির্ধারিত মূল বেতনের অঙ্কও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হবে।

হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে বেতন নির্ধারণ অনুমোদন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর জেনারেট হবে। এ ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণী বিবরণীতে হিসাবরক্ষণ অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীর ম্যানুয়াল স্বাক্ষরের প্রয়োজন হবে না। চূড়ান্তভাবে প্রতিপাদিত বেতন নির্ধারণী বিবরণীর ভিত্তিতেই বেতন পরিশোধ করা হবে এবং ভুলক্রমে কম বা বেশি পরিশোধ হলে তা সমন্বয়যোগ্য হবে।

২০১৫ সালের বেতন আদেশ বাতিল

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫ বাতিল করা হয়েছে। তবে পুরোনো আদেশের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত যেসব বিধান নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ সীমায় কার্যকর থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক নজরে নতুন পে-স্কেলের গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি

বিষয়কার্যকর সময়
জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬১ জুলাই ২০২৬
প্রথম ধাপে বেতন পার্থক্য১ জুলাই–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬
দ্বিতীয় ধাপে বেতন পার্থক্য১ জানুয়ারি–৩০ জুন ২০২৭
শতভাগ নতুন মূল বেতন১ জুলাই ২০২৭
নতুন হারে বাড়িভাড়া১ জানুয়ারি ২০২৮
বিশেষ সুবিধানতুন বেতনস্কেল কার্যকরের সঙ্গে বিলুপ্ত
বার্ষিক ইনক্রিমেন্টপ্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন, ১ জুলাই

সার্বিকভাবে, ১৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এই ১৯ পৃষ্ঠার গেজেটে শুধু নতুন বেতনস্কেল ঘোষণা করা হয়নি; বরং সরকারি কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন থেকে ইনক্রিমেন্ট, উচ্চতর গ্রেড, পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, টিফিন, যাতায়াত, মোবাইল ও বিভিন্ন বিশেষ ভাতার পূর্ণাঙ্গ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এখন নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়নের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে বেতন ফিক্সেশন এবং iBAS++-এ নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা।

PDF Link Download: Pay Scale 2026

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *