জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬: ২৮ অক্টোবর থেকে নতুন বেতনের বিল দাখিল, জুলাই-সেপ্টেম্বরের বকেয়া যেভাবে মিলবে
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে iBAS++ সিস্টেমে অনলাইনে বেতন বিল দাখিল করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাশাপাশি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়েছে।
প্রদত্ত সময়সূচি অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে যেসব সরকারি কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী অনুমোদিত হয়েছে, তাঁরা ২৮ অক্টোবর বেতন বিল দাখিল করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে অনলাইনে বিল দাখিলের কার্যক্রম সকাল ৯টার পর iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রক্রিয়ায় বেতন নির্ধারণ, অনুমোদন, বিল দাখিল এবং বকেয়া সমন্বয়—এই চারটি বিষয় সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যাঁদের পে-ফিকেশন সম্পন্ন হয়েছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন বিল দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
২৮ অক্টোবর থেকে অনলাইনে বেতন বিল দাখিল
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের ক্ষেত্রে ২৮ অক্টোবর একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণী অনুমোদন পাওয়া কর্মচারীরা এদিন থেকে iBAS++ সিস্টেম ব্যবহার করে বেতন বিল দাখিল করতে পারবেন।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত হিসাবরক্ষণ অফিস কর্তৃক বেতন নির্ধারণী অনুমোদিত হওয়া কর্মচারীদের জন্য এই সময়সূচি প্রযোজ্য। অর্থাৎ, যাঁদের বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে বিল দাখিলের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারবেন।
তবে বেতন নির্ধারণী অনুমোদিত হওয়া এবং বেতন বিল দাখিল সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। অনুমোদনের পরও সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রয়োজনীয় যাচাই, বেতন বিল প্রস্তুত এবং দাখিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
সকাল ৯টার পর iBAS++-এ বিল দাখিলের সুযোগ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ব্যবস্থাপনায় iBAS++ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত বেতন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই সিস্টেমের মাধ্যমে বেতন বিল প্রস্তুত ও দাখিলের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর সকাল ৯টার পর অনলাইনে বেতন বিল দাখিল করা যাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ডিডিও এবং হিসাব শাখাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখতে হবে।
বেতন বিল দাখিলের আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা জরুরি। যেমন—
- সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণী অনুমোদিত হয়েছে কি না।
- অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী অনুযায়ী মূল বেতন ও অন্যান্য প্রাপ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে কি না।
- কর্মচারীর পদবি, বেতন গ্রেড এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য সঠিক রয়েছে কি না।
- দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করেছেন কি না।
- iBAS++ সিস্টেমে বিল প্রস্তুত ও দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে কি না।
এসব বিষয় আগে থেকে যাচাই করা হলে বেতন বিল দাখিলের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা কমানো সম্ভব।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের বকেয়া বেতন-ভাতা কীভাবে পরিশোধ হবে?
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসের প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ এবং পরবর্তী সময়ে সমন্বয়যোগ্য হবে।
এখানে ম্যানুয়ালি পরিশোধ বলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রচলিত আর্থিক বিধি, অনুমোদন এবং হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বকেয়ার বিল প্রস্তুত ও নিষ্পত্তির ব্যবস্থা বোঝানো হয়েছে। তবে ঠিক কোন পদ্ধতিতে, কোন দপ্তরের মাধ্যমে এবং কত দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও দপ্তরভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
বকেয়া বেতন-ভাতা হিসাব করার সময় কর্মচারীর পূর্ববর্তী মূল বেতন, নতুন বেতন নির্ধারণী, সংশ্লিষ্ট মাসগুলোর প্রাপ্য বেতন এবং ইতোমধ্যে পরিশোধিত অর্থ বিবেচনায় নিতে হবে। কোনো কর্মচারী যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আংশিক বর্ধিত বেতন বা অন্য কোনো প্রাপ্য অর্থ পেয়ে থাকেন, তাহলে হিসাব চূড়ান্ত করার সময় তা সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে।
এ কারণে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বকেয়া হিসাব করার ক্ষেত্রে অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী এবং সংশ্লিষ্ট মাসের বেতন বিবরণী সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বেতন নির্ধারণী অনুমোদন না হলে কী করবেন?
যেসব সরকারি কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী এখনো অনুমোদিত হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে ২৮ অক্টোবরের নির্ধারিত সময়সূচি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
এ অবস্থায় কর্মচারীদের প্রথমে নিজ নিজ দপ্তরের হিসাব শাখা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের অবস্থা, কোনো তথ্যগত অসংগতি রয়েছে কি না এবং অনুমোদনের জন্য অতিরিক্ত কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করতে হবে।
পে-ফিকেশনে তথ্যগত ভুল, পদবি বা গ্রেডের অসংগতি কিংবা সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদর্শিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমস্যাটি শনাক্ত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুমোদন না পাওয়া অবস্থায় বিল দাখিলের সুযোগ রয়েছে কি না, তা অনুমান করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না। এ ক্ষেত্রে দপ্তর বা হিসাবরক্ষণ অফিসের প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
iBAS++-এ সমস্যা হলে করণীয়
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন বিল দাখিলের সময় সিস্টেমে চাপ, তথ্যের অসংগতি কিংবা অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট সমস্যা সব কর্মচারীর ক্ষেত্রে ঘটবে, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
বিল দাখিল করতে গিয়ে সমস্যা হলে প্রথমে কর্মচারীর বেতন নির্ধারণী অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ডিডিও বা হিসাব শাখার সহায়তায় সমস্যার ধরন শনাক্ত করতে হবে।
সিস্টেমে কোনো ত্রুটির বার্তা দেখালে তার স্ক্রিনশট বা প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো যেতে পারে। একই তথ্য বারবার পরিবর্তন করা কিংবা অনুমোদিত বেতন নির্ধারণী যাচাই না করে নতুন করে বিল প্রস্তুত করার চেষ্টা না করাই ভালো।
এ ছাড়া, অনলাইনে বিল দাখিলের পর বিলের অবস্থা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ বা রেকর্ড সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অক্টোবরের বেতন পেতে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ?
অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের সময়সূচি সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
প্রথমত, বেতন নির্ধারণী অনুমোদনের তারিখ যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অনুমোদিত বেতন অনুযায়ী বিল প্রস্তুত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, বিল দাখিলের ক্ষেত্রে নিজ নিজ দপ্তরের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
একই সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বকেয়া বেতন-ভাতার হিসাব আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিয়মিত অক্টোবর মাসের বেতন বিল এবং আগের তিন মাসের বকেয়া নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া এক নাও হতে পারে। তাই দুটি বিষয়কে একই প্রক্রিয়া ধরে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী এগোনো উচিত।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শেষ মুহূর্তের পরামর্শ
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের ক্ষেত্রে ২৮ অক্টোবরের সময়সূচি অনুসরণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ও দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। বিশেষ করে যাঁদের বেতন নির্ধারণী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অনুমোদিত হয়েছে, তাঁদের বিল প্রস্তুত ও দাখিলের প্রয়োজনীয়তা আগে থেকেই যাচাই করা উচিত।
অন্যদিকে, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা ম্যানুয়ালি পরিশোধ ও সমন্বয়ের বিষয়টি কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট হিসাব শাখার নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বকেয়া অর্থের পরিমাণ, পরিশোধের সময় এবং সমন্বয়ের পদ্ধতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে অনুমোদিত হিসাব ও সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, ২৮ অক্টোবর সকাল ৯টার পর iBAS++-এ অক্টোবর মাসের বেতন বিল দাখিলের সুযোগ এবং জুলাই–সেপ্টেম্বরের বকেয়া নিষ্পত্তির ব্যবস্থা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে নির্ধারিত তারিখে বিল দাখিল করা গেলেই একই দিনে বেতন বা বকেয়া অর্থ জমা হবে—এমন নিশ্চয়তা এই সময়সূচি থেকে পাওয়া যায় না। বেতন ছাড়ের প্রকৃত সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিল নিষ্পত্তি, হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া এবং অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।


