চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে নতুন পে-স্কেল: প্রথম ধাপেই ১০০% বেসিক ও দ্রুত গেজেটের দাবিতে সোচ্চার ২২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী
দীর্ঘ ১১ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, বাজারদর এবং বাস্তবমুখী জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে এখন জোরেশোরে দাবি উঠতে শুরু করেছে। দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের এখন প্রধান দাবি— প্রথম ধাপেই ১০০% মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি এবং অতিদ্রুত এর গেজেট প্রকাশ।
তীব্র অর্থনৈতিক চাপ ও কর্মচারীদের বাস্তবতা
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনীতি ও বাজার ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানির বিল বৃদ্ধি, সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়ের পেছনে কর্মচারীদের আয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে।
অনেকেই সংসার চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঋণের জালে জর্জরিত হচ্ছেন। ফলে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা তো দূরের কথা, সাধারণ টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাস্তবতায় কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন না করে প্রথম ধাপেই যেন ১০০% বেসিক দেওয়া হয়, যাতে তারা বর্তমান মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামাল দিতে পারেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জোরালো আন্দোলন
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের খবরটি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সরকারি কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সংহতিমূলক প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। “১০০% বেসিক চাই, দ্রুত গেজেট চাই”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনমত গড়ে উঠছে।
কর্মচারীরা একে অপরের সাথে পোস্ট শেয়ার করে, সহকর্মীদের মেনশন করে এই দাবিকে আরও শক্তিশালী করছেন। তাদের মতে, এটি কেবল কোনো বিলাসী দাবি নয়, বরং বেঁচে থাকার অধিকারের লড়াই। কোনো রকম কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের জন্য তারা সরকারের শীর্ষ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন।
বিশ্লেষকদের মতামত ও প্রত্যাশা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতিশীলতা ও সততা বজায় রাখার জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো অপরিহার্য। দীর্ঘ ১১ বছর পর যেহেতু এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাই কর্মচারীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানো রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
২২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে চূড়ান্ত গেজেটের দিকে। প্রশাসনের তৃণমূল থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায় পর্যন্ত সবারই এখন এক কণ্ঠ— “১০০% বেসিক চাই, দ্রুত গেজেট চাই।” সরকার কর্মচারীদের এই যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে দ্রুত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।



