বাড়ি ভাড়া ভাতার হার নির্ধারণে অসঙ্গতি : বেশি মূল বেতনেও কম ভাতা, সংশোধনের দাবি
সরকারি চাকরিজীবীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণের বর্তমান কাঠামোয় একটি দীর্ঘদিনের অসঙ্গতির বিষয় আবারও আলোচনায় এসেছে। বিদ্যমান বিধানের কারণে অনেক ক্ষেত্রে বেশি মূল বেতনপ্রাপ্ত কর্মচারী কম মূল বেতনপ্রাপ্ত কর্মচারীর তুলনায় কম বাড়ি ভাড়া ভাতা পাচ্ছেন। বিষয়টি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মূল বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশের ভিত্তিতে নির্ধারিত হলেও প্রতিটি বেতনসীমার জন্য একটি ন্যূনতম ভাতা (Minimum Amount) নির্ধারণ করা রয়েছে। নতুন বেতনসীমায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ভাতার হার কমে যাওয়ায় বাস্তবে অনেক কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
যেভাবে তৈরি হচ্ছে বৈষম্য
উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়—
- একজন কর্মচারীর মূল বেতন ১৫,৯৮০ টাকা হলে তিনি ৪৫ শতাংশ হারে ৭,১৯১ টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা পান।
- কিন্তু আরেকজন কর্মচারীর মূল বেতন ১৭,৫২০ টাকা হলে তিনি ৪০ শতাংশ হারে মাত্র ৭,০০৮ টাকা ভাতা পান।
অর্থাৎ মূল বেতন প্রায় ১,৫৪০ টাকা বেশি হলেও বাড়ি ভাড়া ভাতা কমে যাচ্ছে ১৮৩ টাকা।
একই ধরনের পরিস্থিতি উচ্চ বেতনধারীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
- একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৩৫,৫০০ টাকা হলে ৪০ শতাংশ হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা হয় ১৪,২০০ টাকা।
- কিন্তু বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের পর মূল বেতন ৩৭,২৮০ টাকা হলে তিনি পরবর্তী স্তরে গিয়ে ৩৫ শতাংশ হারে ভাতা পাওয়ার যোগ্য হন। সে হিসেবে ভাতা দাঁড়ায় ১৩,০৪৮ টাকা, তবে ন্যূনতম ভাতার বিধান অনুযায়ী তিনি ১৩,৮০০ টাকা পান।
ফলে ইনক্রিমেন্টের পরও আগের তুলনায় প্রতি মাসে ৪০০ টাকা কম বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রাপ্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়।
কেন হচ্ছে এমনটি?
এ অসঙ্গতির কারণ হিসেবে সরকারি চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫-এর অনুচ্ছেদ-১৭-এর উপ-অনুচ্ছেদ (৭)-এর বিধানকে উল্লেখ করা হয়েছে। বেতনসীমা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ভাড়ার শতাংশ কমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নতুন বেতনসীমার কর্মচারীরা আগের স্তরের কর্মচারীদের তুলনায় কম ভাতা পাচ্ছেন।
কী সংশোধনের প্রস্তাব?
প্রস্তাব অনুযায়ী, অন্যান্য স্থানের জন্য—
- ১৬,০০১ টাকা থেকে ৩৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া ৭,০০০ টাকার পরিবর্তে ৭,২০০ টাকা করা যেতে পারে।
- ৩৫,৫০১ টাকা ও তদূর্ধ্ব মূল বেতনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া ১৩,৮০০ টাকার পরিবর্তে ১৪,২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মতামতদাতাদের মতে, এ ধরনের সংশোধন করা হলে বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের কারণে কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা কমে যাওয়ার অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দূর হবে।
দীর্ঘদিনের দাবি
জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। সে সময় অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নীতিগত সংশোধন কার্যকর হয়নি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা
সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশের মতে, বর্তমান বিধানের ফলে একই কর্মপর্যায় বা অধিক মূল বেতন থাকা সত্ত্বেও কম বাড়ি ভাড়া ভাতা পাওয়ার বিষয়টি যৌক্তিক নয়। তাই বিদ্যমান বিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হলে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে সংশোধন কার্যকর হলে অতীতে সৃষ্ট বৈষম্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য: উপরের বিশ্লেষণটি প্রচলিত বাড়ি ভাড়া ভাতা কাঠামো এবং উপস্থাপিত উদাহরণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো সংশোধনী বা নতুন সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হলে ভাতার হার ও প্রাপ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে।




