১ জুলাই থেকেই কি কার্যকর হচ্ছে নবম পে-স্কেল? সচিব কমিটির গোপন বৈঠক ঘিরে জোর আলোচনা
দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠককে কেন্দ্র করে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠকটি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সভা শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়া হয়নি, তবুও বিভিন্ন সূত্রে কিছু সম্ভাব্য তথ্য কর্মচারী মহলে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিলম্বে প্রজ্ঞাপন হলেও মিলতে পারে বকেয়া
সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশাসনিক বা কারিগরি কারণে যদি প্রজ্ঞাপন জারি হতে কিছুটা সময়ও লাগে, তবুও কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে বেতন-ভাতার পার্থক্য হিসাব করে বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হতে পারে।
এর ফলে প্রজ্ঞাপন প্রকাশে বিলম্ব হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রথম ছয় মাস আংশিক বাস্তবায়নের আলোচনা
আলোচিত তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন হতে পারে। অর্থাৎ এ সময় পূর্ণ সুবিধা না দিয়ে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
এ ধরনের ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের ওপর এককালীন আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
২০২৭ সালের শুরু থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকর হতে পারে
সূত্রগুলো আরও ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে নতুন পে-স্কেলের শতভাগ মূল বেতন কার্যকর করার বিষয়ে আশাবাদ রয়েছে। অর্থাৎ প্রথম ধাপের বাস্তবায়ন শেষে পূর্ণাঙ্গ বেতন কাঠামো চালুর পরিকল্পনা থাকতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি প্রকাশিত হয়নি, তবুও সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিষয়টি ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান
সচিব কমিটির বৈঠক শেষে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সূত্রে যেসব তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, সেগুলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি গেজেট, প্রজ্ঞাপন অথবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রকাশের পরই নতুন পে-স্কেলের বাস্তবায়নের সময়সূচি, বেতন বৃদ্ধি, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে।
চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় একটি যুগোপযোগী বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবি।
তবে সবকিছুর চূড়ান্ত উত্তর মিলবে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পরই। ততদিন পর্যন্ত প্রচারিত তথ্য যাচাই করে গ্রহণ এবং গুজব থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।



