সার্ভিস রুলস । নীতি । পদ্ধতি । বিধি

২৭তম বিসিএসের প্রথম পর্যায়ের নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য বড় স্বস্তি: বেতন নির্ধারণ, চাকরির ধারাবাহিকতা ও পদসমতা নিয়ে অর্থ বিভাগের স্পষ্টীকরণ

দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ২৭তম বিসিএস (২০০৫) পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের ‘অনুচ্ছেদ-ছ’ বাস্তবায়ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া এ মতামতে বেতন নির্ধারণ, চাকরির ধারাবাহিকতা, পদসমতা, আর্থিক সুবিধা এবং বেতন সংরক্ষণ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করে।

যোগদানের কার্যকর তারিখ নির্ধারণে নতুন নির্দেশনা

অর্থ বিভাগের মতামত অনুযায়ী, ২৭তম বিসিএসের প্রথম ধাপের ফলাফলের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বাস্তব যোগদানের তারিখের পরিবর্তে ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখকে কার্যকর যোগদানের তারিখ হিসেবে বিবেচনা করে বেতন নির্ধারণ করা যাবে।

এ নির্দেশনার ফলে—

  • ৩০ জুন ২০০৯ পর্যন্ত চাকরিকাল গণনা করা হবে;
  • এরপর ১ জুলাই ২০০৯ থেকে জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট গণনা করা হবে;
  • বেতন নির্ধারণে ১ জানুয়ারি ২০২৬-কে ভিত্তি ধরা হলেও ওই তারিখের পূর্ববর্তী সময়ের কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না।

চাকরির ধারাবাহিকতা থাকবে, তবে বকেয়া অর্থ নয়

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা ১০ নভেম্বর ২০০৮ সালের আগে একই বা সমমানের সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন, তারা বিধি অনুযায়ী চাকরির ধারাবাহিকতা ও বেতন সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন।

অর্থাৎ—

  • পূর্ববর্তী চাকরির অভিজ্ঞতা চাকরিকাল গণনায় বিবেচিত হতে পারে;
  • পদোন্নতি, জ্যেষ্ঠতা বা ভবিষ্যৎ সুবিধার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে;
  • তবে ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগের সময়ের জন্য অতিরিক্ত কোনো আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া বেতন দাবি করা যাবে না।

ক্যাডার স্থায়ীকরণ ও যোগ্যতা সংরক্ষণেও নির্দেশনা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব কর্মকর্তা ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে অন্য কোনো ক্যাডারভিত্তিক সরকারি চাকরিতে স্থায়ীকরণের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছিলেন এবং পরে ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে নতুন ক্যাডারে যোগদান করেছেন, তাদের অর্জিত যোগ্যতা সংরক্ষণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী বিবেচনা করা যাবে।

এতে কর্মকর্তাদের চাকরি জীবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পদসমতা নির্ধারণ হবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পদসমতার বিষয়ে বিদ্যমান সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অর্থাৎ, প্রত্যেক কর্মকর্তার পূর্ববর্তী চাকরির অবস্থান, গ্রেড ও প্রযোজ্য বিধি বিবেচনায় নিয়ে পৃথকভাবে পদসমতা নির্ধারণ করা হবে।

১৮ ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন

২৪ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জারি করা মূল নিয়োগ প্রজ্ঞাপন এবং পরবর্তী সংশোধনীসহ সব নির্দেশনা সমন্বিতভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, হিসাবরক্ষণ অফিস ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কর্মকর্তাদের জন্য এর বাস্তব প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে ২৭তম বিসিএসের প্রথম পর্যায়ের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জটিলতার অবসান ঘটবে।

এর মধ্যে রয়েছে—

  • বেতন নির্ধারণে একক নীতিমালা প্রতিষ্ঠা;
  • চাকরির ধারাবাহিকতা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর হওয়া;
  • পূর্ববর্তী সরকারি চাকরির অভিজ্ঞতা সংরক্ষণের সুযোগ;
  • পদসমতা নির্ধারণে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি;
  • ভবিষ্যতে জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি সংক্রান্ত বিরোধ কমে আসার সম্ভাবনা।

তবে নির্দেশনা অনুযায়ী, চাকরিকাল ও ইনক্রিমেন্ট গণনায় সুবিধা মিললেও ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর পূর্ববর্তী সময়ের কোনো বকেয়া বেতন বা আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে না, যা অর্থ বিভাগের মতামতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সোর্স

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *