বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি: চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন ও নতুন সিদ্ধান্ত

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

​আন্দোলনের মুখে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি

​গত বছরের শেষভাগ থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়ার দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করে আসছিলেন। শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার শুরুতে ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে শিক্ষা উপদেষ্টার সাথে শিক্ষক নেতাদের সফল আলোচনার পর বাড়িভাড়া ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা:

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা দুই ধাপে কার্যকর হবে:

১. প্রথম ধাপ: ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে মূল বেতনের ৭.৫ শতাংশ (ন্যূনতম ২,০০০ টাকা) কার্যকর হয়েছে।

২. দ্বিতীয় ধাপ: আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে অবশিষ্ট ৭.৫ শতাংশ কার্যকর হবে, যার ফলে মোট বাড়িভাড়া দাঁড়াবে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ।

​চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার নতুন হার

​বাড়িভাড়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের চিকিৎসা ভাতা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে:

  • চিকিৎসা ভাতা: পূর্বের ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে বর্তমানে ১,৫০০ টাকা করার প্রস্তাবনা প্রক্রিয়াধীন।
  • উৎসব ভাতা: এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​আর্থিক সংশ্লেষ ও সরকারি ভাষ্য

​শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এমপিওভুক্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর এই নতুন সুবিধা প্রদানের জন্য সরকারকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২,৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, “সীমিত বাজেটের মধ্যেও শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এটি জাতীয়করণের পথে একটি প্রাথমিক ধাপ।”

​শিক্ষক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

​’এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও তাদের মূল লক্ষ্য ‘চাকরি জাতীয়করণ’ থেকে সরে আসেননি। জোটের প্রধান সমন্বয়ক জানান, “বাড়িভাড়া বৃদ্ধি আমাদের আন্দোলনের আংশিক বিজয়। তবে পূর্ণাঙ্গ বৈষম্য দূর করতে জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই।”

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *