৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই : নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপেই শতভাগ ‘বেসিক’ দাবি সরকারি কর্মচারীদের

দীর্ঘ ১১ বছর পর নবম জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, নতুন এই কাঠামো ধাপে ধাপে কার্যকর করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয়ের সাথে তাল মেলাতে হিমশিম খাওয়া কর্মচারীরা আসন্ন ১ জুলাই থেকেই প্রথম ধাপে এককালীন ‘শতভাগ মূল বেতন’ (বেসিক) কার্যকর করার জোরালো দাবি তুলেছেন। অন্যথায়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারীদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি’।

বাজারদরের সাথে বেতনের বিশাল বৈষম্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর থেকে গত এক দশকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গড়ে ২৫০ থেকে ২৬৫ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে মাত্র ৫০-৫৫ শতাংশ। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। জীবন নির্বাহের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করতে না পেরে অনেকে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা একটি স্বাধীন দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।

প্রস্তাবিত তিন ধাপের পরিকল্পনা ও কর্মচারীদের আশঙ্কা সরকারি নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বাজেটের সক্ষমতা বিবেচনায় নবম পে-স্কেল আগামী তিন বছরে তিনটি ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে ৫০ শতাংশ করে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং তৃতীয় বছরে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সমন্বয়ের কথা রয়েছে।

এই খসড়া প্রস্তাবের সমালোচনা করে কর্মচারীরা বলছেন, যদি প্রথম ধাপে মাত্র ৫০ শতাংশ বেসিক দেওয়া হয় এবং তার সাথে বর্তমানে চলমান ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবে সেটি হবে চরম আত্মঘাতী। এতে বেতনবৃদ্ধির যে নামমাত্র সুযোগ তৈরি হবে, তা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং নতুন পে-স্কেলের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দেবেন, যা কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি করবে।

বিকল্প প্রস্তাব: আগে বেসিক, পরে ভাতা সব গ্রেডের প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং কর্মচারীদের জীবনমান সচল রাখার লক্ষ্যে কল্যাণ সমিতি একটি বিকল্প প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করেছে। তাদের দাবির মূল বিষয়গুলো হলো:

  • এককালীন কার্যকর: আগামী ১ জুলাই থেকে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূল বেতন (বেসিক) কার্যকর করা।

  • ভাতা বণ্টন: বর্তমানের ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রথম ধাপেই নতুন বেসিকের সাথে সমন্বয় করা।

  • পর্যায়ক্রমিক উন্নয়ন: দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা সাপেক্ষে বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতার মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরবর্তী দুই বছরে দুটি ধাপে বাস্তবায়নের সুযোগ রাখা।

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ চলতি বছরের ২১ মে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটির বৈঠকে নবম পে-স্কেলের খসড়া নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন অর্থবছরের বাজেটেই বেতন কাঠামো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটি কত দ্রুত বা কীভাবে হবে, তা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা ও প্রশাসন পরিচালনার দক্ষতা অটুট রাখতে হলে বর্তমান মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বাস্তবসম্মত বেতন কাঠামো এখন সময়ের দাবি। এখন দেখার বিষয়, আগামী জুলাইয়ে ঘোষিত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে সরকার কর্মচারীদের এই দাবির প্রতি কতটা সহানুভূতিশীল থাকে।

(তথ্যসূত্র: সাম্প্রতিক বাজেট আলোচনা ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ভিত্তিক)

author avatar
admin
আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *