সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর: ৯ম পে স্কেলে বৈশাখী ভাতা ৫০% করার চূড়ান্ত সুপারিশ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর নিয়ে আসছে সম্ভাব্য নবম জাতীয় বেতন কাঠামো (৯ম পে স্কেল)। এবারের নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের উৎসব উদযাপনে আরও বেশি আনন্দ ছড়াতে বৈশাখী ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে জাতীয় বেতন কমিশন।
কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে সরকারি চাকুরিজীবীরা তাদের মূল বেতনের (Basic Salary) ২০ শতাংশ হারে বৈশাখী ভাতা পেয়ে থাকেন। নতুন নবম পে স্কেলে এই ভাতার পরিমাণ ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের জাতীয় বেতন কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশমালা জমা দেয়।
ভাতার পাশাপাশি মূল বেতন বৃদ্ধির বড় প্রস্তাব
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, শুধু বৈশাখী ভাতাই নয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে:
মূল বেতন বৃদ্ধি: সর্বনিম্ন গ্রেডে (২০তম গ্রেড) বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে (১ম গ্রেড) ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
টিফিন ভাতা: বর্তমানের ২০০ টাকা থেকে ৫ গুণ বাড়িয়ে ১,০০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যান্য সুবিধা: প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা চালু এবং প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা কর্মচারীদের জন্য প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা অতিরিক্ত ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত এবং প্রতিক্রিয়া?
২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন পে স্কেলের এই সুপারিশ সরকারি কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দের জোয়ার নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বৈশাখী ভাতা ২০% থেকে ৫০% করার সিদ্ধান্তকে চাকুরিজীবীরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সচিবালয় ও মাঠপর্যায়ের একাধিক সরকারি কর্মচারী এই সুপারিশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে উৎসবের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের অর্ধেক (৫০%) করা হলে তা পরিবার নিয়ে উৎসব উদযাপনে বড় সহায়ক হবে। এই সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ ও আলহামদুলিল্লাহ।”
বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা
অর্থ মন্ত্রণালয় ও সচিব কমিটি বর্তমানে এই সুপারিশমালা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে। জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে স্কেল ও এই বর্ধিত ভাতাগুলো আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে ধাপে ধাপে কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
নতুন পে স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট বা প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর সরকারি কর্মচারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন।



