কেস টু কেস ভিত্তিতে বিল অবমুক্তির সুযোগ, ২৮ জুন বিকেল ৪টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করবে অর্থ বিভাগ
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ প্রান্তে সরকারি দপ্তরগুলোর অসমাপ্ত ব্যয় নিষ্পত্তির সুবিধার্থে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় অর্থ অবমুক্তির আবেদন কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে। তবে এ সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ বিভাগের অনুমোদন নিতে হবে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের কিছু সংগতিপূর্ণ বিল অনিবার্য কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিসে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। এ ধরনের বিলের অর্থ অবমুক্তির জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কেস-টু-কেস ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষমতা অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব (বাজেট-১)-কে প্রদান করা হয়েছে। ফলে যথাযথ যুক্তি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করা হবে।
কী করতে হবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে?
পরিপত্র অনুযায়ী—
- সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বিল গ্রহণ করতে হবে।
- কেস-টু-কেস ভিত্তিতে অর্থ অবমুক্তির যৌক্তিকতা উল্লেখ করে আবেদন প্রস্তুত করতে হবে।
- আবেদনটি আগামী ২৮ জুন ২০২৬, বিকেল ৪টার মধ্যে অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দিতে হবে।
- নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরিপত্রে কোনো সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়নি।
কেন এ সিদ্ধান্ত?
অর্থবছরের শেষদিকে অনেক মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের উন্নয়ন এবং পরিচালন ব্যয়ের বিল বিভিন্ন প্রশাসনিক বা কারিগরি কারণে সময়মতো নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় না। এতে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যবহার ও হিসাব চূড়ান্তকরণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সীমিত পরিসরে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে বিল অবমুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্ব
অর্থ বিভাগের এই নির্দেশনার ফলে যেসব সরকারি দপ্তরের বৈধ ব্যয় বিল নির্ধারিত সময়ে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি, তারা এখন যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে অর্থ অবমুক্তির আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


