নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট কি ৩০ জুনের মধ্যেই? শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, তবে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, খসড়া গেজেটের কারিগরি প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের তারিখ ঘোষণা করেনি।
১ জুলাই কার্যকর করতে হলে সময় খুবই সীমিত
সরকার ইতোমধ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগেই প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ করা সবচেয়ে স্বাভাবিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বাস্তবে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। তাই ২৯ বা ৩০ জুনের মধ্যেই এটি প্রকাশ হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনো দেওয়া যাচ্ছে না।
২৪ জুনের সচিব কমিটির বৈঠকে কী হয়েছে?
গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নতুন পে-স্কেলের ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন, ভাতার কাঠামো এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এসব আলোচনা গেজেটের চূড়ান্ত ভাষা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
গেজেটে যেসব বিষয় থাকতে পারে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গেজেটে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—
- মূল বেতন বৃদ্ধির চূড়ান্ত কাঠামো।
- বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতার সংশোধিত সীমা।
- বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা।
- সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ২ বা ৩ ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ ও বকেয়া সুবিধা প্রদানের বিধান।
দুই দিনের মধ্যেই গেজেট, নাকি আরও সময়?
এটাই এখন সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সব ধরনের আইনগত যাচাই, অর্থ বিভাগের অনুমোদন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ৩০ জুনের আগেই শেষ হয়, তাহলে জুনের শেষ দুই দিনের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, কোনো একটি পর্যায়ে অনুমোদন বা ভাষাগত চূড়ান্তকরণে বিলম্ব হলে গেজেট ১ জুলাইয়ের পরও প্রকাশিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাইই বহাল রেখে পরে গেজেট জারি করা প্রশাসনিকভাবে অসম্ভব নয়; অতীতেও সরকারি বিভিন্ন প্রজ্ঞাপনে কার্যকারিতা পূর্বের তারিখ থেকে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নবম পে-স্কেলের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
সরকারি ওয়েবসাইটেই মিলবে চূড়ান্ত নিশ্চিত তথ্য
গেজেট প্রকাশিত হলে সেটি বাংলাদেশ গেজেটের সরকারি ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো খসড়া বা অনানুষ্ঠানিক তালিকাকে চূড়ান্ত হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সারসংক্ষেপ
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে বলা যায়, নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রশাসনিক প্রস্তুতি অনেক দূর এগিয়েছে এবং ১ জুলাই কার্যকর করার লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ চলছে। তবে ৩০ জুনের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ নিশ্চিত—এমন দাবি করার মতো কোনো সরকারি ঘোষণা এখনো আসেনি। তাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন হলো, আগামী ২৯-৩০ জুনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন না হলে প্রকাশ আরও কয়েক দিন পিছিয়েও যেতে পারে। সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিসঙ্গত।



