৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

১১ বছর পর নতুন পে-স্কেল ২০২৬ । ‘শতভাগ মূলবেতন’ নিয়ে বিস্ময়ের কিছু নেই, জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে গেজেটের অপেক্ষায় সরকারি চাকরিজীবীরা

দীর্ঘ ১১ বছর পর বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এদিকে নতুন পে-স্কেলে প্রথম ধাপেই শতভাগ মূলবেতন (বেসিক) কার্যকর হতে পারে—এমন খবর প্রকাশের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কর্মচারীদের একটি বড় অংশের দাবি, শতভাগ মূলবেতন বাস্তবায়ন হলে সেটি কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; বরং পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্বাভাবিক ও নিয়মসঙ্গত প্রক্রিয়াই হবে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও জানিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে নবম পে-স্কেলের গেজেট জারি হতে পারে।

সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষ করে কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সংগঠনগুলোর নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছেন যে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে ধাপে ধাপে মূলবেতন নয়, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পূর্ণ মূলবেতন একবারেই কার্যকর করতে হবে। তাদের যুক্তি, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকরের পর প্রায় এক যুগ পার হয়ে গেছে। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আরও কোনো ধাপে মূলবেতন কার্যকর করলে চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা পূরণ হবে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও পরে তা পরিবর্তন করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল গ্রহণের বিষয়ে মতৈক্য তৈরি হয়েছে। নতুন পরিকল্পনায় প্রথম ধাপেই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সম্পূর্ণ মূলবেতন কার্যকর এবং পরবর্তী অর্থবছরে নতুন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই পদ্ধতিতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও বেতন নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে গেজেট প্রকাশের প্রশাসনিক প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হতে পারে। গেজেট প্রকাশিত হলে কার্যকর হওয়ার তারিখ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা হবে। তবে এ বিষয়ে সরকার এখনো আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করেনি; ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গেজেট জারির পরই নিশ্চিত হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মতে, “শতভাগ মূলবেতন” বাস্তবায়নের খবরকে আলাদা কোনো বিশেষ সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ নতুন পে-স্কেল কার্যকর মানেই নতুন বেতন কাঠামোর মূলবেতন কার্যকর হওয়া। তাদের ভাষায়, দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবেই কার্যকর হওয়া উচিত এবং মূলবেতন নিয়ে আর কোনো ধাপভিত্তিক জটিলতা থাকা উচিত নয়।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় অপেক্ষা সরকারি গেজেট প্রকাশ নিয়ে। গেজেট জারি হলেই নতুন বেতন কাঠামো, কার্যকর হওয়ার তারিখ, ভাতা বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নির্দেশনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জুলাই মাসেই এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *