নতুন বেতন বিবরণী ফরম ২০২৬: অনলাইনে বেতন স্লিপ তৈরির ফরম পূরণ করবেন যেভাবে
জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ এর মূল বেতন আর ২০১৫ সালের ভাতা মিলিয়ে হিসাব, ধাপে ধাপে নির্দেশনা-নতুন জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী মূল বেতন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ১ জুলাই ২০২৭ থেকে শতভাগ মূল বেতন কার্যকর হবে, আর বিভিন্ন ভাতা নতুন হারে কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। ফলে মাঝের সময়টিতে অনেক কর্মচারীর মূল বেতন নতুন স্কেলের, কিন্তু ভাতা ২০১৫ সালের স্কেলের। এই মিশ্র হিসাব সহজ করতে একটি অনলাইন ফরম তৈরি হয়েছে। এতে অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৬ এর বেতন স্লিপ, ০১-০৭-২০২৭ হতে বেতন স্লিপ এবং “নতুন বেতন বিবরণী ২০২৬” নিজে নিজে তৈরি হয়। ফরম পূরণের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো।
শুরুর আগে হাতের কাছে যা রাখবেন
- সর্বশেষ বেতন স্লিপ বা সার্ভিস বুক, যেখানে ৩০-০৬-২০২৬ তারিখের মূল বেতন লেখা আছে
- বর্তমান গ্রেড নম্বর
- ভবিষ্য তহবিল চাঁদা, ঋণের কিস্তি ও আয়করের মাসিক পরিমাণ
- সন্তানের সংখ্যা (শিক্ষা সহায়ক ভাতার জন্য)
ধাপ ১: কর্মচারীর তথ্য
নাম, পদবি, অফিস ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখুন। এই তথ্য স্লিপ ও বিবরণীর শীর্ষে ছাপা হবে। হিসাবের ওপর এর কোনো প্রভাব নেই, তাই কোনো ঘর ফাঁকা থাকলে হিসাব আটকাবে না।
ধাপ ২: বেতনের ভিত্তি
এটিই ফরমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- গ্রেড: তালিকা থেকে আপনার বর্তমান গ্রেড বাছুন। প্রতিটি গ্রেডের পাশে ২০১৫ স্কেলের সীমা দেখানো আছে।
- ৩০-০৬-২০২৬ তারিখের মূল বেতন: জুন ২০২৬ এ আপনি যে মূল বেতন পেয়েছেন, সেটি লিখুন। এখান থেকেই নতুন স্কেলে আপনার ধাপ নির্ধারিত হয়।
- পিপি: ব্যক্তিগত বেতন (পিপি) থাকলে পরিমাণ লিখুন। না থাকলে ০ রাখুন।
ফরমে আগে থেকে একটি উদাহরণ (গ্রেড ১০, মূল বেতন ২৪,৮৭০) বসানো আছে। নিজের তথ্য না দেওয়া পর্যন্ত এই উদাহরণ দেখাবে। তথ্য দিলেই সব অঙ্ক বদলে যাবে। মূল বেতন যদি ২০১৫ স্কেলের সীমার বাইরে হয়, ফরম হলুদ সতর্কবার্তা দেখাবে। তখন গ্রেড ও বেতন আবার যাচাই করুন।
ধাপ ৩: ভাতা নির্বাচন (২০১৫ স্কেল)
- কর্মস্থল: বাড়িভাড়া ভাতা এই ঘরের ওপর নির্ভর করে। বিকল্প চারটি: ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকা; বিভাগীয় শহর ও সাভার এলাকা; অন্যান্য স্থান; সরকারি বাসভবনে বসবাস। সরকারি বাসায় থাকলে চতুর্থটি বাছুন, তখন বাড়িভাড়া ধরা হবে না।
- যাতায়াত ভাতা: সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ১১–২০ গ্রেডের কর্মচারীরা “হ্যাঁ” বাছুন।
- শিক্ষা সহায়ক ভাতা: সন্তান সংখ্যা বাছুন। সন্তানপ্রতি ৫০০ টাকা, সর্বোচ্চ দুই সন্তান।
- টিফিন ভাতা: শুধু ১১–২০ গ্রেডের জন্য। এর ওপরের গ্রেডে বাছাই করলেও যোগ হবে না।
- ধোলাই ভাতা: প্রযোজ্য হলে “প্রযোজ্য” বাছুন।
- মোবাইল ফোন ভাতা ও অন্য ভাতা: এই দুটির হার ফরমে ধরা নেই। আপনার প্রকৃত প্রাপ্য টাকার অঙ্ক নিজে লিখুন। অন্য ভাতার নামও (যেমন কার্যভার ভাতা) লেখা যাবে।
ধাপ ৪: কর্তন
ভবিষ্য তহবিল চাঁদা, ভবিষ্য তহবিল ঋণের কিস্তি, গৃহনির্মাণ বা অন্যান্য ঋণের কিস্তি, আয়কর এবং অন্যান্য কর্তনের মাসিক অঙ্ক লিখুন। কোনো কর্তন না থাকলে ০ রাখুন। একই কর্তন দুটি স্লিপেই ধরা হয়, তাই ০১-০৭-২০২৭ এর পরে কর্তনের অঙ্ক বদলালে সেই অনুযায়ী হিসাব মিলিয়ে নেবেন।
ধাপ ৫: ফলাফল দেখা ও প্রিন্ট
ফরম পূরণের সঙ্গে সঙ্গে ওপরের সবুজ লাইনে সারাংশ দেখা যাবে: অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৬ ও ০১-০৭-২০২৭ হতে মাসিক মোট প্রাপ্য এবং নিট টাকা। তিনটি শিট নিচে তৈরি হবে:
- বেতন স্লিপ, অক্টোবর–ডিসেম্বর ২০২৬ (প্রতি মাস ও তিন মাসের মোট, সঙ্গে পর্যায়ক্রমিক সারাংশ)
- বেতন স্লিপ, ০১-০৭-২০২৭ হতে
- নতুন বেতন বিবরণী ২০২৬ (বেতন নির্ধারণের আটটি ধাপ, প্রাপ্তির পর্যায়, ভাতা এবং স্বাক্ষরের ঘর)
“যা দেখাবেন / প্রিন্ট করবেন” মেনু থেকে একটি শিট বেছে নিতে পারেন। “প্রিন্ট / PDF” বোতামে চাপলে A4 কাগজে প্রিন্ট বা PDF সংরক্ষণ করা যাবে। প্রিন্ট করার আগে ব্রাউজারের প্রিন্ট পেজে “Background graphics” চালু রাখলে ছাপা আরও স্পষ্ট হয়।
হিসাব যেভাবে হয়
নতুন মূল বেতন নির্ধারণে আগে ৩০-০৬-২০২৬ এর মূল বেতন ও ২০১৫ স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের পার্থক্য বের করা হয়। সেই পার্থক্য ২০২৬ স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করে নিকটবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ হয়। এরপর ০১-০৭-২০২৬ এর ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়। জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬ এ বর্ধিত অংশের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ (গ্রেড ১–৯ এ ৪০%, গ্রেড ১০–২০ এ ৫০%) এবং জানুয়ারি–জুন ২০২৭ এ আরও বেশি শতাংশ (যথাক্রমে ৭০% ও ৭৫%) কার্যকর হয়। ০১-০৭-২০২৭ থেকে ইনক্রিমেন্টসহ পুরো নতুন মূল বেতন পাওয়া যায়। এরপর বাড়িভাড়াসহ সব ভাতা ২০১৫ সালের হারে সেই মাসের মূল বেতনের ওপর গণনা হয়।
উদাহরণে গ্রেড ১০ এর ২৪,৮৭০ টাকা মূল বেতনে ফল দাঁড়ায় ৩৪,৮৮৫ টাকা (জুলাই–ডিসেম্বর ২০২৬), ৩৮,৮৯৩ টাকা (জানুয়ারি–জুন ২০২৭) ও ৪৫,১০০ টাকা (০১-০৭-২০২৭ হতে)।
সতর্কতা
- এটি সহায়ক হিসাব। চূড়ান্ত অঙ্ক iBAS++ এর বেতন নির্ধারণী বিবরণী ও হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে যাচাই করে নিতে হবে।
- গ্রেড ১–৯ এর কার্যকর শতাংশ একটি প্রতিবেদনের তালিকা থেকে নেওয়া। মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।
- বাড়িভাড়াসহ সব হার ও শতাংশ ফরমের “হার ও শতাংশ” অংশে সংশোধন করা যায়। গেজেটের সঙ্গে অমিল পেলে সেখানে ঠিক করে নিন।
- যাতায়াত ভাতা শুধু সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই সেটি আপনার বাছাইয়ের ওপর রাখা হয়েছে।
- আপনার দেওয়া তথ্য শুধু আপনার ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকে, অন্য কারও কাছে যায় না। “ফরম পরিষ্কার” বোতামে সব মুছে নতুন করে শুরু করা যায়।
বেতন হিসাব করুন: বেতন স্লিপ ও নতুন বেতন বিবরণী ২০২৬



