সম্পদ থাকলে তা রিটার্নে দেখালে সেটি সুবিধা নাকি বিড়ম্বনা!

প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র করদাতাদের সম্পদ ও ব্যয় বিবরণী জমার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রস সম্পদ ৪০ লাখ টাকার নিচে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় চার লাখ টাকার নিচে হলে রিটার্নের সঙ্গে সম্পদ বিবরণী ও ব্যয় বিবরণী জমা দিতে হবে না। আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে আয়কর আইন সংশোধন করে এ স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কয়েক লাখ শিক্ষক ও ছোট ব্যবসায়ীর মতো প্রান্তিক করদাতারা স্বস্তি পাবেন।

সূত্র বলছে, ‘আয়কর আইন, ১৯৮৪’ অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক। অর্থবিল, ২০২০ আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ৮০ ধারা সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যেসব করদাতার গ্রস সম্পদ ৪০ লাখ টাকার নিচে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় চার লাখ টাকার নিচে, তাদের আয়কর রিটার্নে সম্পদ বিবরণী এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবরণী দাখিল করা বাধ্যতামূলক নয়।

সমস্ত সম্পদ রিটার্ণে দাখিল না করলে যে সমস্যায় পড়তে হতে পারে তা একটি উদাহরণের সাহায্যে বলা যাক, একজন স্কুল শিক্ষক। চাকরির সুবাদে তাকে ই-টিআইএন নিতে হয়েছে। প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়। এ শিক্ষক প্রথমবার রিটার্নে সম্পদ উল্লেখ করেননি। চাকরি শেষে তিনি ৫০ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি করলেন। হয়তো ২৫ লাখ টাকা পেনশন পেয়েছেন। বাকি ২৫ লাখ টাকা কোথায় পেয়েছেন, তার সঠিক হিসাব দিতে পারেন না। তিনি হয়তো চাকরির প্রথম থেকে বেতন থেকে অল্প অল্প করে কিছু টাকা ব্যাংকে সঞ্চয়পত্র কিনেছেন, কিছু টাকা এফডিআর করেছেন, অথবা কিছু টাকা দিয়ে জমি কিনে রেখেছেন। সেটা বিক্রি করে ২৫ লাখ টাকা পেয়েছেন। কিন্তু তিনি প্রতিবছর রিটার্নে এ সম্পদ উল্লেখ করেননি। সেজন্য শেষ জীবনে তাকে ২৫ লাখ টাকা আয়ের উৎস নিয়ে কর বিভাগের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। সেজন্য সম্পদ থাকলে তা রিটার্নে দেখালে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

অপরদিকে আগামী অর্থবছর যাদের ই-টিআইএন রয়েছে তাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বর্তমানে ৫০ লাখ জনের ই-টিআইএন রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ করবর্ষে রিটার্ন দাখিল হয়েছে প্রায় ২২ লাখ। বাকি ২৫ লাখ জন ই-টিআইএন নিলেও রিটার্ন দাখিল করেননি। বর্তমানে ৩১টি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ই-টিআইএন বাধ্যতামূলক। এছাড়া নতুন করদাতা শনাক্তে বছরব্যাপী জরিপ করছে এনবিআর। ফলে আগামী অর্থবছর করদাতার সংখ্যা কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে এনবিআর। করদাতাদের কষ্ট লাঘবে এবং করদাতা আকর্ষণে আয়কর রিটার্ন ফর্ম এক পাতা করা এবং অনলাইনে আয়কর প্রদানে দুই হাজার টাকা কর রেয়াত দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: শেয়ার বাজার

admin

আমার ব্লগের কোন কন্টেন্ট সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে বা জানাতে ইমেইল করতে পারেন admin@bdservicerules.info ঠিকানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.