৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন কোথায় আটকে? দুই সপ্তাহেও আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পূরণ হয়নি। এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে—এমন ইঙ্গিতের প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও এখনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়াই এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খসড়াটি বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে। ফলে মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের পরও প্রজ্ঞাপন জারির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

এক সপ্তাহের প্রত্যাশা, পেরিয়ে গেল দুই সপ্তাহ

নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষা ছিল। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর ধারণা করা হয়েছিল, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সংশ্লিষ্ট মহল থেকেও এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল।

কিন্তু সেই এক সপ্তাহ পেরিয়ে এখন প্রায় দুই সপ্তাহ। এর মধ্যেও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সপ্তাহের জায়গায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু গেজেটের কোনো খবর নেই। সেজন্যই সবার মধ্যে একটা উদ্বেগ কাজ করছে যে, আবার কোথায় আটকালো!’

তার এই বক্তব্যেই প্রতিফলিত হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বর্তমান অপেক্ষার চিত্র। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা তৈরি হওয়ায় প্রজ্ঞাপন বিলম্বিত হওয়াকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে।

এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো খসড়া প্রজ্ঞাপন প্রস্তুত করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া এখনো সেই পর্যায়েই পৌঁছায়নি।

অর্থাৎ, মন্ত্রিসভায় বেতন কাঠামো অনুমোদিত হলেও প্রজ্ঞাপন জারির আগে যে প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেগুলোর সবগুলো এখনো শেষ হয়নি।

বর্তমানে খসড়াটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে থাকায় পরবর্তী ধাপ হিসেবে সেটি চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো, ভেটিং সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।

এ কারণে শুধু মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ার পরপরই গেজেট প্রকাশ হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবে কিছুটা সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।

১০ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সাধারণত পাঁচ বছর পর পর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু বাস্তবে গত এক দশকে নতুন কোনো পে স্কেল কার্যকর হয়নি।

দীর্ঘ এই অপেক্ষার পর গত ৩১ আগস্ট সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিকভাবেও বিষয়টি জানানো হয়।

ফলে নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যবধানের প্রেক্ষাপটে নতুন বেতন কাঠামোকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন চাকরিজীবীরা।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর যখন এক সপ্তাহের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনার কথা সামনে আসে, তখন অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন যে খুব দ্রুতই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হবে।

কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হওয়ার পরও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—প্রজ্ঞাপন জারি হতে আর কত সময় লাগবে এবং খসড়াটি কবে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে যাবে?

কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন?

মন্ত্রিসভায় কোনো বেতন কাঠামো অনুমোদিত হওয়া এবং সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা—দুটি আলাদা প্রশাসনিক ধাপ। অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি হলে নতুন বেতন কাঠামোর বিধানগুলো আনুষ্ঠানিক রূপ পায় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পেতে পারে।

তাই সরকারি চাকরিজীবীদের কাছে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পাশাপাশি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজ্ঞাপন ছাড়া নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন বিষয়—যেমন নতুন বেতনহার, গ্রেডভিত্তিক কাঠামো, কার্যকরের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা—বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হয় না।

উদ্বেগের কারণ কোথায়?

সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্বেগের মূল কারণ শুধু কয়েক দিনের বিলম্ব নয়। দীর্ঘ ১০ বছর নতুন পে স্কেলের অপেক্ষায় থাকার পর এবার যখন নতুন কাঠামো অনুমোদিত হয়েছে, তখন তারা দ্রুত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রত্যাশা করেছিলেন।

এর মধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়াই আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য না যাওয়ার খবর সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

তবে খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে থাকার অর্থ এই নয় যে নতুন পে স্কেল বাতিল বা স্থগিত হয়ে গেছে। বরং এটি প্রজ্ঞাপন জারির আগে চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়—এমনটাই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে।

সামনে কী হতে পারে?

এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের খসড়া চূড়ান্ত করার পর সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারির দিকে এগোবে প্রক্রিয়াটি।

ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খসড়াটি কবে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে এবং ভেটিং শেষ হতে কত সময় লাগছে।

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন প্রকাশে কিছুটা সময় লাগা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশের প্রত্যাশার পরও যখন প্রায় দুই সপ্তাহ পার হয়ে গেছে এবং খসড়া এখনো ভেটিং পর্যায়ে যায়নি, তখন স্বাভাবিকভাবেই চাকরিজীবীদের মধ্যে অপেক্ষা ও উদ্বেগ দুটিই বাড়ছে।

শেষ কথা

দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার পর নতুন পে স্কেল ঘোষণার খবর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্তু মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়ায় সেই আশার সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে অপেক্ষা।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে খসড়াটি এখনো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ে যায়নি। ফলে নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।

এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজর মূলত অর্থ মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। খসড়া দ্রুত ভেটিংয়ে পাঠানো হলে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের প্রক্রিয়াও এগিয়ে যেতে পারে। আর সেখানেই নির্ভর করছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পরবর্তী গতি।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *