বৈষম্য । দাবীর খতিয়ান । পুন:বিবেচনা

নবম পে-স্কেল ও আউটসোর্সিং বাতিলের দাবি ২০২৬ । প্রতিমন্ত্রীর সাথে প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ করে কি হলো?

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চমহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনায়েদ সাকি’র সাথে তাঁর সচিবালয়স্থ কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেছেন একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল।

এম. এ. হান্নান এবং উপসচিব খালেক-এর নেতৃত্বে উক্ত প্রতিনিধি দল গত [তারিখ যুক্ত করুন] তারিখে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আলোচনা সভায় মিলিত হন।

আলোচনার মূল দাবিগুলো

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে এম. এ. হান্নান সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং পেশাগত বৈষম্য দূরীকরণে বেশ কিছু যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • নবম পে-স্কেল ঘোষণা: বর্তমান বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন।

  • আউটসোর্সিং পদ্ধতি বাতিল: সরকারি চাকরিতে আউটসোর্সিং প্রথা বিলোপ করে স্থায়ী নিয়োগ বা নিয়মিতকরণের দাবি।

  • রেশন ব্যবস্থা প্রবর্তন: বাংলাদেশ পুলিশের ন্যায় অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের জন্যও পূর্ণাঙ্গ রেশন ব্যবস্থা চালু করা।

  • অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: বৈষম্য দূরীকরণসহ কর্মচারীদের আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করা।

প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস

প্রতিনিধি দলের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনায়েদ সাকি। দাবিগুলোর যৌক্তিকতা স্বীকার করে তিনি উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, “নবম পে-স্কেলের বিষয়টি বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনাধীন রয়েছে।” সরকার সাধারণ কর্মচারীদের কল্যাণে আন্তরিক এবং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা

আলোচনা শেষে প্রতিনিধি দলের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, বর্তমান সরকার অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের কষ্ট লাঘবে রেশন ব্যবস্থা এবং নতুন পে-স্কেল ঘোষণা এখন সময়ের দাবি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এই আশ্বাসের ফলে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি ও বাস্তবায়নের দিকেই তাকিয়ে আছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী কি পে স্কেল প্রদানে সম্মতি প্রদান করেছে?

মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনায়েদ সাকি প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন যে, পে-স্কেলের বিষয়টি বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিবেচনাধীন রয়েছে।

অর্থাৎ, আপনার সরবরাহকৃত তথ্যে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি “সম্মতি প্রদান করেছেন” এমন চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ নেই; তবে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচকভাবে ভাবছেন বা এটি তাঁর সক্রিয় বিবেচনায় আছে বলে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন।

সরকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা বা প্রজ্ঞাপন জারি হলে তবেই এটি চূড়ান্ত সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে। বর্তমানে এটি ‘বিবেচনাধীন’ পর্যায়ে আছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *