১৩তম গ্রেডে নতুন বেতন নির্ধারণ: ১৫,৫০০ টাকা মূল বেতন হলে ১ জুলাই থেকে কত হবে?
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কার্যকর হওয়া জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এ পুরোনো বেতন থেকে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ তৈরি হয়েছে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে। বিশেষ করে ১৩তম গ্রেডে যাদের বর্তমান মূল বেতন ১১ হাজার টাকার প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি, তাদের নতুন বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে—এ নিয়ে হিসাবটি গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের অনুমোদিত জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী ১৩তম গ্রেডের নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা। একই গ্রেডে ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ছিল ১১ হাজার টাকা। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বর্তমান বেতনের সঙ্গে ২৪ হাজার টাকা যোগ করা হবে না; বরং পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে বর্তমান মূল বেতনের পার্থক্য বের করে তা নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যোগ করার নিয়ম রাখা হয়েছে।
১৫,৫০০ টাকা মূল বেতন হলে হিসাবটি কীভাবে হবে?
প্রদত্ত উদাহরণ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী ২০২৬ সালের ১ জুলাই তারিখে ১৩তম গ্রেডে ১৫,৫০০ টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকলে প্রথমে ২০১৫ সালের একই গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ থেকে তার অতিরিক্ত বেতন কত, তা বের করতে হবে।
বর্তমান মূল বেতন: ১৫,৫০০ টাকা
২০১৫ স্কেলের ১৩তম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ: ১১,০০০ টাকা
অতএব,
১৫,৫০০ − ১১,০০০ = ৪,৫০০ টাকা
অর্থাৎ ওই কর্মচারীর পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের তুলনায় অতিরিক্ত বেতন ছিল ৪,৫০০ টাকা।
এরপর এই পার্থক্য নতুন ২০২৬ সালের স্কেলের ১৩তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে।
নতুন প্রারম্ভিক বেতন = ২৪,০০০ টাকা
পুরোনো স্কেলের অতিরিক্ত অংশ = ৪,৫০০ টাকা
সুতরাং,
২৪,০০০ + ৪,৫০০ = ২৮,৫০০ টাকা
কিন্তু নতুন বেতনস্কেলের নির্ধারিত ধাপের তালিকায় যদি ২৮,৫০০ টাকা না থাকে, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী তার পরবর্তী উচ্চতর নির্ধারিত ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। গেজেটের উদাহরণেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে—হিসাব করে পাওয়া অর্থের সঙ্গে নির্ধারিত ধাপ না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ গ্রহণ করতে হবে।
প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, ২৮,৫০০ টাকার পরবর্তী উচ্চতর ধাপ ২৯,২০০ টাকা হলে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন ২৯,২০০ টাকা নির্ধারিত হবে।
এরপর ইনক্রিমেন্ট কীভাবে যুক্ত হবে?
এখানেই হিসাবটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের তারিখ প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।
তাই ১ জুলাই ২০২৬-এর প্রযোজ্য ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হওয়ার পর কর্মচারী পরবর্তী নির্ধারিত ধাপে উঠবেন। প্রদত্ত উদাহরণে ২৯,২০০ টাকার পরবর্তী ধাপ ৩০,৭০০ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ ওই উদাহরণে ১ জুলাই ২০২৬-এর ইনক্রিমেন্টসহ পরবর্তী মূল বেতন হবে ৩০,৭০০ টাকা।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের হিসাব
প্রদত্ত নথিতে নতুন বেতন বাস্তবায়নের একটি ধাপভিত্তিক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ১৫,৫০০ টাকা বর্তমান মূল বেতন ধরে হিসাবটি এমনভাবে দেখানো হয়েছে—
| সময়কাল | হিসাবের হার | প্রদত্ত উদাহরণে মূল বেতন |
|---|---|---|
| ১ জুলাই ২০২৬–৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ | বর্তমান বেতন + পার্থক্যের ৫০% | ২৩,১০০ টাকা |
| ১ জানুয়ারি ২০২৭–৩০ জুন ২০২৭ | বর্তমান বেতন + পার্থক্যের ৭৫% | ২৬,৯০০ টাকা |
| ১ জুলাই ২০২৭ থেকে | পূর্ণ বাস্তবায়ন ও ইনক্রিমেন্টসহ | ৩২,২০০ টাকা (পরবর্তী ধাপ) |
তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—পে-ফিক্সেশনের মূল বেতন নির্ধারণ এবং নতুন বেতনস্কেলের আর্থিক সুবিধা পর্যায়ক্রমে ছাড়—এ দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। গেজেটের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী কার বেতন কোন ধাপে নির্ধারিত হবে এবং কোন সময় থেকে কত অংশ আর্থিকভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিধান ও আদেশের ওপর নির্ভর করবে।
সরকার জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করেছে এবং বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করেছে। ১৩তম গ্রেডের নতুন প্রারম্ভিক বেতন ২৪ হাজার টাকা।
কেন সরাসরি ১৫,৫০০ থেকে ২৪,০০০ টাকা করা হচ্ছে না?
অনেকের কাছে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে—১৩তম গ্রেডের নতুন সর্বনিম্ন বেতন যখন ২৪ হাজার টাকা, তাহলে ১৫,৫০০ টাকা পাওয়া কর্মচারীর বেতন সরাসরি ২৪ হাজার টাকা হওয়ার কথা নয় কি?
এখানে মূল বিষয় হলো বর্তমান বেতনস্কেলে কর্মচারী প্রারম্ভিক ধাপে আছেন কি না।
যিনি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপেই বেতন পাচ্ছেন, তার নতুন বেতন সাধারণত নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট প্রারম্ভিক ধাপে নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু কেউ যদি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই অতিরিক্ত অংশটিও নতুন বেতন নির্ধারণে বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ কারণেই ১৫,৫০০ টাকা বেতন পাওয়া কর্মচারীর ক্ষেত্রে ১১,০০০ টাকার সঙ্গে ১৫,৫০০ টাকার পার্থক্য ৪,৫০০ টাকা হিসেবে গণনা করা হচ্ছে।
১৩তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মূল বিষয়গুলো
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর ১৩তম গ্রেডের হিসাব বুঝতে কয়েকটি সংখ্যা মনে রাখা জরুরি—
- ২০১৫ সালের প্রারম্ভিক ধাপ: ১১,০০০ টাকা
- উদাহরণে বর্তমান মূল বেতন: ১৫,৫০০ টাকা
- পুরোনো প্রারম্ভিক ধাপের ওপর অতিরিক্ত: ৪,৫০০ টাকা
- ২০২৬ সালের ১৩তম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপ: ২৪,০০০ টাকা
- হিসাবের পরিমাণ: ২৮,৫০০ টাকা
- নির্ধারিত ধাপ না থাকলে: পরবর্তী উচ্চতর ধাপ গ্রহণের বিধান
- প্রদত্ত উদাহরণে পরবর্তী ধাপ: ২৯,২০০ টাকা
- ইনক্রিমেন্টের পর প্রদত্ত উদাহরণ: ৩০,৭০০ টাকা
বেতন নির্ধারণের সহজ সূত্র
নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন + (বর্তমান মূল বেতন − পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন) = হিসাবকৃত নতুন বেতন
এই সূত্রে—
২৪,০০০ + (১৫,৫০০ − ১১,০০০)
= ২৪,০০০ + ৪,৫০০
= ২৮,৫০০ টাকা
এরপর ২৮,৫০০ টাকা যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপ না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
তবে কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন পে-স্কেলের বেতন নির্ধারণ নিয়ে অনেক ধরনের হিসাব ছড়িয়ে পড়ছে। তাই শুধু কোনো পোস্ট বা অনলাইন ক্যালকুলেশন দেখে চূড়ান্ত বেতন ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। ব্যক্তির ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, সংশ্লিষ্ট পুরোনো স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা অন্য কোনো প্রযোজ্য স্কেল এবং নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপ—সবকিছু বিবেচনা করেই চূড়ান্ত পে-ফিক্সেশন করতে হবে।
সরকারি গেজেটেও মূলত পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে কর্মচারীর বিদ্যমান মূল বেতনের পার্থক্য নির্ণয় করে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে তা যোগ করার পদ্ধতি দেখানো হয়েছে। হিসাবের ফল নতুন স্কেলের কোনো ধাপে না পড়লে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণের উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ ১৩তম গ্রেডে ১৫,৫০০ টাকা মূল বেতন পাওয়া কর্মচারীর ক্ষেত্রে নতুন পে-ফিক্সেশনের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো—পুরোনো ১১,০০০ টাকার প্রারম্ভিক ধাপ থেকে তার ৪,৫০০ টাকা অতিরিক্ত অংশকে নতুন ২৪,০০০ টাকার প্রারম্ভিক ধাপের সঙ্গে যুক্ত করা। এরপর নতুন স্কেলের ধাপ অনুযায়ী চূড়ান্ত মূল বেতন নির্ধারিত হবে।
নোট: ২৯,২০০ টাকা ও পরবর্তী ৩০,৭০০ টাকার ধাপটি এখানে আপনার দেওয়া উদাহরণ/নথির হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে; চূড়ান্ত পে-ফিক্সেশনে সংশ্লিষ্ট গেজেটের পূর্ণ ধাপতালিকা ও ব্যক্তিগত চাকরির রেকর্ড অনুসরণ করতে হবে।


