ইত্যাদি । বিবিধ । ক্যাটাগরী বিহীন তথ্য

নামজারি সেবায় বড় পরিবর্তন ২০২৬ । ২৮ দিনেই মিলবে খতিয়ান, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

ভূমি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ সহজীকরণের (Doing Business Reforms) লক্ষ্যে নামজারি (মিউটেশন) নিষ্পত্তির সময়সীমায় আমূল পরিবর্তন এনেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এখন থেকে সাধারণ আবেদন এবং এল.টি. নোটিশের মাধ্যমে প্রাপ্ত নামজারি আবেদনগুলো সর্বোচ্চ ২৮ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখা-২ থেকে জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে এই নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন এই পরিবর্তন?

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইতিপূর্বে ২০১৬ সালের এক স্মারকে “স্বল্প সময়ের মধ্যে” নামজারি সম্পন্ন করার নির্দেশনা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তা যথাযথভাবে পালিত হচ্ছিল না। ফলে সেবাগ্রহীতারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই জটিলতা নিরসনে এবং ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর মনিটরিং ইমপ্লিমেন্টেশন অফ ডুইং বিজনেস রিফর্মস’ (NCMID)-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

নতুন ও পুরাতন সময়সীমার তুলনামূলক চিত্র

পরিপত্র অনুযায়ী, নামজারির ধরণভেদে সময়সীমার যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা নিচে দেওয়া হলো:

ক্রমিকনামজারির বিষয়পূর্বের সময়সীমাবর্তমান (পরিবর্তিত) সময়সীমা
০১সাধারণ আবেদন (নামজারি ও জমাভাগ)৪৫ কার্যদিবস২৮ দিন
০২এল.টি নোটিশের ভিত্তিতে নামজারিনির্দিষ্ট ছিল না২৮ দিন
০৩প্রবাসীদের জন্য নামজারিমহানগর: ১২ দিন / অন্যান্য: ৯ দিনঅপরিবর্তিত

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আগের দ্রুততম সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মহানগর এলাকায় ১২ কার্যদিবস এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে মাত্র ৯ কার্যদিবসের মধ্যে প্রবাসীদের নামজারি সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা

নতুন এই নির্দেশনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ভূমি সংস্কার বোর্ডকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে দেশব্যাপী নামজারি মামলার প্রতিবেদন ই-মেইলের মাধ্যমে সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেই সমন্বিত প্রতিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। এতে করে কোন জেলা বা উপজেলায় কাজে দেরি হচ্ছে, তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ জমির মালিকদের ভোগান্তি কমবে এবং জমি কেনাবেচার পরবর্তী প্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নামজারি বা জমি খারিজ করতে কত টাকা লাগে?

ই-নামজারি বা জমি খারিজ করার সরকারি খরচ বর্তমানে মোট ১,১৭০ টাকা। এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইনে সম্পন্ন করা যায় এবং কোনো নগদ লেনদেনের প্রয়োজন হয় না।

২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী খরচের খাতগুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:

খরচের বিস্তারিত বিভাজন:

১,১৭০ টাকাকে প্রধানত দুটি ধাপে পরিশোধ করতে হয়:

  • আবেদন করার সময় (আবেদন ফি):

    • কোর্ট ফি: ২০ টাকা

    • নোটিশ জারি ফি: ৫০ টাকা

    • (মোট ৭০ টাকা আবেদন করার সময় অনলাইনে জমা দিতে হয়)

  • আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পর (ডিসিআর ফি):

    • রেকর্ড সংশোধন ফি: ১,০০০ টাকা

    • খতিয়ান ফি: ১০০ টাকা

    • (মোট ১,১০০ টাকা খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহের আগে অনলাইনে জমা দিতে হয়)


জরুরি কিছু তথ্য:

  • অনলাইন পেমেন্ট: মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি) বা ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এই ফি পরিশোধ করা যায়।

  • অতিরিক্ত ফি: সরকার নির্ধারিত ১,১৭০ টাকার বাইরে নামজারির জন্য অন্য কোনো ফি নেই। ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রতিটি ভূমি অফিসে নির্ধারিত ফি-র তালিকা সাইনবোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন করতে হবে।

  • অভিযোগ: যদি কেউ নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা দাবি করে, তবে আপনি ভূমিসেবা হটলাইন নম্বর ১৬১২২-এ কল করে অভিযোগ জানাতে পারেন।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *