নতুন পে-স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ৫টি প্রধান সিদ্ধান্ত : নিম্ন গ্রেডে সুবিধা বেশি, বাস্তবায়নে দুই ধাপ
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৫টি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত আর্থিক সুবিধা দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে এই নতুন রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।
আজকের বৈঠকে গৃহীত মূল সিদ্ধান্ত ও সম্ভাব্য প্রভাবগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. দুই ধাপে দ্রুত বাস্তবায়ন
পূর্বে প্রস্তাবিত ৩টি ধাপের পরিবর্তে কর্মচারীদের দ্রুত আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করতে মাত্র ২টি পৃথক ধাপে পুরো নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি চাকুরিজীবীরা দ্রুত বর্ধিত বেতন পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
২. নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা
মূল্যস্ফীতি এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিম্ন আয়ের সাধারণ কর্মচারীদের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী:
১ম থেকে ৯ম গ্রেড: প্রথম ধাপে বেতন বৃদ্ধি পাবে ৪০%।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড: সাধারণ কর্মচারীদের জন্য প্রথম ধাপেই ৬০% বেতন বৃদ্ধির বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের ওপর থেকে অর্থনৈতিক চাপ হ্রাস পাবে এবং বৈষম্য কমবে।
৩. দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূরীকরণ
বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে চলে আসা গ্রেডভিত্তিক বেতন বৈষম্য নিরসনে একটি বিশেষ রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রচলিত গ্রেড বৈষম্যের একটি স্থায়ী অবসান ঘটবে বলে মনে করছে সচিব কমিটি।
৪. ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা বৃদ্ধি
শুধু মূল বেতনই নয়, বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য বিধানে বড় ভূমিকা রাখবে।
৫. কারিগরি ও আইনি প্রস্তুতি
নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আইনি ভেটিং ও বিধিমালা দ্রুত সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দ্রুত বেতন নির্ধারণ বা ‘ফিক্সেশন’-এর ব্যবস্থা করা হবে। এর ফলে আগামী ১ জুলাই থেকে এই নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি কার্যকরের পথ সুগম হবে।
তথ্যসূত্র: সচিব কমিটির বৈঠক সংক্রান্ত নথিপত্র



