নতুন পে-স্কেল ২০২৬: পিআরএল থেকে চূড়ান্ত অবসরে যাওয়া কর্মচারীর আনুতোষিক প্রাপ্যতার কি হবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের পিআরএল (PRL) ভোগকাল শেষ করে চূড়ান্ত অবসরে গমন এবং নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ কার্যকরের সময়কাল নিয়ে যে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা বা তর্কের সৃষ্টি হয়েছে, তার একটি বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ঘটনা প্রবাহ ও টাইমলাইন বিশ্লেষণ
পিআরএল শুরুর তারিখ: ০১/০৯/২০২৫ ইং।
চূড়ান্ত অবসরের তারিখ: ০১/০৯/২০২৬ ইং (অর্থাৎ এক বছরের পিআরএলকাল সমাপ্ত)।
নতুন পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ: ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর মর্মে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে।
২. মূল প্রশ্ন ও বিতর্কের মীমাংসা
ক) উনি কি নতুন পে-স্কেলের আওতাভুক্ত হবেন?
উত্তর: হ্যাঁ, তিনি নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এর আওতাভুক্ত হবেন।
যুক্তিসংকর্তা ও বিধি: পে-স্কেলটি যেহেতু চলতি বছরের ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে, এবং উক্ত কর্মচারী ০১/০৯/২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত অবসরে গিয়েছেন—সেহেতু ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩১ আগস্ট/১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তিনি চাকুরিরত বা পিআরএলরত অবস্থায় ছিলেন। সরকারি পেনশন বিধিমালা অনুযায়ী, পে-স্কেল কার্যকরের তারিখে যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী পিআরএল-এ বা চাকুরিতে বহাল থাকেন, তারা নবম পে-স্কেলের বেনিফিট পাওয়ার অধিকার রাখেন। অতীতে ২০১৫ বা তার আগের পে-স্কেল জারির সময়ও এলপিআর/পিআরএল-এ থাকা ব্যক্তিরা সংশোধিত স্কেলের সুবিধা বা বর্ধিত পেনশনের আওতাভুক্ত হয়েছেন।
খ) ১১তম গ্রেডের শেষ ধাপ ৩০২৩০ টাকা হলে ৩২২৩০ টাকা কীভাবে সম্ভব?
আপনার এই প্রশ্নটি খুবই যৌক্তিক। ২০১৫ সালের জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী ১১তম গ্রেডের বেতন স্কেল ছিল
১২,৫০০ - ৩০,২৩০টাকা। এই গ্রেডে নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হতে হতে কেউ ৩০,২৩০ টাকা কিংবা ইনক্রিমেন্টের গ্যাঁড়াকলে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে তার চেয়ে কিছুটা বেশি বা ভিন্ন ধাপের মূল বেতন পেতে পারেন (যদি পূর্বে কোনো উচ্চতর গ্রেড বা টাইমস্কেলপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন কিংবা ব্যক্তিগত ইনক্রিমেন্ট যুক্ত হয়)।তবে বর্তমান আলোচনায় উল্লিখিত ৩২২৩০ টাকা কিংবা নতুন পে-স্কেলের প্রারম্ভিক অংকটি মূলত নতুন কাঠامোর সাথে সম্পর্কিত। নতুন পে-স্কেলে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়িয়ে ২৫,০০০ টাকা বা তদূর্ধ্ব করা হয়েছে এবং এর ধাপগুলো পরিবর্তিত হয়েছে। তাই পুরনো স্কেলের শেষ ধাপের সাথে নতুন অংক মেলানো যাবে না।
গ) ২০১৫ এর নিয়ম অনুযায়ী কি উনি বঞ্চিত হবেন?
না। অতীতে ২০১৫ সালের পে-স্কেল বা তার আগের স্কেলগুলোতেও স্পষ্ট বিধান ছিল যে, পে-স্কেল কার্যকরের তারিখে যারা পিআরএল বা এলপিআর-এ আছেন, তারাও নতুন স্কেল অনুযায়ী তাদের পেনশন ও আনুতোষিক পুনর্নির্ধারণের সুবিধা পাবেন। সুতরাং, “২০১৫ এর নিয়ম অনুযায়ী পাবেন না”—এই ধারণাটি সঠিক নয়। পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনে পিআরএলভোগী ও পেক্ষাপটধারীদের জন্য সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা বা বিধান সবসময়ই থাকে।
৩. আনুমানিক আনুতোষিক (Gratuity) কত হতে পারে?
আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটি হিসাব করা হয় চূড়ান্ত মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে। যেহেতু নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ওই কর্মচারীর চূড়ান্ত অবসর সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ, তাই তার পেনশন ও আনুতোষিক নবম পে-স্কেলের নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতেই হিসাব হবে।
যদি তাঁর শেষ মূল বেতন নবম পে-স্কেলের নতুন কাঠামোর কোনো ধাপে (যেমন আনুমানিক মূল বেতন ধরে নেওয়া যাক নতুন স্কেল অনুযায়ী বর্ধিত অংকে) নির্ধারিত হয়, তবে তার সঙ্গে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্ত পেনশনের অংশ শতভাগ বা বিধিমালা অনুযায়ী ভাঙিয়ে গ্র্যাচুইটি নির্ধারিত হবে।
সুনির্দিষ্ট গেজেট বা প্রজ্ঞাপন পুরোপুরি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নিখুঁত অংক বলা কঠিন হলেও, নতুন পে-স্কেলের ප්රතිফল হিসেবে তার আনুতোষিকের পরিমাণ পূর্বের ২০১৫ সালের কাঠামোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
উপসংহার
যেহেতু নবম পে-স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে এবং উক্ত কর্মচারী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত অবসরে যাননি (তিনি তখন পিআরএল বা এর শেষ সীমানায় ছিলেন), তাই তিনি অবধারিতভাবেই নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ এর আওতাভুক্ত হবেন এবং নতুন হারে পেনশন ও আনুতোষিক প্রাপ্য হবেন। প্রজ্ঞাপন জারির পর হিসাবরক্ষণ অফিস বা এজি অফিস নবম পে-স্কেলের বিধান অনুযায়ী তাঁর চূড়ান্ত ফিক্সেশন সম্পন্ন করবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট বা এসআরও (SRO) প্রকাশিত হওয়ার পর এর আনুষ্ঠানিক কার্যকারিতা ও সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। তবে মূল নীতিগত বিধি অনুযায়ী এলপিআর/পিআরএলরত ব্যক্তি নতুন পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।



