৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেল: ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ এড়াতে এক ধাপে শতভাগ বাস্তবায়নের দাবি

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর নতুন বেতন কাঠামোর এই উদ্যোগে সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে একদিক থেকে যেমন স্বস্তি নেমে এসেছে, তেমনি এর কার্যকারিতার রূপরেখা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উৎকণ্ঠা ও অসন্তোষ।

বিশেষ করে, নতুন পে-স্কেল এক ধাপে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বা আংশিক (যেমন—প্রথম বছর বর্ধিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ) বাস্তবায়ন করার একটি সরকারি গুঞ্জন ও প্রস্তুতি চলায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠছেন সাধারণ কর্মচারীরা।

‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ ও কর্মচারীদের অসন্তোষ

সাধারণ কর্মচারীদের মতে, দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় পর নতুন পে-স্কেল আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা করেছে। এমন বাস্তবতায় সরকার যদি প্রথম ধাপে বর্ধিত বেতনের মাত্র অর্ধেক (৫০ শতাংশ) কার্যকর করে, তবে তা বর্তমান বাজারের আগুনে মূল্যের সামনে কর্মচারীদের জীবনে কোনো ইতিবাচক প্রভাবই ফেলবে না।

কর্মচারী সংগঠনগুলোর একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, আংশিক বাস্তবায়নের এই প্রক্রিয়াটি আসলে আর কিছুই নয়, কেবলই একটি গাণিতিক মারপ্যাঁচ বা ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’।

আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে ‘এক ধাপে ১০০% বাস্তবায়ন’

সম্প্রতি এই দাবিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে জোরালো প্রচার-প্রচারণা ও আন্দোলন দানা বেঁধে উঠেছে। বিভিন্ন দপ্তরের দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে পোস্টার। এসব পোস্টারে ‘বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ স্লোগানকে মূল প্রতিপাদ্য করে অত্যন্ত দৃঢ় ভাষায় দাবি জানানো হয়েছে—‘এক ধাপেই বেসিকের ১০০% বাস্তবায়ন চাই।’

অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও মুদ্রাস্ফীতির মনস্তাত্ত্বিক চাপ

অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল ঘোষণার একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বাজারে পড়ে। পে-স্কেল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়িয়ে দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে বেতন বৃদ্ধি যদি পূর্ণাঙ্গ অর্থাৎ এক ধাপে ১০০ শতাংশ কার্যকর না হয়, তবে কর্মচারীদের প্রাপ্ত আংশিক অর্থ বাড়তি বাজার খরচের তুলনায় একপ্রকার নগণ্য হয়ে পড়বে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো পাওয়ার পরও নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হবেন।

কর্মচারী মহলের প্রধান দাবি রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারকদের প্রতি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমনে বিভিন্ন সংগঠন প্রধানত তিনটি দাবিকে সামনে রেখে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে:

  • এক ধাপেই শতভাগ বাস্তবায়ন: পে-স্কেল কার্যকরের প্রথম দিন থেকেই বর্ধিত মূল বেতনের (বেসিক) পূর্ণ সুবিধা বা ১০০% সুবিধা প্রদান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ধাপে ধাপে বা কিস্তিতে সুবিধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য হবে না।

  • কঠোর বাজার নিয়ন্ত্রণ: পে-স্কেল ঘোষণার সমান্তরালে সরকার ও প্রশাসনকে কঠোর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। যাতে কোনো সিন্ডিকেট কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে কর্মচারীদের বর্ধিত বেতনের সুবিধা পকেটে পুরতে না পারে।

  • নিম্ন গ্রেডের বৈষম্য দূরীকরণ: বিশেষ করে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে বেতন কাঠামোর বর্তমান বৈষম্যগুলো পুরোপুরি দূর করতে হবে।

সাধারণ কর্মচারীদের হুঁশিয়ারি: নতুন পে-স্কেল নিয়ে যেকোনো ধরনের আংশিক বা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের চরম হতাশার দিকে ঠেলে দেবে। বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশে সরকারি সেবার মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে এক ধাপে শতভাগ পে-স্কেল বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *