২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিল দাখিলে নতুন নির্দেশনা, ২৫ জুনের মধ্যে হিসাবরক্ষণ অফিসে জমার তাগিদ
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সমাপনী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দেশের সকল প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হিসাবরক্ষণ কার্যালয়গুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের (সিজিএ) কার্যালয়। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা এক অফিস আদেশে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ব্যয় বিল দাখিল, বুক ট্রান্সফার, এলসি বিল এবং বকেয়া বিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সিজিএ কার্যালয়ের অতিরিক্ত হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (হিসাব ও পদ্ধতি) মোহাম্মদ কাসির হোসেন স্বাক্ষরিত এ আদেশে বলা হয়েছে, অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনার আলোকে চলতি অর্থবছরের ব্যয় বিল দাখিল ও নিষ্পত্তির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।
২৩ জুনের মধ্যে পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের বিল দাখিল
অফিস আদেশ অনুযায়ী, সিএমও ও ডিভিশনাল পর্যায়ের কার্যালয়গুলোর পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের আওতাধীন ব্যয় বিল সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে ২৩ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দাখিল করতে হবে।
অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দপ্তরগুলোকে তাদের বিল ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
বুক ট্রান্সফার ও এলসি বিলের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়সীমা
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, Book Transfer, Zero Value Bill এবং LC (Letter of Credit) সংশ্লিষ্ট বিলসমূহও একই সময়সীমার মধ্যে জমা দিতে হবে।
সিএমও ও বিভাগীয় পর্যায়ের কার্যালয়ের ক্ষেত্রে এসব বিল ২৩ জুন এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ২৫ জুন সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
উন্নয়ন বাজেটের বেতন বিলও নির্ধারিত সময়ে জমা দিতে হবে
সিজিএ কার্যালয় উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বেতন বিল জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। এতে উন্নয়ন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অর্থবছর শেষে কোনো জটিলতা তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফেরত বিল দ্রুত পুনরায় দাখিলের নির্দেশ
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো কারণে ফেরত দেওয়া বিল থাকলে তা দ্রুত সংশোধন করে পুনরায় হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে দাখিল করতে হবে।
ফেরত বিলসহ সব ধরনের বিল ২৫ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে অর্থবছর সমাপ্তির আগে সব আর্থিক লেনদেন যথাযথভাবে নিষ্পন্ন করা যায়।
প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা
নির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেসব প্রকল্প PL অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিল গ্রহণ না করে হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে সরাসরি চেক গ্রহণ করেছে, সেসব প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে A-Challan এর মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
অর্থবছর শেষে সরকারি হিসাব সঠিকভাবে সমন্বয় এবং অব্যয়িত অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ
সিজিএ কার্যালয় দেশের সকল হিসাবরক্ষণ কার্যালয়কে তাদের আওতাধীন বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে বিষয়টি দ্রুত অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। এতে বিল দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
অর্থবছর সমাপনী কার্যক্রমে গুরুত্ব
প্রতি অর্থবছরের শেষ দিকে সরকারি ব্যয়, বিল নিষ্পত্তি এবং হিসাব সমন্বয় কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বিল দাখিল না হলে সংশ্লিষ্ট ব্যয় পরবর্তী অর্থবছরে স্থানান্তর বা অর্থছাড়ে বিলম্বের মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। ফলে অর্থবছরের শেষ পর্যায়ে সকল দপ্তর ও সংস্থাকে নির্ধারিত সময়সূচি মেনে দ্রুত বিল দাখিল ও নিষ্পত্তির কাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দিয়েছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।


