বাংলাদেশ পুলিশের জন্য নতুন বেতন-ভাতা আদেশ ২০২৬: বেতন পুনর্নির্ধারণ থেকে ঝুঁকি, কিট, ট্রাফিক ও বাড়িভাড়া—যা জানা জরুরি
বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, বেতন পুনর্নির্ধারণ, বাড়িভাড়া, ঝুঁকি ভাতা, কিট ভাতা, ট্রাফিক ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের জারি করা ‘চাকরি (বাংলাদেশ পুলিশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। আদেশটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন আদেশটি শুধু নতুন বেতনস্কেলের অঙ্ক নির্ধারণ করেনি; বরং পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের জন্য বিশেষ ভাতা এবং কনস্টেবলদের জন্য আলাদা বাড়িভাড়া কাঠামোও নির্ধারণ করেছে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর
আদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ অনুযায়ী বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর। একই সঙ্গে নতুন স্কেলের সঙ্গে বিদ্যমান বেতনের পার্থক্য একবারে পুরোপুরি না দিয়ে ধাপে ধাপে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নতুন নির্ধারিত বেতন ও ৩০ জুন ২০২৬-এর বিদ্যমান বেতনের পার্থক্যের নির্দিষ্ট অংশ যোগ হবে। এ ক্ষেত্রে ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ৫০ শতাংশ পার্থক্য বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত ধাপে বেতন পার্থক্যের আরও বড় অংশ কার্যকর হবে। পরবর্তী ধাপে ১ জুলাই ২০২৭ থেকে পূর্ণ হারে নতুন বেতনস্কেলের বেতন কার্যকর করার বিধান রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন বেতনস্কেলের ক্ষেত্রে পুলিশের কর্মীদের জন্য মূল কাঠামোটি দাঁড়াচ্ছে—
- ১ জুলাই ২০২৬: প্রথম ধাপ
- ১ জানুয়ারি ২০২৭: দ্বিতীয় ধাপ
- ১ জুলাই ২০২৭: পূর্ণ নতুন বেতন
এ কারণে ১ জুলাই ২০২৬ থেকেই প্রত্যেক কর্মচারীর ব্যাংক হিসাবে নতুন স্কেলের পূর্ণ বেসিক জমা পড়বে—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং আদেশে নির্ধারিত ধাপ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ ও পরিশোধ করতে হবে।
গ্রেডভিত্তিক নতুন বেতনস্কেল
গেজেটে ১ থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫-এর বিদ্যমান কাঠামোর পাশাপাশি জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট স্কেল দেখানো হয়েছে। ২০২৬ সালের স্কেল অনুযায়ী সর্বনিম্ন গ্রেডে নতুন প্রারম্ভিক বেতন আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে এবং উচ্চতর গ্রেডগুলোতেও নতুন ধাপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেটের বেতন সারণিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নতুন ধাপগুলোও আলাদাভাবে দেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশ বাহিনীর কনস্টেবলসহ বিভিন্ন পদে কর্মরতদের বেতন নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পদের গ্রেড ও বর্তমান মূল বেতন বিবেচনা করে নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপ ব্যবহার করতে হবে।
পুরোনো বেতন থেকে নতুন বেতন কীভাবে নির্ধারণ হবে
নতুন আদেশে সরাসরি শুধু নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়নি। কর্মরত কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতন বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে।
কোনো কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন যদি নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে বর্তমান বেতন ও সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপের পার্থক্য নির্ণয় করে পরবর্তী ধাপে তা সমন্বয়ের বিধান রয়েছে। গেজেটে এ বিষয়ে উদাহরণও দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে একই গ্রেডের দুই পুলিশ সদস্যের বর্তমান মূল বেতন আলাদা হলে নতুন স্কেলে তাঁদের বেতনও একইভাবে এক জায়গায় গিয়ে থেমে যাবে—এমন নয়। পূর্বের বেতনধাপের অবস্থান অনুযায়ী নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
২০২৭ সাল থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
নতুন আদেশে সব কর্মচারীর বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন যোগদানকারী কর্মচারীর ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬ মাসের qualifying service থাকলে তিনি বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির সুবিধা পাবেন।
অর্থাৎ নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার পর ১ জুলাই ২০২৭ থেকে নিয়মিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বিষয়টি নতুন কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে।
পুলিশ সদস্যদের বিশেষ ভাতায় বড় পরিসরের কাঠামো
বাংলাদেশ পুলিশের জন্য গেজেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর বিশেষ পুলিশ ভাতার সারণি।
এই সারণিতে বিভিন্ন ইউনিট ও পদ অনুযায়ী আলাদা আলাদা মাসিক ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন/এপিবিএন
- জেলা পুলিশ
- বিশেষ শাখা ও জেলা এসবি
- মেট্রোপলিটন পুলিশ
- সিআইডি
- প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান
- বিভিন্ন বিশেষ দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য
- অ্যাকটিং এলাউয়েন্স
- নিশ্চিত/নির্ধারিত যাতায়াত ভাতা
- টেলিকম এলাউয়েন্স
- মাউন্টেড পুলিশ এলাউয়েন্স
- পিবিআই এলাউয়েন্স
- মোটরসাইকেল ভাতা
- সশস্ত্র শাখা ভাতা
অর্থাৎ নতুন আদেশে পুলিশের সব সদস্যকে একই ধরনের একটি ভাতার আওতায় না রেখে দায়িত্ব, ইউনিট ও পদের ধরন অনুযায়ী পৃথক সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের জন্য মাসিক ৩,৯০০ টাকা
নতুন আদেশের আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ট্রাফিক এলাউয়েন্স।
গেজেটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে কর্মরত কর্মচারীরা মাসিক ৩,৯০০ টাকা নির্ধারিত ট্রাফিক ভাতা পাবেন।
তবে ১ জুলাই ২০২৬ বা তার পরবর্তী সময়ে যোগদানকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বিদ্যমান হারে সর্বোচ্চ ৩,২৫০ টাকা প্রাপ্য হবে। অর্থাৎ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ও আগে থেকে কর্মরতদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আলাদা বিধান রাখা হয়েছে।
এই পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ৩,৯০০ টাকা নতুন নির্ধারিত হার হলেও তা প্রত্যেক ট্রাফিক কর্মচারীর ক্ষেত্রে একই সময় থেকে একই অঙ্কে কার্যকর হবে না।
কিট ভাতায় পরিবর্তন
পুলিশ সদস্যদের জন্য কিট ভাতাও নতুন আদেশে আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পোশাকধারী শাখার জন্য এসপি থেকে নিম্ন পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক কিট ভাতা এবং বার্ষিক নবায়ন মঞ্জুরি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আবার সাধারণ পোশাকধারী শাখায় কর্মরত পরিদর্শক ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তাঁরা পোশাকধারী শাখার সমপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রাপ্য কিট ভাতার নির্দিষ্ট সুবিধা পাবেন এবং নবায়ন পোশাক ভাতার অর্ধেক পাওয়ার বিধানও রয়েছে।
গেজেটে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, একজন কর্মকর্তা চাকরি জীবনে সাধারণভাবে একবারই প্রারম্ভিক মঞ্জুরি পাবেন; তবে পদোন্নতির ফলে উচ্চতর প্রারম্ভিক মঞ্জুরি প্রাপ্য হলে নির্দিষ্ট পার্থক্য পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
কনস্টেবলদের বাড়িভাড়া ভাতায় বিশেষ ব্যবস্থা
পুলিশের কনস্টেবলদের জন্য আলাদা বাড়িভাড়া কাঠামো রাখা হয়েছে। ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে হারে বাড়িভাড়া পাওয়া যাচ্ছিল, তা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এরপর ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বিবাহিত কনস্টেবলদের জন্য নতুন হার কার্যকর হবে।
বিশেষ করে—
সরকারি বিবাহিত বাসস্থান বরাদ্দ না পাওয়া এবং ব্যারাকেও অবস্থান না করা বিবাহিত কনস্টেবলদের ক্ষেত্রে বাড়িভাড়া মূল বেতনের শতাংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেটের সারণি অনুযায়ী, গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত কনস্টেবলদের জন্য স্থানভেদে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ৬০ শতাংশ ও ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়ার কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। আর গ্রেড-১৫ থেকে গ্রেড-১০ পর্যন্ত নির্দিষ্ট ধাপে ৩৫ শতাংশ, ৫০ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ হারের কাঠামো রয়েছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিবাহিত কনস্টেবল সরকারি বাসস্থান না পেয়ে ব্যারাকে থাকলে এবং বিবাহিত বাসস্থান বরাদ্দ না থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে মূল বেতনের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া পাওয়ার বিধান রয়েছে। অবিবাহিত কনস্টেবলদের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতা: ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা
নতুন আদেশে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট হার রাখা হয়েছে।
৫০ বছর বয়স পর্যন্ত মাসিক ৩,০০০ টাকা এবং ৫০ বছর ১ দিন বয়স থেকে পিআরএল শেষ হওয়া পর্যন্ত মাসিক ৪,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা প্রাপ্য হবে।
অবসরভোগী ও আজীবন পারিবারিক পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে চিকিৎসা ভাতা আরও বাড়বে—
- ৫০ বছর পর্যন্ত: ৩,০০০ টাকা
- ৫০ বছর ১ দিন থেকে ৬০ বছর: ৪,০০০ টাকা
- ৬০ বছর ১ দিন থেকে ৭০ বছর: ৫,০০০ টাকা
- ৭০ বছরের বেশি: ৬,০০০ টাকা।
বাংলা নববর্ষ ভাতা ১৫ শতাংশ
সব কর্মচারীর জন্য আহরিত মূল বেতনের ১৫ শতাংশ হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
অর্থাৎ নতুন বেতনস্কেলে মূল বেতন যত বাড়বে, সংশ্লিষ্ট মূল বেতনের ওপর হিসাব হওয়া বাংলা নববর্ষ ভাতার অঙ্কও সেই অনুযায়ী পরিবর্তিত হবে।
ঝুঁকি ভাতার ক্ষেত্রে পুলিশের জন্য বিশেষ বিধান
পুলিশের চাকরির ঝুঁকিপূর্ণ প্রকৃতিকে বিবেচনায় রেখে ঝুঁকি ভাতা সংক্রান্ত পৃথক বিধান রাখা হয়েছে।
পুলিশ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা অর্থ বিভাগ ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট আদেশ অনুযায়ী ঝুঁকি ভাতা পাবেন। তবে এই ভাতাকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর মূল বেতনের সাধারণ শতাংশ হিসেবে গণনা করা হবে না।
একই সঙ্গে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-এ নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। তাঁরা নিজ বাহিনীর জন্য নির্ধারিত বিশেষ ভাতা ও ঝুঁকি ভাতা পাবেন না—গেজেটে এ বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা বিভাগে প্রেষণে থাকা পুলিশ সদস্যদের ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের জন্য প্রযোজ্য বাড়িভাড়া ভাতার বিধান প্রযোজ্য হবে।
মোবাইল ভাতাও নির্ধারিত
নতুন বেতনস্কেলে মোবাইল ভাতার হারও নির্ধারণ করা হয়েছে।
গেজেট অনুযায়ী—
- ১ম থেকে ৫ম গ্রেড: মাসিক ৫০০ টাকা
- ৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড: মাসিক ৪৫০ টাকা
মোবাইল ভাতার এই বিধান নতুন বেতন কাঠামোর অংশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
ডিউটি, টিফিন ও অন্যান্য ভাতা
পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও কয়েকটি সাধারণ ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
- ডিউটি ভাতা
- টিফিন ভাতা
- শিক্ষা সহায়ক ভাতা
- পাহাড়ি ভাতা
- প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে প্রেরণ ভাতা
- বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের ভাতা
- মোবাইল ভাতা
- যাতায়াত ভাতা
- হাওড়/দ্বীপ/চর ভাতা
এর মধ্যে ডিউটি ভাতা মাসিক ১,৫০০ টাকা এবং নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মীদের জন্য টিফিন ভাতা মাসিক ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনলাইনে বেতন নির্ধারণ হবে iBAS++-এ
নতুন আদেশের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অনলাইনে বেতন নির্ধারণ।
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ জারি হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের iBAS++ সিস্টেমে প্রবেশ করে pay fixation-এর মাধ্যমে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। গেজেটে iBAS++-এর পাশাপাশি pay fixation সংক্রান্ত অনলাইন ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে কর্মচারীর নতুন বেতন, বেতন নির্ধারণী বিবরণী, যাচাইকরণ নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট তথ্য অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফলে পুলিশের ক্ষেত্রেও নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে সঠিক pay fixation এবং হিসাবরক্ষণ অফিসের যাচাই।
পুরোনো ২০১৫ সালের আদেশ বাতিল
নতুন আদেশের মাধ্যমে ‘চাকরি (বাংলাদেশ পুলিশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫’ বাতিল করা হয়েছে।
তবে আগের আদেশের আওতায় জারি করা যেসব আদেশ, প্রজ্ঞাপন, অফিস স্মারক বা পরিপত্র নতুন আদেশের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, সেগুলো নতুন বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর থাকবে।
অর্থাৎ ২০১৫ সালের কাঠামো সরাসরি পুরোপুরি অকার্যকর হলেও আগের সব প্রশাসনিক নির্দেশনা একসঙ্গে বাতিল হয়ে যায়নি; নতুন আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধান বহাল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
অবসর, পেনশন ও ছুটির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন
নতুন জাতীয় বেতনস্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন ও অবসর-পরবর্তী সুবিধার ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো প্রযোজ্য হবে।
আদেশ অনুযায়ী অবসর-উত্তর ছুটির ক্ষেত্রে ১২ মাস পূর্ণ গড় বেতনে অবসর-উত্তর ছুটি এবং ১৮ মাস ছুটি নগদায়নের সুবিধার কথা উল্লেখ রয়েছে।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী নিট পেনশন পুনর্নির্ধারণ, বার্ষিক বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সুবিধা সমন্বয়ের বিধান রাখা হয়েছে।
সার্বিকভাবে কী পরিবর্তন হলো?
বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ২০২৬ সালের নতুন বেতন-ভাতা আদেশ বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে আসে।
প্রথমত, মূল বেতন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ হবে।
দ্বিতীয়ত, নতুন বেতন এক ধাপে পুরোপুরি কার্যকর না হয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে।
তৃতীয়ত, পুলিশ বাহিনীর ইউনিট ও দায়িত্বভেদে বিশেষ ভাতার পৃথক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
চতুর্থত, ট্রাফিক পুলিশ, এপিবিএন, জেলা পুলিশ, এসবি, সিআইডি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ইউনিটের জন্য পৃথক ভাতা রাখা হয়েছে।
পঞ্চমত, কনস্টেবলদের জন্য বাড়িভাড়া ভাতায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে এবং ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে নতুন শতাংশভিত্তিক কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ষষ্ঠত, চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা কর্মরতদের জন্য এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
সপ্তমত, ঝুঁকি ভাতা পুলিশের জন্য আলাদা বিধানে রাখা হলেও এসআরবি সদস্যদের ক্ষেত্রে পৃথক সীমাবদ্ধতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত এই গেজেট বাংলাদেশ পুলিশের বেতন ও ভাতা ব্যবস্থাকে ২০১৫ সালের কাঠামো থেকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন কাঠামোয় নিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা বেতন ও ভাতা আসবে, তা নির্ভর করবে তাঁর গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, পদ, ইউনিট, কর্মস্থল, প্রযোজ্য বিশেষ ভাতা এবং নতুন pay fixation-এর ফলাফলের ওপর। তাই শুধু নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন দেখে ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণ করা সঠিক হবে না।



