৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

পে স্কেল মন্ত্রিসভায় উঠছে সোমবার? প্রজ্ঞাপন নিয়ে সুখবর, অনুমোদন হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই জারি হতে পারে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল নিয়ে ফের আশার খবর পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আগামী সোমবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভা বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে। ওই বৈঠকে প্রস্তাব অনুমোদন পেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা

সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন মূলত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের প্রক্রিয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখানে নতুন পে-স্কেলকে এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

সূত্রটির দাবি অনুযায়ী, সোমবার মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।

তবে এ বিষয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বেতন বৃদ্ধির হার নিয়ে মুখ খুলেননি কর্মকর্তা

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের জায়গা হচ্ছে—কোন গ্রেডে কত টাকা মূল বেতন বাড়বে এবং ভাতা কাঠামোতে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে।

তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।

অর্থাৎ, পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে—এমন তথ্য পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, গ্রেডভিত্তিক নতুন মূল বেতন এবং ভাতার পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন সম্ভাব্য বেতন তালিকা বা গ্রেডভিত্তিক অঙ্ককে সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশের আগে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা’—আগেই এসেছিল এমন ইঙ্গিত

নতুন পে-স্কেল নিয়ে এর আগেও সরকারের উচ্চপর্যায়ের বক্তব্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো মুহূর্তে তা ঘোষণা হতে পারে।

সেই বক্তব্যের পর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়ে যায়।

এখন মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠককে কেন্দ্র করে সেই প্রত্যাশা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

১০ সদস্যের সচিব কমিটি জমা দিয়েছে সুপারিশ

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২১ এপ্রিল একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব **নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে গঠিত ১০ সদস্যের ওই কমিটির দায়িত্ব ছিল সরকারি চাকরিজীবীদের বিদ্যমান বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া।

কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

এরপর থেকেই সুপারিশগুলো নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছিল।

মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ?

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

তবে এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—‘সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ’ অর্থ এই নয় যে সব গ্রেডের বেতন একই হারে দ্বিগুণ হবে।

গ্রেড, বিদ্যমান মূল বেতন, দায়িত্বের ধরন এবং সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে বৃদ্ধির হার ভিন্ন হতে পারে।

চূড়ান্তভাবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত কাঠামো এবং পরে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ার পরই গ্রেডভিত্তিক প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা

নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর না করে দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সম্ভাব্য পরিকল্পনা অনুযায়ী—

প্রথম ধাপে:
মূল বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হতে পারে।

দ্বিতীয় ধাপে:
বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাগুলোতে পরিবর্তন কার্যকর হতে পারে।

এ ধরনের ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পেছনে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে দুই ধাপের বাস্তবায়ন পদ্ধতিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি।

সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি চাকরিজীবীদের দৃষ্টি এখন মূলত সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকের দিকে।

কারণ, ওই বৈঠকে যদি নতুন পে-স্কেল প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে এজেন্ডাভুক্ত হয় এবং অনুমোদন পায়, তাহলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসানের পথে বড় অগ্রগতি হবে।

এরপর সাধারণত অনুমোদিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

সূত্রের দাবি অনুযায়ী, অনুমোদনের পর দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, চূড়ান্ত খসড়ার ভাষা এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতার কারণে সময়সূচিতে পরিবর্তনও হতে পারে।

চাকরিজীবীদের অপেক্ষা এখন সরকারি প্রজ্ঞাপনের

নতুন পে-স্কেল নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে নতুন পে-স্কেলের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

সচিব কমিটির সুপারিশ জমা, উচ্চপর্যায়ের বক্তব্য এবং এখন মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব ওঠার সম্ভাবনার খবরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সব তথ্যের শেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন।

সংক্ষেপে যা জানা যাচ্ছে

  • আগামী সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন পে-স্কেল প্রস্তাব উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।
  • ওইদিন অনুমোদন পেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
  • বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
  • সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
  • নতুন বেতন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে।
  • প্রথম ধাপে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর হতে পারে।
  • চূড়ান্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের জন্য সরকারি প্রজ্ঞাপনের অপেক্ষা করতে হবে।

শেষ কথা

নতুন পে-স্কেল নিয়ে সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রস্তাবটি সত্যিই বৈঠকের এজেন্ডায় ওঠে এবং অনুমোদন পায় কি না—সেদিকেই এখন সবার নজর।

অনুমোদন মিললে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হতে পারে বলে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নিঃসন্দেহে আশার খবর। তবে মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি, কার্যকরের তারিখ কিংবা গ্রেডভিত্তিক নতুন বেতনের অঙ্ককে চূড়ান্ত বলা যাবে না।

এখন অপেক্ষা—সোমবারের মন্ত্রিসভা বৈঠক এবং এরপর সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *