প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল: ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার, ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার টাকা—দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামোতে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা উঠে এসেছে।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রণয়নে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গত ২১ এপ্রিল গঠন করা হয় এবং কমিটি নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিচের বেতনহারগুলোকে চূড়ান্ত সরকারি গেজেট হিসেবে নয়, প্রস্তাবিত বা আলোচিত কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সরকারিভাবে অনুমোদন ও প্রজ্ঞাপন জারির পরই চূড়ান্ত বেতনহার নিশ্চিত হবে।
দুই ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা এবং পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে নতুন বেতনকাঠামো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সরকারি ঘোষণার বিষয়টিও ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।
প্রস্তাবিত গ্রেডভিত্তিক নতুন মূল বেতন
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী প্রস্তাবিত বেতনহারগুলো হলো—
১ম গ্রেড
১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত)
২য় গ্রেড
১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা
৩য় গ্রেড
১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা
৪র্থ গ্রেড
১,০০,০০০–১,৪২,৮০০ টাকা
৫ম গ্রেড
৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা
৬ষ্ঠ গ্রেড
৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা
৭ম গ্রেড
৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা
৮ম গ্রেড
৪৭,২০০–১,১৩,৭০০ টাকা
৯ম গ্রেড
৪৫,১০০–১,০৮,৮০০ টাকা
১০ম গ্রেড
৩২,০০০–৯৭,৩০০ টাকা
১১তম গ্রেড
২৫,০০০–৮৬,৫০০ টাকা
১২তম গ্রেড
২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা
১৩তম গ্রেড
২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা
১৪তম গ্রেড
২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা
১৫তম গ্রেড
২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা
১৬তম গ্রেড
২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা
১৭তম গ্রেড
২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা
১৮তম গ্রেড
২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা
১৯তম গ্রেড
২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা
২০তম গ্রেড
২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা
বর্তমানের সঙ্গে কী পরিবর্তন হতে পারে?
বর্তমান জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় তা ২০ হাজার টাকা করার কথা উঠে এসেছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন স্তরের কর্মচারীদের মূল বেতনে বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটতে পারে।
অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বর্তমান নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার সুপারিশের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
কেন দুই ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা?
নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের জন্য বড় অঙ্কের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। তাই একবারে সব উপাদান কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাতে সরাসরি বেতনের পরিমাণ বাড়বে। দ্বিতীয় ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা হলে সরকারের আর্থিক চাপ একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব হবে।
চূড়ান্ত হওয়ার আগে আরও কী কী ধাপ বাকি?
পে স্কেল নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ তৈরি হওয়া মানেই তাৎক্ষণিকভাবে নতুন বেতন কার্যকর হওয়া নয়। সাধারণত পরবর্তী ধাপগুলো গুরুত্বপূর্ণ—
- সংশ্লিষ্ট কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তকরণ
- সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন
- মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন ও অনুমোদনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া
- বেতনকাঠামোর চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও আইনগত যাচাই
- সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ
- কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে কমিটির সুপারিশ জমা দেওয়া এবং বিষয়টি পরবর্তী সরকারি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার তথ্যও এসেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো গ্রেডভিত্তিক তালিকাকে চূড়ান্ত বেতনকাঠামো ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কারণ, সুপারিশকৃত কাঠামোতে পরবর্তী সময়ে সংশোধন, আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে পরিবর্তন কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমায় পুনর্বিন্যাস হতে পারে। চূড়ান্ত সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপনই হবে নতুন পে স্কেলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য দলিল।
সংক্ষেপে যা জানা যাচ্ছে
- প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন মূল বেতন: ২০,০০০ টাকা
- প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ মূল বেতন: ১,৬০,০০০ টাকা
- গ্রেড সংখ্যা: ১ থেকে ২০
- বাস্তবায়নের আলোচনা: ধাপে ধাপে
- প্রথম ধাপে গুরুত্ব: মূল বেতন
- পরবর্তী ধাপে আলোচনায়: বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা
- চূড়ান্ত বেতনহার: সরকারি অনুমোদন ও গেজেটের পর নিশ্চিত হবে
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন পে স্কেল এখন বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত তালিকা ও চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্তের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে—এ বিষয়টি মাথায় রেখেই পরবর্তী সরকারি ঘোষণা ও গেজেটের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।


