৯ম পে স্কেল নিউজ ২০২৬

পে-স্কেল গেজেট প্রকাশে বিলম্বের নেপথ্যে ৪টি জটিল কারণ: চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী ২৪ জুনের মিটিংয়ে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটাতে তথ্যাদি বিশ্লেষণে বেরিয়ে এসেছে মূল কারণ। গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সচিব কমিটির মিটিংয়ে পে-স্কেলের কিছু অমীমাংসিত বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। যার ফলে আগামী ২৪ জুন পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ একটি মিটিং আহ্বান করা হয়েছে।

অনেকেই মনে করছেন গেজেট প্রকাশে সরকার ইচ্ছে করেই কালক্ষেপণ করছে। তবে পে-স্কেলের হিসাব-নিকাশ অত্যন্ত জটিল ও স্পর্শকাতর হওয়ায় যৌক্তিক কারণেই চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশে কিছুটা সময় লাগছে। মূলত চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ও আইনি বিষয়ের নিখুঁত সমাধানের ওপরই আটকে আছে এই গেজেট।

গেজেট বিলম্বের প্রধান ৪টি যৌক্তিক কারণ:

  • ১. আইনি ভেটিং ও বিধিমালা সংশোধন (Legal Scrutiny): একটি নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পূর্বের বহু বিধিমালা সংশোধন করতে হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের যথাযথ ভেটিং (আইনি স্ক্রুটিনি) ছাড়া গেজেট প্রকাশ করলে পরবর্তীতে নানা আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। এই আইনি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রতিটি ধারা নিখুঁতভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

  • ২. অর্থ অবমুক্তি ও ক্যাশ ম্যানেজমেন্ট (Fund Management): নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সাথে রাষ্ট্রের বিশাল অঙ্কের বাজেট জড়িত। সরকারের সামষ্টিক অর্থনীতি ও ক্যাশ ম্যানেজমেন্টের ওপর যেন হঠাৎ কোনো বড় চাপ না পড়ে, সেজন্য অর্থ বিভাগ থেকে ফান্ড রিলিজ বা অর্থ অবমুক্তির প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সাজাতে হচ্ছে।

  • ৩. ১১-২০ গ্রেডের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের জটিলতা: নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের (১১ থেকে ২০ গ্রেড) কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বেতন বৈষম্য দূর করা এবারের পে-স্কেলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বৈষম্য দূরীকরণের ফর্মুলাটি ‘শতাংশ’ (Percentage) হিসেবে হবে নাকি ‘শতভাগ’ করা হবে—তা এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এই একটি বিষয়ের ওপর লাখ লাখ কর্মচারীর আর্থিক সুবিধা নির্ভর করছে।

  • ৪. iBAS++ ডিজিটাল ফিক্সেশন নাকি ভিন্ন পদ্ধতি: সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন নির্ধারণের বর্তমান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘iBAS++’। নতুন পে-স্কেলের জটিল হিসাব-নিকাশ iBAS++ সিস্টেমে আপগ্রেড করে ডিজিটাল ফিক্সেশন করা হবে, নাকি সাময়িকভাবে ভিন্ন কোনো সহজ পদ্ধতিতে ফিক্সেশন করা হবে, সেই টেকনিক্যাল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আইটি ও হিসাব বিভাগের আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন।

বাস্তবায়নের তারিখ অপরিবর্তিত যদিও গেজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে, তবে সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১লা জুলাই ২০২৬ হতেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর বা বাস্তবায়ন হবে। অর্থাৎ, গেজেট জুলাই মাসে প্রকাশ হলেও চাকরিজীবীরা ১লা জুলাই থেকেই এর আর্থিক সুবিধা (অ্যারিয়ার্স বা বকেয়াসহ) পাবেন।

আমাদের বিশ্লেষণ:

সার্বিক তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে এটি স্পষ্ট যে, এখানে সরকারের কোনো অবহেলা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কালক্ষেপণ নেই। পে-স্কেলের মতো একটি সংবেদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পলিসি তাড়াহুড়ো করে দিলে পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ে অসংখ্য ভুল ও অসঙ্গতি ধরা পড়তে পারে। তাই নিখুঁত ও বৈষম্যহীন একটি পে-স্কেল উপহার দিতেই সচিব কমিটি আরও কিছুটা সময় নিচ্ছে। আগামী ২৪ জুনের মিটিংয়ে এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর একটি ইতিবাচক ও চূড়ান্ত সমাধান আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ততক্ষণে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

admin

আমি একজন সরকারী চাকরিজীবি। দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ চাকুরির সুবাদে সরকারি চাকরি বিধি বিধান নিয়ে পড়াশুনা করছি। বিএসআর ব্লগে সরকারি আদেশ, গেজেট, প্রজ্ঞাপন ও পরিপত্র পোস্ট করা হয়। এ ব্লগের কোন পোস্ট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে বা ব্যাখ্যা জানতে পোস্টের নিচে কমেন্ট করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *