১ জুলাই থেকে আসছে নতুন বেতন কাঠামো, তবে বদলে যেতে পারে বাস্তবায়নের কৌশল ৬০/৪০ শতাংশে
সরকারি কর্মচারীদের জন্য আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে এটি বাস্তবায়নের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সব গ্রেডের জন্য সমান হারে নয়, বরং নিম্ন ও উচ্চ গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য আলাদা অনুপাতে বেতন বৃদ্ধির টাকা ধাপে ধাপে পরিশোধের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা বনাম বর্তমান চিন্তা-ভাবনা
শুরুতে সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, বর্তমান বেতন কাঠামোর তুলনায় নতুন কাঠামোতে যতটুকু মূল বেতন (Basic Pay) বাড়বে, তার ৫০ শতাংশ করে পরপর দুই অর্থবছরে দেওয়া হবে। আর শেষ অর্থবছরে গিয়ে ভাতার বর্ধিত অংশটুকু পরিশোধ করা হবে।
তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রেডভেদে এই আনুপাতিক হারে পরিবর্তন আসতে পারে:
১ম থেকে ৯ম গ্রেড (কর্মকর্তা): মূল বেতন যতটুকু বাড়বে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে দেওয়া হতে পারে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (কর্মচারী): মূল বেতন যতটুকু বাড়বে, তার ৬০ শতাংশ আগামী অর্থবছরেই দিয়ে দেওয়া হতে পারে।
দ্রষ্টব্য: এই কৌশলগত পরিবর্তনের বিষয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
যেভাবে এলো নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ
বিদ্যমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন প্রথম সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গঠিত হয় ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’।
চলতি বছরের গত ২১ জানুয়ারি কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এছাড়া বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর জন্য যথাক্রমে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫’ ও ‘সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশন-২০২৫’ পৃথক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
বড় অঙ্কের ব্যয় বৃদ্ধির মুখে সরকার
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর প্রতিবেদনে কর্মচারীদের গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিশাল ও যুগান্তকারী সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে। মূলত এই বিশাল আর্থিক চাপের বিষয়টি মাথায় রেখেই এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতেই বাস্তবায়নের হারে (৪০% ও ৬০%) এই নতুন রদবদলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
১ জুলাই থেকে নতুন এই কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা আসায় এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে বাস্তবায়নের এই কৌশল কীভাবে নির্ধারিত হয়।



